ইসলামে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাহাত্ম্য

Ayesha Siddika | আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০২৪ - ০৪:৪১:৫৩ পিএম

ডেস্ক নিউজ : কোরআনের বেশ কিছু আয়াতে কৃতজ্ঞতার বিষয়টি আলোচিত হয়েছে, যেখানে আমাদেরকে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কৃতজ্ঞ না থাকার পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, সুরা আল-আরাফের আয়াত ৭ তে আল্লাহ বলেন,

অল্পই তো তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো। (সুরা আল-আরাফের আয়াত: ৭) আল্লাহ এখানে বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসী উভয়কেই উদ্দেশ্য করে বলেন, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তিনি অবিশ্বাসীদের দিকে ইঙ্গিত করেন, যারা আল্লাহ প্রদত্ত বিভিন্ন জীবনযাত্রার উপায় ও সম্পদের জন্য কৃতজ্ঞ থাকে না। এসব আয়াতে মূলত সৃষ্টিকর্তার প্রতি অবিশ্বাস বা কৃতজ্ঞতা না থাকার জন্য সতর্কতা প্রদান করা হয়েছে।

কৃতজ্ঞতার নির্দেশনাসমূহ নিয়ে বাকি ১৬টি আয়াত পাওয়া যায় যেখানে বিভিন্ন উপায়ে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের কথা বলা হয়েছে। যেমন, সুরা আল-বাকারার ২ নম্বর আয়াতে বনি ইসরাঈলের প্রতি আল্লাহর দয়া ও তাদের জন্যে নির্দেশ করা হয়েছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে।

আল্লাহর দেয়া উপহারগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা

আল্লাহ আমাদের জীবনে প্রচুর নিয়ামত দান করেছেন, যেমন খাদ্য, পানীয়, বস্ত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী। সুরা আল-বাকারা ২ নম্বর আয়াত ও সুরা আন-নাহলেও বলা হয়েছে যে, শুধু হালাল ও পবিত্র জিনিস গ্রহণ করাই কৃতজ্ঞতার প্রতিফলন।

এছাড়াও, রমজান মাসে রোজা পালন, যুদ্ধকালীন সময় আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার ক্ষেত্রে ধৈর্য আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রকাশের মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে। রমজান মাসকে যেমন আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তেমনই এই মাসে আমাদের ইবাদাতের মাধ্যমেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে বলা হয়েছে।

কৃতজ্ঞতার শিক্ষা

কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অন্যতম উপায় হলো আল্লাহর কাছে দোয়া করা। হাদিসে এসেছে, যে খেয়ে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ থাকে, সে সেই ব্যক্তির মতো যিনি রোজা রাখে এবং ধৈর্য ধারণ করে। আল্লাহর অন্যান্য বিধানগুলো মানার মাধ্যমেও আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি।

সুন্নাহ অনুসরণ ও আল্লাহর নামসমূহ স্মরণ করা

আল্লাহর ৩৫তম সুন্দর নাম ‘আশ-শাকুর’, যা কৃতজ্ঞতার অর্থ বহন করে। কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য আল্লাহর এই নাম স্মরণ করা, বিশেষ করে দোয়ার সময়, আমাদের অন্তরে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা ও সান্নিধ্য বৃদ্ধি করে।


অতএব, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ আমাদের আল্লাহর নিকটবর্তী করে তোলে। পার্থিব জীবনে মানসিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতি সাধনে সহায়তা করে। কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ফলে আমরা শুধুমাত্র আল্লাহর নিয়ামতগুলোই উপভোগ করি না বরং শেষ বিচারের দিনে তাঁর সন্তুষ্টি ও পুরস্কারের অধিকারী হতে পারি।
পরোপকার করা মুমিনের একটি প্রধান গুণ। অন্যদিকে, কেউ যদি আমাদের উপকার করে, তাহলে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাও মুমিনের দায়িত্ব। এটি রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শিক্ষা।
তিনি বলেন, যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না। অর্থাৎ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা না থাকলে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা থাকার কথা নয়। (আবু দাউদ ৪৮১১) তাই কারো কাছ থেকে উপকৃত হলে তার কৃতজ্ঞা জ্ঞাপন করা উচিত। কেউ কোনো উপহার দিলে সামর্থ্য থাকলে তাকেও কিছু উপহার দেয়া উচিত।
কোনো কিছু না থাকলে কমপক্ষে তার প্রশংসা করা উচিত। তার সঙ্গে সদাচরণ করা উচিত। কিন্তু আমরা অনেক সময় কারো দ্বারা উপকৃত হলে সে যাতে এটাকে বড় করে না দেখে বা আমরা যেন তার কাছে ছোট না হয়ে যাই, এ জন্য তার সঙ্গে অদ্ভুত আচরণ শুরু করি। এটা ইসলামের শিক্ষা নয়।প্রিয় নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কাউকে যখন উপহারস্বরূপ কিছু দেয়া হয়, তখন সে যদি এর পরিবর্তে দেয়ার মতো কিছু পায় তাহলে যেন তা দিয়ে দেয়। আর যে এমন কিছু না পাবে সে যেন তার প্রশংসা করে। কেননা যে প্রশংসা করল সেও কৃতজ্ঞতা আদায় করল। আর যে লুকিয়ে রাখল সে অস্বীকার করল। (তিরমিজি ২০৩৪)

তাই আমরা কারো দ্বারা উপকৃত হলে কমপক্ষে তার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতে পারি। মহান আল্লাহর কাছে তার জন্য দোয়া করতে পারি। সে দোয়ার ভাষা কী হবে, তাও শিখিয়েছেন রসুলুল্লাহ (সা.)। হজরত উসামা ইবনে জায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কাউকে অনুগ্রহণ করা হলে সে যদি অনুগ্রহকারীকে বলে, ‘জাজাকাল্লাহু খইরান’ অর্থাৎ মহান আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন, তবে সে উপযুক্ত ও পরিপূর্ণ প্রশংসা করল। (তিরমিজি ২০৩৫)

উপকারকারীর জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করাও কৃতজ্ঞতার একটি প্রকাশ। আমরা হয়তো কারো জন্য সরাসরি কিছু করতে পারি না, তবে যদি মহান আল্লাহ নিজ হাতে তাকে পুরস্কৃত করেন, তা অবশ্যই তার মর্যাদা অনুযায়ী হবে। তাই যখন আমরা কারো দ্বারা উপকৃত হই বা বিপদে কাউকে পাশে পাই, তখন তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য আমরা রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভাষায় ‘জাজাকাল্লাহ’ বলার মাধ্যমে দোয়া করতে পারি। এছাড়া মোনাজাতে তার জন্য মহান আল্লাহর কাছে কল্যাণ কামনা করাও একটি সুন্দর কাজ।

 

 

কিউটিভি/আয়শা/০৩ নভেম্বর ২০২৪,/বিকাল ৪:৪০

▎সর্বশেষ

ad