
আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিনিধি : ঢাকার আশুলিয়ায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৩৭ মণ ওজনের “নয়ারাজ-২৪” নামের একটি ফিজিয়ান জাতের গরু। এবছরে কোরবানির মাঠ কাঁপাবে এই গরুটি। তার স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি প্রতিদিন দুধ পান করে ১০লিটার। গত ৪ বছর ধরে কোরবানির পশু হিসাবে এটি লালন করছেন আবুল হুসাইন। কোরবানির গরু হওয়ায় কোন ধরনের পরিমাপ করতে নারাজি তিনি। তবে অনুমান গরুটির ওজন ৩৭ মন হতে পারে।

সোমবার সকালে ঢাকার আশুলিয়ার দক্ষিণ গাজিরচট এলাকার “আয়েশা এগ্রো” ফার্মে গিয়ে দেখা মেলে বিশালাকৃতির এই নয়ারাজ-২৪ এর। শখের বসেই ছোট বেলা থেকে প্রতিবছর কোরবানির জন্য বড় গরু প্রস্তুত করে আসছেন খামারের মালিক আবুল হুসাইন। প্রায় চার বছর ধরে এটিকে দেখাশোনা করে আসছেন মোঃ জামাল মিয়া। তিনি বলেন, ছোট থেকেই নয়ারাজকে আমি দেখাশোনা করে আসছি। কোরবানীর জন্য প্রস্তুত করায় স্বাভাবিক খাবার খাওয়ানো হয়েছে।
তবে জন্মের পর থেকে দুধ খাওয়া শুরু করে আজও দুধ খেয়ে যাচ্ছে নয়ারাজ-২৪। প্রতিদিন সকালে ৫ লিটার ও বিকেলে ৫ লিটার বালতিতে করে দুধ পান করে নয়ারাজ। এছাড়া আমরা মিষ্টি কুমড়া, নরম ভাত, ভুট্টাসহ ন্যাচারাল (প্রাকৃতিক) খাবার খাওয়াই। গতবছর আমি নয়ারাজ-২৩ নামের আরও একটি গরু পালন করেছিলাম। সেটি গাবতলি বাজারের সেরা গরু হয়েছিল। নয়ারাজ-২৪ নয়ারাজ-২৩ এর চেয়েও বিশালদেহী। এ গরুটিও বাজার তথা দেশের সেরা গরু হবে বলে বিশ্বাস করি।
নয়ারাজ-২৪ ও আয়েশা এগ্রো ফার্মের স্বত্তাধীকারী আবুল হুসাইন বলেন, আমি ছোট বেলায় দেখতাম আমার বাবা বড় বড় গরু পালন করতেন। সেই অনুপ্রেরণা থেকে আমি বড় গরু পালন করছি। এবার আমি ঈদুল আজহা উপলক্ষে ১৫ টি গরু, ৩টি মহিষ প্রস্তুত করেছি। সবগুলো গরু আমার খামারে জন্ম নেওয়ার পর বছাই করেছি। প্রায় ৪ বছর পালন করেছি এসব কোরবানির পশু। স্বাভাবিক খাবার খাওয়ানো হয়েছে সব গরুগুলোকে।
তিনি আরও বলেন, আমরা কোরবানির গরুর ওজন পরিমাপ করি না। কোরবানির জন্য গরু প্রস্তুত করেছি। তার ওজন, উচ্চতা, কতটুকু মাংস হবে এসব চিন্তা করি না। তবে আনুমানিক এটির মাংস ৩৭ মন হতে পারে। যদি ওজনের দরকার হয় তাহলে আমি নয়ারাজ-২৪’কে বিক্রি করবো না, তার মাংস বিক্রি করবো। আমার গরু গত বছরে ঢাকার সেরা গরু হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। গতবছরে গাবতলি বাজারে আমার নয়ারাজ-২৩ সব চেয়ে বড় গরু ছিল। ওই গরুটির চেয়ে নয়ারাজ-২৪ আরও বড় গরু। এবারও আমার এই গরুটি দেশসেরা হতে পারে।
নয়ারাজ-২৪ এর খাবার সম্পর্কে তিনি বলেন, জন্মের পরে প্রাকৃতিক খাবার দুধ খেয়ে বড় হতে থাকে নয়ারাজ২৪। পাশাপাশি স্বাভাবিক খাবার খাওয়ানো হয়। কিন্তু দুধ খাওয়া বন্ধ করা হয়নি। প্রতিদিন এখনও দুধ না পান করলে অসুস্থ হয় নয়ারাজ২৪। নয়ারাজ২৪ এখনো প্রতিদিন সকালে ৫ কেজি বিকেলে ৫ কেজি দুধ পান করে। দুধের পাশাপাশি মিষ্টি কুমড়া, ভুট্টা, জাউ ভাত, ঘাস ইত্যাদি খাওয়ানো হয়। মোটাতাজা করনের কোন পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়নি। নয়ারাজ২৪’কে প্রাকৃতিক উপায়ে কোরবানীর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
দাম সম্পর্কে তিনি বলেন, খামারে ক্রেতা এসেছিলেন, নয়ারাজ২৪ এর দাম উঠেছে ১৪ লাখে। কিন্তু আমরা নয়ারাজ২৪’কে বিক্রি করিনি। গো-খাদ্য ও ওষুধের যে দাম বেড়ে গেছে তাতে গরু পালনের খরচ অনেক বেড়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবে শুধু কোরবানীর জন্য গরু প্রস্তত করা এখন কষ্টদায়ক। আমার খামারে ১৫০টি গরু রয়েছে। বেশিরভাগ গরুই দুধ দেয়। দুধ বিক্রির টাকা দিয়ে আমি কোরবানির জন্য গরু প্রস্তুত করি। বর্তমানে গরু পালন করে খরচ পোষে না। তবে চার বছর ধরে যা খরচ হয়েছে তা হয়তো একবারে হাতে পাবো। চিকিৎসা সেবা সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা প্রতিনিয়ত খোঁজ খবর রাখেন। প্রতিনিয়ত পরামর্শ দিয়ে আমাদের পাশে থাকেন।
এ ব্যাপারে সাভার উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাজেদুল ইসলাম বলেন, সাভার আশুলিয়ায় প্রায় ১০ হাজার পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। গরু মহিষ ছাগল ভেড়া সব মিলে প্রস্তুতকৃত পশুর এই সংখ্যা। যা সাভারের জন্য পর্যাপ্ত। এছাড়া বিভিন্ন গরুর হাটে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিক্রির জন্য গরু আনা হয়। যা দিয়ে সাভারে চাহিদা পর্যাপ্ত পুরণ হয়। আমরা মুলত পরামর্শটাই বেশি দিয়ে থাকি, আগে থেকেই কৃমিনাশক, ভ্যাকসিনগুলো যেনো দিয়ে দেন। আমরা খামারিদের ওষুধের ওপর নির্ভরশীল হতে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকি। কোরবানির পশু প্রাকৃতিক উপায়ে পালন করার পরামর্শ আমরা দিয়ে থাকি।
কিউটিভি/আয়শা/০৩ জুন ২০২৪,/বিকাল ৩:২০





