যেসব নির্দেশনা আল্লাহর পথে ফিরে আসার শেষ ডাক

Ayesha Siddika | আপডেট: ২৬ জানুয়ারী ২০২৬ - ০৬:৩৪:৩৪ পিএম

ডেস্ক নিউজ : চোখের পলকে হারিয়ে যাচ্ছে সপ্তাহ, মাস, বছর। অথচ মালিকের দরবারে পেশ করার মতো নেক আমল আজো শূন্যের কোঠায়। হায়াতের এই দ্রুত ধাবন যেন রবের পক্ষ থেকে এক সতর্কবার্তা—আমাদের আয়ু ফুরিয়ে আসছে এবং পরকালের সেই অনিবার্য যাত্রা সন্নিকটে। রবের দিকে যাত্রার এ সময়ে আমাদের জন্য যে সতর্কবার্তা মেনে চলা জরুরি, তার কিছু দিকনির্দেশনা তুলে ধরছি—

সময়: আল্লাহর অমূল্য নেয়ামত

মানুষের হাতে সবচেয়ে মূল্যবান যে সম্পদটি রয়েছে, তা হলো সময়। অথচ এই সময়ই সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। সময়ের এই ক্ষতি থেকে মুক্ত থাকে কেবল তারাই, যারা ঈমান আনে, নেক আমল করে, সত্যের উপদেশ দেয় এবং ধৈর্যের শিক্ষা দেয়। আল্লাহ তাআলা সময়ের গুরুত্ব বোঝাতে কুরআনে শপথ করেছেন—

وَالْعَصْرِ ۝ إِنَّ الْإِنسَانَ لَفِي خُسْرٍ

‘শপথ সময়ের! নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে।’ (সুরা আল-আসর: আয়াত ১–২)

দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী, আখিরাত চিরস্থায়ী

আমরা অনেক সময় দুনিয়ার মোহে আখিরাতকে ভুলে যাই। এই দুনিয়া কোনো স্থায়ী আবাস নয়, বরং এটি পরীক্ষার স্থান। আল্লাহ স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন—

كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ

‘প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।’ (সুরা আল-ইমরান: আয়াত ১৮৫)

وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ

‘দুনিয়ার জীবন তো প্রতারণার সামান্য উপকরণ ছাড়া কিছুই নয়।’ (সুরা আল-হাদিদ: আয়াত ২০)

অবহেলিত দুই নিয়ামত

আজ আমাদের সুস্থতা আছে, সময় আছে; কিন্তু নেক আমলের তৃষ্ণা নেই। অথচ একদিন এমন সময় আসবে, যখন আর ফিরে আসার সুযোগ থাকবে না। রাসুলুল্লাহ সময়ের অপচয় সম্পর্কে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন—

نِعْمَتَانِ مَغْبُونٌ فِيهِمَا كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ: الصِّحَّةُ وَالْفَرَاغُ

‘দুটি নিয়ামত আছে, যেগুলোর ব্যাপারে অধিকাংশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত— সুস্থতা ও অবসর সময়।’ (বুখারি ৬৪১২)

মৃত্যুর আগে তাওবার ডাক

মানুষ মৃত্যুর মুহূর্তে আফসোস করবে—কিন্তু তখন আর কিছু করার থাকবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন—

رَبِّ لَوْلَا أَخَّرْتَنِي إِلَىٰ أَجَلٍ قَرِيبٍ فَأَصَّدَّقَ وَأَكُن مِّنَ الصَّالِحِينَ

‘হে আমার রব! তুমি যদি আমাকে আর একটু সময় দিতে, তবে আমি সদকা করতাম এবং সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।’ (সুরা আল-মুনাফিকুন: আয়াত ১০)

কিন্তু আল্লাহ জানান—

وَلَن يُؤَخِّرَ اللَّهُ نَفْسًا إِذَا جَاءَ أَجَلُهَا

‘যখন কারও নির্ধারিত সময় এসে যায়, তখন আল্লাহ আর এক মুহূর্তও বিলম্ব করেন না।’ (সুরা আল-মুনাফিকুন: আয়াত ১১)

আমাদের করণীয় কী?

এখনো সময় আছে। প্রাণ আছে, সুযোগ আছে। তাই—

১. খাঁটি তাওবা করা

পাপ থেকে ফিরে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা। যেভাবে আল্লাহ বলেন—

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا تُوبُوا إِلَى اللَّهِ تَوْبَةً نَّصُوحًا

‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে খাঁটি তাওবা করো।’ (সুরা আত-তাহরিম: আয়াত ৮)

২. নামাজ ও ফরজ ইবাদতে যত্নবান হওয়া

কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম নামাজেরই হিসাব নেওয়া হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

أَوَّلُ مَا يُحَاسَبُ بِهِ الْعَبْدُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الصَّلَاةُ، فَإِنْ صَلَحَتْ صَلَحَ سَائِرُ عَمَلِهِ، وَإِنْ فَسَدَتْ فَسَدَ سَائِرُ عَمَلِهِ

‘কিয়ামতের দিন বান্দার প্রথম হিসাব নেওয়া হবে নামাজ সম্পর্কে। নামাজ ঠিক হলে তার অন্য সব আমলও ঠিক হবে, আর নামাজ নষ্ট হলে অন্য সব আমলও নষ্ট হবে।’ (তিরমিজি ৪১৩, নাসাঈ ৪৬৫, মুসনাদ আহমদ ১৬৯৫৪)

৩. সময়কে নেক আমলে ব্যয় করা

কুরআন তিলাওয়াত, জিকির, দোয়া, সদকা— যতটুকু পারা যায় নিয়মিত আদায় করা।

৪. আখিরাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

كُنْ فِي الدُّنْيَا كَأَنَّكَ غَرِيبٌ أَوْ عَابِرُ سَبِيلٍ

‘দুনিয়াতে এমনভাবে থাকো যেন তুমি একজন মুসাফির বা পথচারী।’ (বুখারি ৬৪১৬)

জীবন কখন যে শেষ হয়ে যায়, তা কেউ জানে না। প্রতিটি নিঃশ্বাস আমাদের আয়ু কমাচ্ছে, আর প্রতিটি দিন আমাদের আমলনামায় নতুন অধ্যায় যোগ করছে—ভালো কিংবা মন্দ। আজ যে সময় হাতে আছে, কাল তা নাও থাকতে পারে। তাই আফসোসের দিন আসার আগেই ফিরে আসি রবের দিকে। অল্প আমল হলেও তা যেন হয় খাঁটি, নিয়মিত ও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। সময় থাকতেই সময়ের মূল্য বুঝে নেক আমলে জীবন সাজানোই হোক আমাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য।

আল্লাহ যেন আমাদের সময়ের কদর করার তৌফিক দেন, নেক আমলে জীবন সাজানোর শক্তি দেন এবং পরকালের সফল যাত্রী হিসেবে কবুল করেন। আমিন।

 

আয়শা/২৬ জানুয়ারী ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:৩০

▎সর্বশেষ

ad