দারাজ ১১.১১: যেভাবে দেশের বৃহত্তম সেল ই-কমার্সের ভবিষ্যতকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করছে

Ayesha Siddika | আপডেট: ২০ নভেম্বর ২০২৫ - ১০:২৫:৩৭ পিএম

ডেস্ক নিউজ : ১১ নভেম্বর সকালে প্রথম ডেলিভারি পৌঁছে গেছে ভোর ৭টার মধ্যেই, ৬৪ জেলার সর্বমোট কাভারেজের ওপর দাঁড়িয়ে এ অর্জন দেশের ডিজিটাল কমার্স যাত্রায় নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। ১০ নভেম্বর রাত ৮টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে লাখো মানুষ দারাজ অ্যাপে লগইন করেন, শুরু হয় বছরের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত শপিং ইভেন্ট- দারাজ ১১.১১।

চমকপ্রদ ছাড়, ফ্ল্যাশ সেল আর রেকর্ডসংখ্যক অর্ডারের পেছনে লুকিয়ে আছে দেশের ই-কমার্স খাতের এক বিস্ময়কর প্রস্তুতি, অপারেশনাল সক্ষমতা, প্রযুক্তিনির্ভর সমন্বয় এবং এমন একটি ভিশন যা বাংলাদেশে অনলাইন শপিংয়ের ভবিষ্যৎকে এক নতুন দিগন্তে নিয়ে যাচ্ছে। এবারের ১১.১১ কেবল কেনাকাটার উৎসব ছিল না; বরং এটি দেখিয়েছে বাংলাদেশের ই-কমার্স কতটা পরিপক্ব হয়েছে এবং আগামী দিনের ডিজিটাল ইকোসিস্টেম কোন দিকে এগোচ্ছে। দেশজুড়ে ৬৪ জেলার কাভারেজ নিশ্চিত করতে দারাজ পরিচালনা করে ৬৫টি হাব, ১০০-এর বেশি কালেকশন পয়েন্ট এবং ২,৫০০-এর বেশি রাইডারের বিশাল নেটওয়ার্ক। ক্যাম্পেইন চলাকালে এই নেটওয়ার্ক ২৪ ঘণ্টায় কাজ করে, যাতে রাত গভীরের অর্ডারও কয়েক ঘণ্টা বা দিনের মধ্যেই ক্রেতার হাতে পৌঁছে যায়।

এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ পাওয়া যায় ১১ নভেম্বর সকালেই যেদিন দারাজ এক্সপ্রেস প্রথম ডেলিভারি সকাল ৭টার আগেই সম্পন্ন করে। এটি শুধু লজিস্টিকসের সাফল্য নয়; বরং দ্রুততা, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং গ্রাহককেন্দ্রিক সেবার একটি প্রতীক যা আধুনিক ই-কমার্সের মেরুদণ্ড। দারাজ বাংলাদেশের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার এএইচএম হাসিনুল কুদ্দুস (রুশো) বলেন, “আমাদের নেটওয়ার্ক শুধু প্যাকেজ পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে না। এটি এমন একটি ইকোসিস্টেম তৈরি করছে যেখানে যশোরের বিক্রেতা সিলেটের ক্রেতার কাছে ৪৮ ঘণ্টায় পণ্য পাঠাতে পারেন, যেখানে প্রথমবার অনলাইনে কেনাকাটা করা মানুষ ঢাকার গ্রাহকের মতোই নিরাপদ অনুভব করেন, এবং যেখানে বিক্রেতা থেকে ডেলিভারি রাইডার সবাই মিলে একটি অভিন্ন অভিজ্ঞতা তৈরি করে।”

প্রথম তিন দিনের বিক্রি বিশ্লেষণেও স্পষ্ট- দেশের শপিং অভ্যাস দ্রুত বদলাচ্ছে। এ বছর সর্বোচ্চ বিক্রি হয়েছে ইলেকট্রনিকসে, বিশেষত ওয়াশিং মেশিন, গিজার, টিভি, গেমিং গিয়ার ও ওয়্যারেবলসের মতো হোম অ্যাপ্লায়েন্স ও এন্টারটেইনমেন্ট পণ্যে। এর পরেই ছিল এফএমসিজি যেখানে আছে নিভিয়া ময়েশ্চারাইজার থেকে চিনিগুঁড়া চালের মতো প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় পণ্য। এটি দেখায়, মানুষ এখন বড় খরচের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারও অনলাইনে কিনতে প্রাধান্য দিচ্ছেন।

লাইফস্টাইল বিভাগে অফিস চেয়ার ও কমফোর্টারের বিস্ময়কর উত্থান চোখে পড়ে। বাসা থেকে কাজের সংস্কৃতি, আরামদায়ক হোম সেটআপের চাহিদা এবং দৈনন্দিন জীবনকে আরও সুবিধাজনক করার প্রবণতা সবকিছু মিলিয়েই এই পরিবর্তন স্পষ্ট। ফ্যাশন ক্যাটাগরিও পিছিয়ে ছিল না। অ্যাডিডাস জুতো, ঘড়ি এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডেড অ্যাকসেসরিজ দেখিয়েছে মানুষ এখন আগের তুলনায় বেশি ব্র্যান্ড-সচেতন এবং অনলাইনে প্রিমিয়াম পণ্য কেনায় আত্মবিশ্বাসী। ক্যাম্পেইনে সেরা পারফর্ম করা ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে ছিল হায়ার, রিয়েলমি, মিডিয়া, ওয়ালটন, লোটো ও রিগাল ফার্নিচার। ইলেকট্রনিকসে হায়ার, ফ্যাশনে বাটা, এফএমসিজিতে ন্যাচারা কেয়ার এবং লাইফস্টাইলে লোটো শীর্ষে ছিল।

ই-কমার্সে আস্থার সবচেয়ে বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে দারাজমল। শতাধিক ব্র্যান্ড, লাখো ভেরিফায়েড পণ্যের সমন্বয়ে তৈরি এই চ্যানেল গ্রাহকদের দিয়েছে অথেনটিক পণ্যের নিশ্চয়তা। সম্প্রতি চালু হওয়া ‘৩ গুণ ক্যাশব্যাক’ ভিত্তিক অ্যাথেনটিসিটি গ্যারান্টি অনলাইনে নকল পণ্যের শঙ্কা দূর করে আস্থা আরও দৃঢ় করেছে। দ্রুত দুই দিনের ডেলিভারি, ১৪ দিনের ঝামেলামুক্ত রিটার্ন সুবিধা সব মিলিয়ে দারাজমল অফলাইন দোকানের অভিজ্ঞতাকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ব্র্যান্ডগুলোর জন্য দারাজমল ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রোথ ইঞ্জিন। আর্লি বার্ড প্রোগ্রাম, ফ্ল্যাশ সেল, ফ্রি শিপিং ভাউচার এবং এআই-চালিত দারাজ মার্কেটিং সল্যুশনস (ডিএমএস) তাদের দৃশ্যমানতা ও বিক্রি উভয়ই বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মোট বিক্রয়ের ২৫ শতাংশ এসেছে নতুন ক্রেতাদের কাছ থেকে যা ই-কমার্সে নতুন আস্থার বার্তা দেয়। সর্বোচ্চ অর্ডারের দুটি সময়- ১০ নভেম্বর রাত ৮টা এবং ১১ নভেম্বর দুপুর ৩টা, দেখায় কর্মজীবী মানুষ থেকে শুরু করে গৃহিণী ও শিক্ষার্থী সবাই তাদের সুবিধামতো সময়ে যুক্ত হয়েছেন। ডিজিটাল পেমেন্টেও এসেছে বড় পরিবর্তন। মোট বিক্রয়ের অর্ধেকের বেশি হয়েছে ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে। বিকাশ, নগদ ও বড় ব্যাংকগুলোর আকর্ষণীয় ডিসকাউন্ট গ্রাহকদের ক্যাশলেস পেমেন্টে উৎসাহ দিয়েছে। ০% ইএমআই সুবিধা বড় পণ্য কেনাকাটা আরও সহজ করেছে।

ক্যাম্পেইনের সাফল্যের পেছনে ছিল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারদের বিশাল ভূমিকা যারা মোট বিক্রয়ের ২০ শতাংশের বেশি কনভার্ট করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়া ভিত্তিক গ্রুপ অ্যাডমিন, কনটেন্ট ক্রিয়েটর, ইউটিউবার, ইনস্টাগ্রামার- সবাই মিলে হাজারো ক্রেতাকে সঠিক পণ্য ও সঠিক সময়ে অফার সম্পর্কে জানিয়ে দারাজের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। ৬০ শতাংশের বেশি ক্রেতা ভাউচার ব্যবহার করেছেন যা দেখায় প্ল্যাটফর্ম সম্পর্কে সচেতনতা ও মূল্যসচেতনতার এক নতুন মাত্রা। অর্ধেকের বেশি ক্রেতা নিয়েছেন ফ্রি ডেলিভারি সুবিধা। ১ টাকা গেম-এ অংশ নিয়ে অনেকেই রয়্যাল এনফিল্ড হান্টার মোটরবাইক, শ্রীলংকা ভ্রমণ কিংবা ই-বাইকের মতো পুরস্কারের প্রতিযোগিতায় যুক্ত হয়েছেন।

দারাজ ১১.১১ যে শুধু দেশের সবচেয়ে বড় সেল নয়, বরং ই-কমার্সের সামগ্রিক ভবিষ্যৎকে ধরে রাখার এক নির্দেশনা তা প্রমাণ করে এইসব তথ্য। বিস্তৃত লজিস্টিকস নেটওয়ার্ক, দারাজমলের অ্যাথেনটিসিটি গ্যারান্টির মতো উদ্যোগে ভোক্তার আস্থা বৃদ্ধি, ডিজিটাল পেমেন্টের উত্থান এবং বিক্রেতা ও অ্যাফিলিয়েটদের ক্ষমতায়ন, সব মিলিয়ে ভবিষ্যতে অনলাইন শপিংই হয়ে উঠবে মানুষের প্রথম পছন্দ।

রুশো বলেন, “প্রতিটি ১১.১১ একটি মাইলফলক, কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ এটি আমাদের পরবর্তী ধাপের প্রস্তুতি। রংপুরের উদ্যোক্তা যখন চট্টগ্রামের ক্রেতার কাছে সহজে পণ্য পাঠাতে পারেন, খুলনার প্রথমবার অনলাইন ক্রেতা যখন নিশ্চিন্তে ব্র্যান্ডেড পণ্য হাতে পান, কিংবা আমাদের রাইডাররা যখন প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও ৬৪ জেলায় দোরগোড়ায় পণ্য পৌঁছে দেয়- তখনই আমরা বুঝি, আমরা আমাদের লক্ষ্য পূরণের পথে।”

দারাজ ১১.১১ কেবল একটি সেল নয়; এটি বাংলাদেশের ডিজিটাল কমার্সের সক্ষমতা, সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা দেয়। প্রতিটি অর্ডার, প্রতিটি নতুন ক্রেতা, প্রতিটি বিক্রেতা সবাই মিলে গড়ে তুলছে এমন এক ভবিষ্যৎ যেখানে অনলাইন শপিং হবে আরও সহজলভ্য, আরও বিশ্বাসযোগ্য এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক। ক্যাম্পেইনের অফার পাওয়া যাচ্ছে নভেম্বর মাসজুড়ে। যারা এখনো কেনাকাটা করেননি, তাদের জন্য এখনও সুযোগ আছে- কারণ বছরের বিশেষ ছুটির মতো এই উৎসব আসে মাত্র একবারই।

 

 

আয়শা/২০ নভেম্বর ২০২৫,/রাত ১০:২২

▎সর্বশেষ

ad