খুতবা চলাকালে দানবাক্স চালানো, ইসলাম কী বলে?

Ayesha Siddika | আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৪ - ০১:৪৬:৪৬ পিএম

ডেস্ নিউজ : অনেক মসজিদে দেখা যায়, খুতবা চলাকালে দানবাক্স চলতে থাকে। অথচ হাদিস শরিফে খুতবা চলাকালে অন্যকে চুপ থাকার জন্য বলাও অনর্থক কাজ বলা হয়েছে। সেখানে খুতবার সময় দানবাক্স চালানো তো আরও বড় কাজ। সুতরাং তা পরিহার করা জরুরি।


নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘জুমার দিন খুতবা চলা অবস্থায় যদি তোমার পাশের জনকে বলো, ‘চুপ করো’ তাহলে তুমিও একটি অনর্থক কাজ করলে।’ (বুখারি: ৯৩৪)

আরেক হাদিসে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে অজু করে জুমার জন্য মসজিদে এলো, তারপর চুপ থেকে খুতবা শুনলো তার দশ দিনের গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। আর যে নুড়ি স্পর্শ করলো সে অনর্থক কাজ করলো।’ (মুসলিম: ৮৫৭)

খুতবা শোনা এতো বেশি গুরুত্বপূর্ণ যে, খুতবা চলাকালে পাশের ব্যক্তি কথা বললে তাকেও চুপ থাকার জন্য কথা বলার অনুমতি দেননি নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। খুতবা চলাকালীন এ কাজকেও অনর্থক ও গোনাহের কাজ বলা হয়েছে।
 
দান করা অনন্য সওয়াবের কাজ। মসজিদের জন্য দান করা বা দান সংগ্রহ করা নিঃসন্দেহে সওয়াবের কাজ। কিন্তু তা যদি খুতবা চলা অবস্থায় করা হয় তাহলে তাও অনর্থক ও গোনাহের কাজ বলে গণ্য হবে। এজন্য এ বিষয়ে খুবই সতর্ক থাকা জরুরি।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, তিনি বলেন, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘প্রতিদিন সকালে দুজন ফেরেশতা অবতরণ করেন। তাদের একজন দানকারীর জন্য দোয়া করে; তারা বলেন, হে আল্লাহ দানকারীর মালে বিনিময় দান কর। (বিনিময় সম্পদ বৃদ্ধি কর) আর দ্বিতীয়জন কৃপণের জন্য বদ দোয়া করে বলেন, হে আল্লাহ কৃপণের মালে ধ্বংস দাও।’ (বুখারি ও মুসলিম)
মসজিদে দান করার বা মসজিদ নির্মাণ করার ফজিলত অপরিসীম। মসজিদে দান করার হাদিস সমূহের মধ্যে থেকে অন্যতম একটি হাদিস হলো, হাদিস শরিফে বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মসজিদ নির্মাণ করবে, মহান আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে অনুরূপ ঘর তৈরি করে দেবেন।’ (বুখারি ৪৫০) প্রত্যেক মুসল্লির উচিত, নিজ নিজ দায়িত্বে মসজিদের দায়িত্বশীলদের কাছে তাদের দান বা দানের অর্থ জমা দেয়া।

 

কিউটিভি/আয়শা/০৫ জুলাই ২০২৪,/দুপুর ১:৪০

▎সর্বশেষ

ad