
নিউজ ডেক্স : ঘরোয়া ক্রিকেটে তিন ফরম্যাটের পারফর্মার শেখ মেহেদী হাসান। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খেলছেন কেবলই টি-২০। সমকালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেহেদী জানিয়েছেন, আপাতত টি-২০ ফরম্যাট নিয়ে থাকতে চান। টেস্টে নিজের তেমন সুযোগ দেখেন না তিনি। যদিও ওয়ানডে ফরম্যাট নিয়ে আছে আক্ষেপ। শুনেছেন সেকান্দার আলী এটা অনুশীলন করতে করতে হয়েছে। সবসময় ম্যাচ খেলার ভেতরে থাকি। ম্যাচ পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করি। ওটা করতে করতেই অভিজ্ঞতা হয়েছে। কষ্ট বলেন বা আক্ষেপ সবই আছে। অন্য ফরম্যাটে কেন সুযোগ পাচ্ছি না, যারা দল নির্বাচন করেন তারা ভালো বলতে পারবেন। নিজের কথা যদি বলি, আক্ষেপ অনেক আছে। আক্ষেপের শেষ নেই। ওয়ানডে বিশ্বকাপে সতীর্থদের সঙ্গে শেখ মেহেদীর উইকেট উদযাপন। ছবি: ক্রিকইনফো ওয়ানডে দলে আমার শেষ ম্যাচের পরে নিউজিল্যান্ড সিরিজ ছিল। ওই সিরিজের আগে বলা হয়েছিল- দলে একজন লেগ স্পিনার নেওয়া হচ্ছে, পরের সিরিজে আমি আবার থাকব। আমাকে এভাবে মিথ্যা আশ্বাস দেওয়ার দরকার ছিল না। আমি যখন খেলেছি, বাদ পড়ার মতো এতোটা খারাপও খেলিনি। ১১টা ওয়ানডের আটটাই খেলেছি দেশের বাইরে। ঘরের মাঠের উইকেট দেখে নিজেরই কষ্ট লাগে। মনে হয়, এই উইকেটে দশটা ম্যাচ খেললে আমার ক্যারিয়ার আরও ভালো হতে পারত। আমি এগুলো নিয়ে কারো সঙ্গে কথা বলি না। যার সময় হবে এমনিই খেলবে। আমাকে দরকার হলে অধিনায়ক, নির্বাচকরাও ডাকবে। আমার বলাতে কেউ আমাকে দলে নেবে না। দলে অনেকে আছেন যারা ভালো খেলুক বা খারাপ অন্তত এক ফরম্যাট সব সময় খেলেন। কিন্তু আমি এই খেলি তো এই খেলি না। দলের সমন্বয়ের কারণে বাদ পড়ি। একটা ম্যাচে উনিশ-বিশ খেললে পরের ম্যাচে বাদ দেওয়া হয়। আমার জন্য অনেক কঠিন। মুশফিক ভাই শততম টেস্টে সেঞ্চুরির পর বলছিলেন- এখন একটা ফরম্যাট খেলছি। ভালো সময়টায় পরপর কিছু ম্যাচ খেলতে পারলে ভালো হতো। মুশফিক ভাইয়ের মতো একজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের এমন আক্ষেপের কথা বলতে হচ্ছে। তাহলে আমার দিকটা চিন্তা করেন। আমি ভালো খেললেও তো একাদশে সমন্বয়ের কারণে বাদ যাই। খারাপ খেললে তো বাদই। আমার জায়গায় না থাকলে এটা কেউ বুঝবে না। বিপিএলে শেখ মেহেদীর ব্যাটিং। ছবি: ক্রিকইফো
খারাপ তো লাগে। খারাপ লাগবে না কেন। আপনি যেখানে চাকরি করেন, যদি আমার মতো এমন পরিস্থিতি হয়, এমন অনুভূতি হয় খারাপ লাগবে না? হয়তো এসবের পুরস্কার সামনে পাবো। টেস্ট খেলার স্বপ্ন অনেক ছিল। দিন দিন সরে যাচ্ছে। নাঈম হাসানের মতো বোলার শ্রীলঙ্কা সিরিজে সর্বাধিক উইকেট শিকার করেও আয়ারল্যান্ড সিরিজের দলে জায়গা পায়নি। আমার থেকে নাঈম অনেক ভালো বোলার। সেই ছেলেই সুযোগ পাচ্ছে না, আমার জন্য আরও কঠিন। ভালো করার শেষ নেই। আবার চাইলেও সব সময় ভালো করতে পারবেন না। তবে প্রসেসটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিপিএল ভালো যাক, খারাপ যাক; প্রসেস ঠিক থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ। আমি, আপনি তো মানুষ, মেশিন না যে চাপ দিলে সব হয়ে যাবে।
সাকিব ভাইয়ের ওটা ব্যক্তিগত অর্জন ছিল। আমরা এখন পর্যন্ত যত বিশ্বকাপ খেলেছি, তিনটার বেশি ম্যাচ জিততে পারিনি। এবার সবাই ফিট থাকলে, সব ঠিক থাকলে আমার স্বপ্ন অন্তত চারটা ম্যাচ হলেও জেতা। টি-২০ ক্রিকেটে সব দলই মোটামুটি সমান। কম ওভারের খেলা কঠিন হয়। ওয়ানডে ও টেস্ট ক্রিকেটে পরিকল্পনা করে খেলার সময় পাওয়া যায়। টি-২০তে সকলেই মুডে থাকে। যেকোন সময় যা কিছু যা হয়ে যেতে পারে। খুলনায় গ্রামের বাড়িতে শেখ মেহেদীর অবসর যাপন। ছবি: মেহেদীর ফেসবুক থেকে নেওয়া আমার মনে হয়, ইতালিকে অচেনা হিসেবে না নেওয়া ভালো। তাদের দলে স্থানীয় তেমন কেউ নেই। সবাই বাইরের খেলোয়াড়। এসব দল আরও ভয়ঙ্কর হয়। যুক্তরাষ্ট্র যেমন ধার করা ক্রিকেটার নিয়ে ভালো দল হয়ে গেছে।
পড়তে হতে পারে না, প্রতিটি দলের বিপক্ষে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তেই হবে। চ্যালেঞ্জ ছাড়া বিশ্বকাপ হয় না। দ্বিপাক্ষিক সিরিজে সবাই ভালো টাচে ছিল। তবে বিশ্বকাপে ভালো খেলতে হলে দু-চারজন পারফর্ম করলে তেমন কিছু আশা করতে পারবেন না। বিশ্বকাপে অন্তত নয়জনের ভালো খেলতে হবে। তখন রেজাল্ট আসবে। সবাই যেন মোমেন্টাম ধরে রেখে খেলতে পারে সেই প্রত্যাশা করছি। আমার মনে হয় এটা ভালো হবে। আমি ভাবছিলাম, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কলম্বোর প্রেমাদাসায় ম্যাচ পড়বে। কলকাতাও ভালো। এখন যেমন উইকেট আছে, ওমন থাকলে ভালো কিছু আশা করা যায়। যদিও ইংল্যান্ডের ওরা আইপিএল খেলে। ভারতের সব উইকেট সম্পর্কে তাদের ধারণা আছে। ওরা স্বাভাবিকভাবেই এগিয়ে থাকবে। আর ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে মুস্তাফিজ ছাড়া আমরা বাকিরা শিশু। আমাদের আরও বেশি খেলোয়াড় সুযোগ পেলে ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়া, নার্ভ ধরে রাখার ক্ষেত্রে বড় ইভেন্টে কাজে দিত।
কুইক টি ভি/মহন/ ১০ ডিসেম্বর ২০২৫,/বিকাল ৫:১৭






