
ডেস্ক নিউজ : মুফতি আবদুল্লাহ তামিম
এ আয়াত থেকে স্পষ্ট হয় যে, জ্ঞান অর্জন ও তার শিক্ষাদান আল্লাহর নির্দেশিত একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। শিক্ষকদের মর্যাদা সম্পর্কে মহানবী (সা.) এবং সাহাবারা যেসব উদাহরণ স্থাপন করেছেন, তা ইসলামে শিক্ষকদের অবস্থান কতটা মহান তা প্রমাণ করে।
রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি শিক্ষক হিসেবেই পৃথিবীতে প্রেরিত হয়েছি’ (দারেমি ১-৯৯)। ইসলামের সর্বোচ্চ শিক্ষাদাতা মহানবী (সা.) নিজেকে একজন শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন, যা প্রমাণ করে যে, শিক্ষাদানের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, ‘তোমরা জ্ঞান অর্জন করো এবং যার কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করো, তাকে সম্মান করো’ (আল-মুজামুল আওসাত, হাদিস ৬১৮৪)। ইসলাম জ্ঞানকে এক মহান সম্পদ হিসেবে গণ্য করে এবং শিক্ষকের প্রতি সম্মান প্রদর্শনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়।
ইসলামে শিক্ষকের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধার উদাহরণ হিসেবে সাহাবীদের বিভিন্ন আচরণ আমাদের সামনে এসেছে। যেমন, হযরত আলী (রা.) বলেছেন, ‘যার কাছে আমি একটি শব্দও শিখেছি আমি তার গোলাম’ এতে বোঝা যায় যে, শিক্ষকের সম্মান শিক্ষার্থীর জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, হযরত জায়েদ বিন সাবিত (রা.) ও ইবনে আব্বাস (রা.) এর মধ্যে শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের যে চিত্র দেখা যায়, তা ইসলামে শিক্ষকের মর্যাদা আরও সুস্পষ্ট করে তুলে ধরে।
রসুল (সা.) বলেছেন, আমি শিক্ষক হয়েই পৃথিবীতে প্রেরিত হয়েছি। (দারেমি ১-৯৯) রসুল (সা.) বলেছেন, তোমরা জ্ঞান অর্জন করো এবং জ্ঞান অর্জনের জন্য আদব শিক্ষা করো এবং যার কাছ থেকে তোমরা জ্ঞান অর্জন করো, তাকে সম্মান করো। (আল-মুজামুল আওসাত, হাদিস ৬১৮৪) হযরত আলী (রা.) বলেছেন, যার কাছে আমি একটি শব্দও শিখেছি আমি তার গোলাম। তিনি ইচ্ছে করলে আমাকে বিক্রিও করতে পারেন, ইচ্ছে করলে আযাদও করে দিতে পারেন। আবার ইচ্ছে করলে গোলামও বানিয়ে রাখতে পারেন।
রসুল সা. বলেছেন, তোমরা দীনে ইলম শিক্ষা করে জ্ঞানের জন্য স্থীরতা ও গাম্ভির্জতা অবলম্বন করো আর যার নিকট থেকে বিদ্যা অর্জন করেছো তার নিকট বিনয় সহকারে গমন করো। হযরত জায়েদ বিন সাবিত রা. একবার তার সাওয়ারিতে ওঠার জন্য রেকাবে পা রাখলেন। তখন ইবনে আব্বাস (রা.) রেকাবটি শক্ত করে ধরলেন, এসময় জায়েদ বিন সাবিত (রা.) বললেন, হে রসুলের চাচাতো ভাই, আপনি হাত সরান, উত্তরে ইবনে আব্বাস বললেন, না, আলেম ও বড়দের সাথে এমন সম্মান সূচক আচরণ করতে হয়। (আল-ফকিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ, খণ্ড:-২, হাদিস ১৯৭)
হযরত ওমর রা. ও হযরত ওসমান রা. তাদের শাসনামলে শিক্ষকদের জন্য বিশেষ ভাতার ব্যাবস্থা করেছিলেন। (কিতাবুল আমওয়াল, পৃষ্ঠা:-১৬৫) ইসলামে শিক্ষকগণ সেই মানুষ, যারা আল্লাহর পথে মানুষকে নিয়ে আসেন এবং সত্যের দিশা দেন। ইসলামের আদর্শ অনুসারে শিক্ষকরা শুধু জ্ঞান প্রদানকারীই নন, বরং তারা সমাজের পাথেয় এবং পথপ্রদর্শক।
মহানবী (সা.) ও সাহাবাদের জীবন থেকে শিক্ষকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অসংখ্য উদাহরণ পাওয়া যায়, যা আমাদের শেখায় কিভাবে জ্ঞান অর্জন ও শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হয়। ইসলামে শিক্ষকদের এমন মর্যাদা দিয়ে আমাদের দায়িত্ব করে দিয়েছে তাদের সম্মানিত করা এবং সমাজে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া।
কিউটিভি/আয়শা/১১ নভেম্বর ২০২৪,/সন্ধ্যা ৬:২২





