
বিনোদন ডেস্ক : ঢালিউড অভিনেতা জায়েদ খান ঢালিপাড়ার অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত অভিনেতা। তিনি অভিনয়ের চেয়ে ব্যক্তিগত ও সামাজিক মাধ্যমে নানা কর্মকাণ্ডের (ডিগবাজি দেওয়া) জন্য বেশ আলোচনায় থাকেন। আর বিনোদন জগতের তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ভক্ত-অনুরাগীদের কৌতূহল থাকে বরাবরই। এবার প্রবাস জীবনে থেকেও রমজানে তার অনুভূতির জানালেন।
এ অভিনেতা বলেন, এখানে সময়, পরিবেশ ও মানুষ— সবকিছুই আলাদা। তবু নিজের ভেতরে একটা চেষ্টা অনুভব করলাম যে রোজা রাখতেই হবে। এ অনুভূতিটা একজন মুসলিম হিসেবে দারুন লেগেছে আমার কাছে। আর এখানে বাংলাদেশের একদিন আগেই শুরু হয়েছে রমজান। কারণ এরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিলিয়ে রোজা রাখে। দোয়া চাই, যেন দেশের মতোই রমজানকে ধারণ করতে পারি।
এখন তো মনে হয় ভোর রাত। সেহরি কি শেষ? উত্তরে জায়েদ খান বলেন, না, সেহরির প্রস্তুতি নিচ্ছি। একটু পরেই খাব। দেশে থাকলে এই সময়টাতে বাসায় একটা অন্যরকম আমেজ থাকত। মায়ের হাতের নানা পদের রান্নার সুগন্ধ, ভাই-বোনদের ঘুম ঘুম মুখ, আজানের অপেক্ষা… এখানে সেই কোলাহল নেই। নেই মাইকে ডেকে দেওয়ার শব্দ। চারপাশটা অনেক বেশি শান্ত। ভেতরে ভেতরে একটা শূন্যতাও কাজ করে।
তাহলে দেশকে খুবই তো মিস করছেন। তিনি বলেন, খুব… বাংলাদেশে থাকলে রোজার যে আলাদা একটা ফিলিংস পেতাম, সেই আবহটা এখানে পাই না। ভাই-বোনদের খুব মিস করি। সহকর্মীদেরও মিস করি। দেশে থাকলে বিভিন্ন জায়গায় ইফতার পার্টিতে যেতাম। আর ঢাকায় থাকলে চেষ্টা করতাম বাসায় ইফতার করতে।
এ অভিনেতা বলেন, সবার সঙ্গে একসঙ্গে বসে ইফতার করতে ভীষণ ভালো লাগত। বাসার রান্নার স্বাদটাই আলাদা। বাইরে খাবার তেমন ভালো লাগে না। সবসময়ই খাবার নিয়ে একটু সচেতন ছিলাম আমি। আমেরিকায় সেই ধর্মীয় আবহটা তেমন বোঝা যায় না। ইফতারের সময় টুপি পরে বের হওয়া, সময়মতো মাইকে আজানের ডাক শোনা। মায়ের হাতে বানানো ইফতার। আর ইফতারের পর বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, মহল্লার সবার সঙ্গে মসজিদে তারাবির নামাজ— এসব ছাড়া আমেরিকার রোজা যেন সত্যি বিষাদে মোড়ানো।
প্রথম রোজা রাখার স্মৃতি মনে পড়া প্রসঙ্গে জায়েদ খান বলেন, প্রথম রোজা রাখার স্মৃতি আজও স্পষ্ট মনে আছে। তখন খুব ছোট, তিন ভাই-বোনের মধ্যে আমি ছিলাম সবার ছোট। বড়দের দেখে আমিও জেদ ধরলাম-আমাকেও রোজা রাখতে হবে। বড়রা বলছিল— ‘তুই পারবি না’। কিন্তু আমি তো নাছোড়বান্দা! জোর করেই সেহরি খেয়ে রোজা শুরু করলাম।
তিনি বলেন, সকালটা কোনোভাবে কেটে গেলেও দুপুরের পর থেকেই কষ্টটা বাড়তে লাগল। বিকালের দিকে তো অবস্থা আরও খারাপ। ক্ষুধা আর তৃষ্ণায় ফ্লোরে গড়াগড়ি খেতে শুরু করলাম। সবাই হাসছিল, আর আম্মা মায়া মেশানো হাসিতে বললেন, ‘আচ্ছা, খেয়ে ফেলো। রোজা হয়েছে।’ আম্মা বলার পর আর দেরি করিনি। দৌড়ে গিয়ে খেয়ে ফেলেছিলাম। সেই অসমাপ্ত রোজাটাই আজ সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে। কারণ সেটার ভেতরেই ছিল ছোটবেলার জেদ, সরলতা আর পরিবারের ভালোবাসা।
শৈশব আর বর্তমান সময়ের রোজার মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে কিনা—এমন প্রশ্নের উত্তরে জায়েদ খান বলেন, শৈশবে রোজা মানে লুকিয়ে খেয়ে ফেলা। মনে হতো, লুকিয়ে খেলে কেউ দেখবে না। রোজা ঠিক হয়ে যাবে। তখন রোজা ছিল যেন একটা নিয়ম মানার চেষ্টা, কিন্তু তার গভীরতা বুঝতাম না।
তিনি বলেন, কিন্তু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উপলব্ধিটা বদলে গেছে। এখন বুঝেছি— রোজা শুধু না খেয়ে থাকা নয়। এটা আল্লাহকে ভয় করা, অন্তর থেকে তার সন্তুষ্টি চাওয়া। সত্যিকারের রোজা হলো নিজের ভেতরের নিয়ন্ত্রণ, তাকওয়া আর আন্তরিকতা। কেউ না দেখলেও আল্লাহ দেখছেন— এই বিশ্বাস থেকেই রোজা পূর্ণতা পায় বলে জানান এ অভিনেতা।
জায়েদ খান বলেন, যদি আরও সহজ করে বলি— শৈশবের রোজা ছিল অভ্যাসের, এই সময়ের রোজা হলো সচেতনতার। এখন নিজে বুঝতে শিখেছি, ধর্মটা কেবল পালন করার বিষয় নয়-অনুভব করারও বিষয়। রোজাটা আসলে কীভাবে ঠিকভাবে রাখতে হয়, কেন রাখতে হয়; সেটি ধীরে ধীরে জানছি, শিখছি, আর মানার চেষ্টা করছি।
শৈশব-কৈশোরের ইফতার ও সেহরি নিয়ে অনেক স্মৃতি নস্টালজিক করে অনেককে৷ আপনারও কোনো মজার স্মৃতি আছে নিশ্চয়ই?—এমন প্রশ্নের উত্তরে জায়েদ খান বলেন, রমজান এলেই বন্ধুদের সঙ্গে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়তাম পিরোজপুরের বাজারের দিকে। ইফতারের জন্য তরমুজ, ফল আর টুকটাক যা পাওয়া যায় সব কিনে আনতে যেতাম। তখন মফস্বল শহরে ফ্রিজ ছিল না বললেই চলে। তাই গরমের দিনে ঠান্ডা শরবতের স্বাদ পেতে আইসক্রিম ফ্যাক্টরি থেকে পলিথিনে করে বরফ কিনে সাইকেলে করে বাড়ি ফিরতাম। সেই বরফ গলতে গলতেই যেন ছড়িয়ে পড়ত রোজার বিকালের অন্যরকম উত্তেজনা।
তরমুজটা মিষ্টি কিনা, সেটাও ছিল আলাদা টেনশন। পথে এক বড় ভাই থাকতেন, তিনি একটু খেয়ে ‘চেক’ করে দিতেন-ভালো হয়েছে কিনা! এই ছোট ছোট ঘটনাগুলোই আজও আমার কাছে অমূল্য স্মৃতি। সারাদিন নামাজ পড়তে না গেলেও তারাবির নামাজ পড়তে মসজিদে ছুটে যেতাম বলে জানান এ অভিনেতা। তিনি বলেন, এমনও হয়েছে, খুব উত্তেজনা নিয়ে তারাবির নামাজ পড়তে গিয়ে মাত্র দুই-চার রাকাত পড়েই বন্ধুদের সঙ্গে চুপিসারে বেরিয়ে পড়েছি। নামাজের মাহাত্ম্যটা তো তখন বুঝতাম না। এমনকি আমরা পড়াশোনা থেকে বাঁচতে নামাজের কথা বলে আড্ডা মারতাম বন্ধুরা মিলে।
আয়শা/২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/রাত ৯:৩০






