ইউক্রেনে শব্দের চেয়ে দ্রুতগতির ‘ওরেশনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল রাশিয়া

Ayesha Siddika | আপডেট: ০৯ জানুয়ারী ২০২৬ - ০৮:২৬:৩৫ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সরকারি বাসভবনে ড্রোন হামলার জবাবে ইউক্রেনে শব্দের চেয়েও দ্রুতগতির ক্ষেপণাস্ত্র ‘ওরেশনিক’ নিক্ষেপ করেছে রুশ প্রতিরক্ষা বাহিনী। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।খবর রয়টার্স।

বিবৃতিতে জানানো হয়, শুক্রবার গভীর রাতে ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভ লক্ষ্য করে এই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এতে বলা হয়, ‘প্রেসিডেন্ট পুতিনের বাসভবনে ড্রোন হামলার জবাব হিসেবে গত রাতে ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।’

রাশিয়ার দাবি, ইউক্রেনের সামরিক ড্রোন নির্মাণ কারখানা এবং দেশটির মিলিটারি-ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্সকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে এবং তা সফল হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ওরেশনিক নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। ইউক্রেনের দুর্বৃত্ত সরকারের প্রতিটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।’

এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর রাশিয়ার উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় নভগোরোদ প্রদেশে অবস্থিত প্রেসিডেন্ট পুতিনের একটি সরকারি বাসভবন লক্ষ্য করে ইউক্রেনীয় বাহিনী ৯১টি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন নিক্ষেপ করে। তবে রুশ সেনাবাহিনী দাবি করে, মূল লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই সব ড্রোন প্রতিহত করা হয়।

এদিকে লভিভের মেয়র আন্দ্রিয়ে সাদোভয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, শহরের একটি ‘জটিল অবকাঠামো’ রুশ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তিনি জানাননি।

রাশিয়ার নতুন প্রজন্মের আলোচিত ক্ষেপণাস্ত্র ‘ওরেশনিক’ নামটি রুশ ভাষায় ‘হ্যাজেল গাছ’ বোঝায়। মাঝারি আকারের ঝোপালো এই গাছের গঠন ও বিস্ফোরণের ধরন ক্ষেপণাস্ত্রটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় এমন নামকরণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ওরেশনিক সর্বোচ্চ ৫ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। যদিও এটি আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র নয়, তবে এর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো গতি। শব্দের গতি যেখানে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩৩১ মিটার, সেখানে ওরেশনিকের গতি শব্দের চেয়ে ১১ গুণ বেশি বলে দাবি করছে রাশিয়া। তাদের মতে, বর্তমানে বিশ্বের কোনো এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমই এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম নয়।

এছাড়া ওরেশনিক সাধারণ বিস্ফোরকের পাশাপাশি পারমানবিক বিস্ফোরক বহন করতেও সক্ষম। ফলে প্রয়োজনে এটিকে পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রে রূপান্তর করা সম্ভব।

উল্লেখ্য, ইউক্রেনে এটি দ্বিতীয়বারের মতো ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করল রাশিয়া। এর আগে ২০২৪ সালের ২২ নভেম্বর প্রথমবার এই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল।

 

 

আয়শা/৯ জানুয়ারী ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:০৩

▎সর্বশেষ

ad