
ডেস্ক নিউজ : মুফতি আবদুল্লাহ তামিম
হাদিস ও কোরআনের আলোকে শীতকাল
১. শীতকাল মুমিনের বসন্তকাল। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘শীতকাল হলো মুমিনের বসন্তকাল।’ (মুসনাদে আহমদ) এখানে বসন্তকাল বলতে বোঝানো হয়েছে যে, শীতকালে দিন ছোট হওয়ায় রোজা রাখা সহজ হয়, আর রাত বড় হওয়ায় বেশি সময় ধরে ইবাদত করা যায়। মুমিনরা এ সময়টিকে ইবাদতের স্বর্ণালী সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেন।
গনিমত বলতে বোঝানো হয়েছে সহজে অর্জনযোগ্য সম্পদ। শীতকালে দিনের সময় কম হওয়ায় দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা সহজ হয়, যা রোজা পালনের জন্য অনুকূল। নফল রোজা পালনের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সুযোগ শীতকাল আরও বাড়িয়ে দেয়।
শীতের রাতগুলো বড় হওয়ার কারণে দীর্ঘ সময় নামাজে কাটানো যায়, আর দিনগুলো ছোট হওয়ায় বেশি বেশি নফল রোজা রাখা যায়। (সুনানে বায়হাকি)
৪. দিন-রাতের পরিবর্তনে শিক্ষা। আল্লাহ তাআলা বলেন,আল্লাহ দিন আর রাতের আবর্তন ঘটান, নিশ্চয়ই এতে জ্ঞানীদের জন্য শিক্ষা রয়েছে। (সুরা নুর, আয়াত: ৪৪)
দিন ও রাতের এই পরিবর্তন আল্লাহর সৃষ্টির নিপুণতার প্রমাণ বহন করে। এর মাধ্যমে মুমিনের উচিত শিক্ষা গ্রহণ করা এবং প্রতিটি ঋতুকে ইবাদতের সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা।
৫. শীত বরকতপূর্ণ। হাদিসে এসেছে,হে প্রিয় শীতকাল! তোমাকে স্বাগতম, কেননা তা বরকত বয়ে আনে। রাতগুলো দীর্ঘ হওয়ায় কিয়ামুল লাইলের জন্য সহায়ক আর দিনগুলো ছোট হওয়ায় রোজা রাখা সহজ। (আল-মাকাসিদুল হাসানা, হাদিস: ২৫০)
মুমিনদের বৈশিষ্ট্য হলো রাতের শেষ প্রহরে তাহাজ্জুদের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা। শীতকাল দীর্ঘ রাতের জন্য এটি চর্চার অনন্য সময়।শীতকাল প্রকৃত অর্থে মুমিনের জন্য এক বড় নিয়ামত। এ সময়টি ইবাদত, রোজা এবং দানশীলতার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের সেরা সুযোগ এনে দেয়। তাই আমাদের উচিত এই ঋতুকে শুধুমাত্র শারীরিক কষ্টের ঋতু হিসেবে না দেখে আত্মিক পরিশুদ্ধির সময় হিসেবে গ্রহণ করা।
কিউটিভি/আয়শা/০৫ ডিসেম্বর ২০২৪,/রাত ১০:৫৫





