ডেস্ক নিউজ : মুফতি আবদুল্লাহ তামিম
আজানের জবাব কীভাবে দিবো
মুয়াজ্জিন প্রত্যেকটি বাক্য বলে থামার পর শ্রোতা ওই বাক্যটি নিজেও অনুরূপভাবে বলবে। কিন্তু মুয়াজ্জিন যখন ‘হাইয়্যা আলাস সালাহ’ ও ‘হাইয়্যা আলাল ফালাহ’ বলার সময় শ্রোতা ‘লা হাওলা ওয়া লা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ বলবে। এটাই বিশুদ্ধ অভিমত। (মুসলিম ৩৮৫) তবে কোনো কোনো বর্ণনায় ‘হাইয়্যা আলাস সালাহ’ ও ‘হাইয়্যা আলাল ফালাহ’ বলার সময়ও মুয়াজ্জিনের অনুরূপ বলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। (কিতাবুদ দোয়া, তাবারানি, হাদিস : ৪৫৮)
আজানের উত্তর দেয়া সুন্নত। আজান শ্রবণকারী মৌখিকভাবে জবাব দিবে। রসুলুল্লাহ সা. বলেন, ‘যখন তোমরা আজান শুনবে, এর জবাবে মুয়াজ্জিনের অনুরূপ তোমরাও বলবে। আজানের জবাব দেওয়ার পদ্ধতি হলো, মুয়াজ্জিন প্রত্যেকটি বাক্য বলে থামার পর শ্রোতা ওই বাক্যটি নিজেও অনুরূপভাবে বলবে। যেমন মুয়াজ্জিন যখন বলবে ‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার’ শ্রোতাও এটাই বলবে, ‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার’।
আজানের জবাব দেওয়ার ফজিলত
হযরত আবু হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত, মহনবী সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে মুয়াজ্জিন যা বলে তাই বলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (সুনানে আন-নাসাঈ)। এছাড়া, মহানবী সা. আরও বলেছেন, যখন তোমরা আযান শুনবে, এর জবাবে তোমরাও মুয়াজ্জিনের অনুরূপ বলবে। (বুখারি)।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ. আবদুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান আনসারী রহ. হতে বর্ণিত, আবু সায়িদ খুদরি রা. তাকে বলেন, আমি দেখেছি তুমি বকরি চরানো, বন জঙ্গলকে ভালোবাসো, নামাজের জন্য আজান দাও। তখন উচ্চকণ্ঠে আজান দাও। কেননা জিন, ইনসান বা যেকোনো বস্তু যতদূর পর্যন্ত মুয়াজ্জিনের আজান শুনবে, সে কিয়ামতের দিন তার পক্ষে সাক্ষ্য দেবে। তখন আবু সায়িদ রা. বলেন, এ কথা আমি মহানবী সা. এর কাছে শুনেছি। (বুখারি)।
যত ব্যস্ততাই থাকুক, আজান শুনলে সুন্নত পালনার্থে আজানের জবাব দেয়ার চেষ্টা করা কর্তব্য। এ ক্ষেত্রে অলসতা করা উচিত নয়। কেউ যদি জবাব দেয় তাহলে সে সুন্নতের উপর আমল করার কারণে সওয়াব পাবে কিন্তু না দিলে কোনও গুনাহ নেই। তবে জবাব দেয়ার সাথে সালাত শুদ্ধ হওয়ার কোনও সম্পর্ক নাই। কেননা আজানের জবাব দেয়া এবং সালাত প্রত্যেকটি স্বতন্ত্র আমল। একটি অপরটির উপর নির্ভরশীল নয়। সুতরাং কেউ যদি আজানের জবাব না দেয় তাতেও সালাতের কোনও ক্ষতি হবে না।
আজানের জবাব ও দোয়া
আজানের পর রাসুল সা. একটি দোয়া পড়তে বলেছেন। দোয়া পাঠের অনেক ফজিলতও তিনি বর্ণনা করেছেন। اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ، وَالصَّلاَةِ الْقَائِمَةِ، آتِ مُحَمَّداً الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ، وَابْعَثْهُ مَقَامَاً مَحمُوداً الَّذِي وَعَدْتَهُ উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা রববা হাজিহিদ দাওয়াতিত তাম্মাহ, ওয়াস সালাতিল কাইমাহ, আতি মুহাম্মাদানিল ওয়াসিলাতা ওয়াল ফাদিলাহ, ওয়াবআছহু মাকামাম মাহমুদানিল্লাজি ওয়াআদতাহ।
আজানের দোয়া
আজানের পর রাসুল সা. একটি দোয়া পড়তে বলেছেন। দোয়া পাঠের অনেক ফজিলতও তিনি বর্ণনা করেছেন। اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ، وَالصَّلاَةِ الْقَائِمَةِ، آتِ مُحَمَّداً الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ، وَابْعَثْهُ مَقَامَاً مَحمُوداً الَّذِي وَعَدْتَهُ উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা রববা হাজিহিদ দাওয়াতিত তাম্মাহ, ওয়াস সালাতিল কাইমাহ, আতি মুহাম্মাদানিল ওয়াসিলাতা ওয়াল ফাদিলাহ, ওয়াবআছহু মাকামাম মাহমুদানিল্লাজি ওয়াআদতাহ।
আজানের দোয়া পাঠের ফজিলত
আজানের দোয়া পাঠের অনেক ফজিলত রাসুল সা. বর্ণনা করেছেন। হজরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সা. বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আজান শুনে উল্লিখিত দোয়া পড়বে কিয়ামতের দিন তার জন্য আমার সুপারিশ থাকবে।’ (বুখারি ৬১৪)
কিউটিভি/আয়শা/০৪ ডিসেম্বর ২০২৩,/বিকাল ৪:৫০
