সীমা লঙ্ঘন করার ফলে যে জাতি বানর হয়ে যায়!

Ayesha Siddika | আপডেট: ২০ আগস্ট ২০২৪ - ০৯:৩৭:২১ পিএম

ডেস্ক নিউজ : হজরত দাউদ (আ.)-এর কণ্ঠ সবাইকে মোহিত করতো। বনি ইসরাইলের ধর্মীয় বিধান পালন ও ইবাদতের দিন ছিল শনিবার। এ দিনেই যাবুর কিতাব পাঠ করতেন দাউদ (আ.)। তার সুরেলা কণ্ঠে মানুষের পাশাপাশি অন্যান্য জীবজন্তুও যাবুর কিতাব শুনতে ভিড় জমাতো। নদী-পুকুরের মাছও তীরে ভিড়ে যাবুর পাঠ শুনতো। এজন্য শনিবারে মাছ শিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

সৎলোকেরা তাদের এই অপকর্মে বাধা দিলেন। কিন্তু তারা বিরত হলো না। অবশেষে সৎ লোকেরা অবাধ্যদের সঙ্গে যাবতীয় সম্পর্ক ছিন্ন করে আলাদা হয়ে গেলেন। এমনকি বাসস্থানও দুই ভাগে ভাগ করে নিলেন। একভাগে অবাধ্যরা বসবাস করতো আর অপর ভাগে সৎ ও বিজ্ঞজনেরা বাস করতেন। মহান আল্লাহ অবাধ্যদের এ সীমা লঙ্ঘনে ক্রোধান্বিত হলেন। তাদের ওপর অভিশাপ বর্ষণ করলেন। তারা আল্লাহর ক্রোধে বানরে রূপান্তরিত হয়ে গেলো।
কাতাদাহ (রহ.) বলেন, তাদের যুবকেরা বানরে এবং বৃদ্ধরা শুকরে পরিণত হয়ে গিয়েছিল। রূপান্তরিত বানররা নিজ নিজ আত্মীয় স্বজনকে চিনতো এবং তাদের কাছে এসে অঝোরে অশ্রু বিসর্জন করতো। একদিন সৎ লোকেরা অবাধ্যদের বস্তিতে অস্বাভাবিক নীরবতা লক্ষ্য করলেন। এরপর সেখানে পৌঁছে দেখলেন যে, সবাই বিকৃত হয়ে বানরে রূপান্তরিত হয়ে গেছে।
হাদিসে এসেছে, এক সাহাবি একবার রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রসুলাল্লাহ! আমাদের যুগের বানর ও শুকরগুলো কি সেই রূপান্তরিত ইহুদি সম্প্রদায়? তিনি বললেন, আল্লাহ তাআলা যখন কোন সম্প্রদায়কে ধ্বংস করেন অথবা তাদেরকে শাস্তি দিয়ে থাকেন তখন তিনি তাদের অবশিষ্ট বংশধর রাখেন না। মূলত বানর ও শূকর পৃথিবীতে তাদের পূর্বেও ছিল। (মুসলিম: ২৬৬৩)
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ এ বিষয়ে বলেছেন,وَ لَقَدۡ عَلِمۡتُمُ الَّذِیۡنَ اعۡتَدَوۡا مِنۡكُمۡ فِی السَّبۡتِ فَقُلۡنَا لَهُمۡ كُوۡنُوۡا قِرَدَۃً خٰسِئِیۡنَ

অর্থ: আর তোমাদের মধ্যে যারা শনিবার সীমা লঙ্ঘন করেছিল তাদেরকে তোমরা নিশ্চিতভাবে জেনেছিলে। ফলে আমি তাদেরকে বলেছিলাম, তোমরা ঘৃণিত বানরে পরিণত হও। (সুরা বাকারা, আয়াত: ৬৫)

 

 

কিউটিভি/আয়শা/২০ অগাস্ট ২০২৪,/রাত ৯:৩৩

▎সর্বশেষ

ad