অন্যের ঘরে প্রবেশে অনুমতি ও শালীনতার বিধান

Ayesha Siddika | আপডেট: ০৯ নভেম্বর ২০২৪ - ০৭:১০:০১ পিএম

ডেস্ক নিউজ : মুফতি জাকারিয়া হারুন

অনেকেই নিজ ঘরে সাধারণত আরামদায়ক পোশাক পরেন। এছাড়া ঘুমানোর সময় পরিহিত পোশাকের অংশবিশেষ খোলা থাকতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ঘরবাড়িতে হঠাৎ কেউ ঢুকে গেলে বা কারও দরজা-জানালা দিয়ে দৃষ্টি দিলে ওই ব্যক্তি অস্বস্তিতে পড়তে পারেন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ইসলাম অন্যের ঘরে প্রবেশের জন্য অনুমতি নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। বিনা অনুমতিতে অন্যের ঘরে প্রবেশ করা নাজায়েজ।

তোমরা যা করো আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবগত।’ (সুরা নুর, আয়াত : ২৭-২৮) অনুমতি ছাড়া কারও ঘরের ভেতরে তাকানো এবং দরজা-জানালায় উঁকি দেয়া অমার্জনীয় অপরাধ। বিখ্যাত সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি কারও ঘরে বিনা অনুমতিতে উঁকি দেবে, তার জন্য ওই ব্যক্তির চোখ ফুঁড়ে দেয়া বৈধ।’ (মুসলিম: ২১৫৮) ইসলামের এই শিক্ষা মানতে হলে কারও ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে প্রথমে সালাম দিতে হবে।  এরপর ঘরে প্রবেশের অনুমতি চাইতে হবে। অনুমতি না পেলে কারও ঘরে প্রবেশ করা অসৌজন্য। এর চেয়ে ফিরে যাওয়া ভালো ও সম্মানজনক।
কারোর বাড়িতে প্রবেশের দরকার হলে অথবা কোন বাড়ির কাউকে ডাকতে হলে অথবা কোন বাড়ির কারোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে হলে তার বাড়ির সামনে এসে তার দরজার সোজাসুজি দাঁড়াবেন না। বরং দরজার বাম অথবা ডান পাশে আড়ালে দাঁড়াবেন। যাতে দরজা খোলা থাকলে তার বাড়ির ভেতরে আপনার নজর না যায়। আর এই নজরের জন্যই তো অনুমতি নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবেই অন্যের দরজায় দাঁড়াতেন। (আবু দাউদ: ৫১৮৬)

নবীজির দরজার সামনে কেউ দাঁড়ালে তাকেও ওই নিয়মে দাঁড়াতে শিক্ষা দিতেন। (আবু দাউদ: ৫১৭৪) সালাম ও কথা বলার পর যদি কোন সাড়া না পান, তাহলে তিনবার একই রূপ বলুন। তাতে যদি কোন সাড়া বা অনুমতি না পান, তাহলে সেখান হতে ফিরে যান। খবরদার সে বাড়িতে প্রবেশ করবেন না। যেহেতু নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের মধ্যে কেউ তিন তিনবার (কারও বাড়ি প্রবেশের) অনুমতি নেয় এবং তাকে অনুমতি না দেয়া হয়, তাহলে সে যেন ফিরে যায়। (বুখারি: ৬২৪১)

 

 

কিউটিভি/আয়শা/০৯ নভেম্বর ২০২৪,/সন্ধ্যা ৭:০৫

▎সর্বশেষ

ad