
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সংবাদ সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো এক চিঠিতে ট্রাম্প বলেন, নরওয়ে তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না দেয়ায় আন্তর্জাতিক বিষয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এসেছে।
চিঠিতে ট্রাম্প লেখেন, ‘প্রিয় জোনাস: ৮টির বেশি যুদ্ধ বন্ধ করার পরও আপনার দেশ আমাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ায়, আমি আর কেবল শান্তির কথাই ভাবার বাধ্যবাধকতা অনুভব করি না। যদিও শান্তি সবসময়ই কেন্দ্রে থাকবে, তবে এখন আমি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কী ভালো ও যথাযথ, তা নিয়েও ভাবতে পারি।’
চিঠিটির বিষয়বস্তু প্রথম প্রকাশ করেন পিবিএস নিউজআওয়ারের পররাষ্ট্র-বিষয়ক সংবাদদাতা নিক শিফ্রিন। পরে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বিষয়টি নিশ্চিত করে। একই বার্তায় ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা ছাড়া দ্বীপটিকে রাশিয়া বা চীনের কাছ থেকে রক্ষা করা সম্ভব নয়।
তিনি লেখেন, ‘ডেনমার্ক এই ভূখণ্ডকে রাশিয়া বা চীনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে না… গ্রিনল্যান্ডের ওপর আমাদের সম্পূর্ণ ও পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না থাকলে বিশ্ব নিরাপদ নয়।’নরওয়ের সম্প্রচারমাধ্যম এনআরকে-কে স্টোর জানান, চিঠিটি তিনি এর আগে ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার স্টাবের সঙ্গে যৌথভাবে ট্রাম্পকে পাঠানো একটি বার্তার জবাবে পেয়েছেন। ওই বার্তায় নরওয়ে, ফিনল্যান্ড ও অন্যান্য দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনার বিরোধিতা করা হয়েছিল।
স্টোর বলেন, ‘আমরা উত্তেজনা কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, প্রেসিডেন্ট স্টাব ও আমার মধ্যে একটি ফোনালাপের অনুরোধ জানিয়েছি।’গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে নরওয়ের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে বলেও জানান তিনি।নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে ট্রাম্পের দাবিও প্রত্যাখ্যান করেন স্টোর। তিনি বলেন, এই পুরস্কার নরওয়ে সরকার নয়, স্বাধীন নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি দিয়ে থাকে।
পরে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে একই বক্তব্য পুনরাবৃত্তি করেন। তিনি লেখেন, আর্কটিক অঞ্চলে যে নিরাপত্তা হুমকি রয়েছে বলে তিনি দাবি করছেন, তা মোকাবিলার ‘এখনই সময়’।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
আয়শা/১৯ জানুয়ারী ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:২১






