স্পেনের হাই-স্পিড ট্রেন দুর্ঘটনা: কী ঘটেছিল?

Anima Rakhi | আপডেট: ২০ জানুয়ারী ২০২৬ - ০৬:৫৪:৩৫ এএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দক্ষিণ স্পেনে রবিবার সন্ধ্যায় দুটি হাই-স্পিড ট্রেনের সংঘর্ষ ও লাইনচ্যুতির ঘটনায় অন্তত ৩৯ জন নিহত এবং ১২২ জন আহত হয়েছেন। সোজা রেলপথে এমন দুর্ঘটনাকে কর্মকর্তারা অস্বাভাবিক বলে বর্ণনা করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে একটি ভাঙা রেল জয়েন্টকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দুর্ঘটনাটি ঘটে সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় ১৮:৪৫), রাজধানী মাদ্রিদ থেকে প্রায় ৩৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে কর্দোবা প্রদেশের আদামুজ শহরের কাছে।

ঘটনায় জড়িত ছিল দুটি হাই-স্পিড ট্রেন। একটি বেসরকারি কনসোর্টিয়াম ইরিও পরিচালিত এবং অন্যটি স্পেনের রাষ্ট্রায়ত্ত রেল কোম্পানি রেনফে পরিচালিত আলভিয়া। মালাগা থেকে মাদ্রিদের পথে থাকা লাল রঙের ইরিও ট্রেনটির আটটি বগির মধ্যে শেষ দুটি লাইনচ্যুত হয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা আলভিয়া ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। এতে আলভিয়া ট্রেনের প্রথম দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে প্রায় পাঁচ মিটার গভীর ঢালে পড়ে যায়।

রেনফের প্রধান আলভারো ফার্নান্দেজ হেরেদিয়া জানান, প্রথম লাইনচ্যুতি ও সংঘর্ষের মধ্যে ব্যবধান ছিল মাত্র ২০ সেকেন্ড, যা স্বয়ংক্রিয় ব্রেকিং সিস্টেম সক্রিয় করার জন্য যথেষ্ট ছিল না। তিনি বলেন, মানবিক ভুলের সম্ভাবনা প্রায় বাতিল করা হয়েছে।

তার ভাষ্য, ‘এটি সম্ভবত ট্রেনের যান্ত্রিক অংশ বা অবকাঠামোগত কোনো ত্রুটির ফল। বিষয়টি তদন্তে সময় লাগবে।’

কর্মকর্তারা জানান, আলভিয়া ট্রেনটি সম্ভবত ইরিও ট্রেনের লাইনচ্যুত বগি বা নিচের অংশের ধ্বংসাবশেষে আঘাত পায়। দুর্ঘটনায় আলভিয়া ট্রেনের ২৭ বছর বয়সী চালক নিহত হন।

ইরিও ট্রেনে প্রায় ৩০০ যাত্রী ছিলেন এবং দুর্ঘটনার সময় এর গতি ছিল ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার। বিপরীত দিক থেকে আসা আলভিয়া ট্রেনটি ঘণ্টায় ২০৫ কিলোমিটার গতিতে চলছিল।

আলভিয়া ট্রেনের প্রথম বগিতে ৩৭ জন এবং দ্বিতীয় বগিতে ১৬ জন যাত্রী ছিলেন। নিহত ও আহতদের বেশিরভাগই এই দুটি বগির যাত্রী।

স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে জানান, ইরিও ট্রেনটির বয়স চার বছরেরও কম এবং রেলপথটি গত মে মাসে ৭০০ মিলিয়ন ইউরো ব্যয়ে সম্পূর্ণ সংস্কার করা হয়। ইরিও জানায়, ট্রেনটির সর্বশেষ পরিদর্শন করা হয়েছিল ১৫ জানুয়ারি।

পুয়েন্তে দুর্ঘটনাটিকেচরমভাবে অস্বাভাবিক বলে উল্লেখ করে বলেন, বিপরীত দিকের ট্রেনটি না থাকলে এই লাইনচ্যুতি থেকে সম্ভবত কোনো প্রাণহানি হতো না।

ভাঙা জয়েন্ট কি কারণ?
প্রাথমিক তদন্ত সম্পর্কে অবহিত একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, বিশেষজ্ঞরা একটি ভাঙা রেল জয়েন্ট খুঁজে পেয়েছেন, যা রেললাইনের অংশগুলোর মাঝে ফাঁক তৈরি করে দুর্ঘটনার মূল কারণ হতে পারে। তবে পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জয়েন্টটি দুর্ঘটনার ফলেই ভেঙেছে, আগে নয় এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত রেল অবকাঠামো সংস্থা এডিফ এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

রোড ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হোসে ত্রিগুয়েরোস বলেন, তার প্রাথমিক বিশ্লেষণে ইরিও ট্রেনের পেছনের ইউনিটগুলোর আন্ডারকারেজে ত্রুটির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স

অনিমা/২০ জানুয়ারী ২০২৬,/সকাল ৬:৫৪

▎সর্বশেষ

ad