
লাইফ ষ্টাইল ডেস্ক : শীতের সময় শরীরকে শক্তি ও উষ্ণতা দিতে বিশেষ কিছু খাবার খাওয়া জরুরি। এই সময় বাদাম, গুড় ও তিল খেলে ঠান্ডা সহ্য করা সহজ হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও শক্তিশালী হয়।
ঠান্ডায় শরীরকে নিজেকে গরম রাখার জন্য বেশি শক্তি লাগে। এছাড়া সর্দি-কাশি ও অন্যান্য ঋতুবিষয়ক রোগ থেকে বাঁচতে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখতে হয়। তাই শীতকালে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও খনিজযুক্ত খাবার বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বাদাম: শক্তি ও প্রোটিনের উৎস
বাদামে প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন ই ও স্বাস্থ্যকর চর্বি থাকে। এটি দীর্ঘসময় শক্তি দেয়, ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং দুর্বলতা কমায়। শীতে ভাজা বাদাম খাওয়া ভালো, এছাড়া সালাদ বা চাটনিতেও ব্যবহার করা যায়।
গুড়: প্রাকৃতিক মিষ্টি ও আয়রনের উৎস
গুড়ে আয়রন, পটাশিয়াম ও অন্যান্য খনিজ থাকে, যা রক্ত স্বল্পতা প্রতিরোধ করে এবং শক্তি বাড়ায়। শীতে গুড় খেলে শরীর উষ্ণ থাকে এবং হজম ভালো হয়। বাদাম বা তিলের সঙ্গে মিশিয়ে মিষ্টি বা লাড্ডু বানানো যায়।
তিল: হাড় ও ত্বকের জন্য উপকারী
তিলে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, জিঙ্ক ও স্বাস্থ্যকর তেল থাকে। এটি হাড় মজবুত করে, ত্বকের শুষ্কতা কমায় এবং শরীরকে ভিতর থেকে গরম রাখে। শীতে তিলের লাড্ডু বা চিঁড়া খাওয়া জনপ্রিয়। তিলের তেল দিয়ে মালিশ করলে রক্ত সঞ্চালনও ভালো হয়।
তিনটি একসাথে খাওয়ার সুবিধা
বাদাম, গুড় ও তিল একসঙ্গে খেলে উপকার গুণিতকভাবে বাড়ে। এটি শরীরকে দ্রুত শক্তি দেয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শীতে সক্রিয় রাখে। তাই শীতকালে গাজক, চিঁড়া ও লাড্ডু খুব জনপ্রিয়।
চিনির বিকল্প যেসব প্রাকৃতিক মিষ্টি স্বাস্থ্যসম্মত
- সকালের নাস্তায় ছোট পরিমাণ বাদাম ও গুড় খেতে পারেন।
- তিলের দানা খিচুড়ি, সালাদ বা রুটিতে ছড়িয়ে ব্যবহার করতে পারেন।
- বাড়িতে তৈরি বাদাম-তিল লাড্ডু বা চিঁড়া শিশু ও বড়দের জন্য স্বাস্থ্যকর।
সতর্কতার বিষয়
- ডায়াবেটিস রোগীদের গুড় সীমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।
- বাদাম অ্যালার্জি থাকলে না খাওয়াই ভালো।
- তিল অতিরিক্ত খেলে হজমে সমস্যা হতে পারে।
শীতকালে বাদাম, গুড় ও তিল খেলে শরীরকে শক্তি, উষ্ণতা ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়া যায়। সঠিক পরিমাণে খেলে শরীর সুস্থ থাকে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
আয়শা/২৬ জানুয়ারী ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:০০



