
স্বাস্থ্য ডেস্ক : হারুন উর রশিদের বয়স ৫৫ বৎসর ও ৪৫ বৎসরের লিটন কর্মকারের হার্টের মূল রক্তনালিতে ৯০ শতাংশ ব্লক ধরা পড়ে। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ডা. প্রদীপ কুমার কর্মকার দূরনিয়ন্ত্রিত রোবটিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিনামূল্যে ধমনীতে রিং স্থাপনের প্রস্তাব দিলে সাড়া দেয় এই রুগী ও তাদের স্বজনরা।
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার ক্যাথল্যাব থাকেন রুগী এবং দক্ষ রোবটিক টীম। আর হাসপাতালে ৮ম তলার কনফারেন্স রুমে স্থাপিত রোবটিক কন্ট্রোল ইউনিটের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে রোবটিক টীম প্রধান ডাঃ প্রদীপ কুমার কর্মকার নিখুঁতভাবে ২ রুগীর হার্টে রিং পরান সাফল্যজনকভাবে।
পুরো অপারেশন প্রক্রিয়াটি উদ্বোধন ও প্রত্যক্ষ করেন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক প্রফেসর ডাঃ কামরুল হাসান মিলন ও প্রফেসর আজাদসহ অন্যান্য ডাক্তাররা।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই অত্যাধুনিক দূরনিয়ন্ত্রিত রোবটিক মাধ্যমে হার্টে রিং পরানোর মাধ্যমে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এশিয়া মহাদেশে ৩য় দেশ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করলো। এর আগে ইন্ডিয়া ও চীন এই অপারেশন করে।
এবার জানা যাক, এই অসাধারণ কাজটি কিভাবে সফলতা পেলো সে সম্পর্কে:
দূর নিয়ন্ত্রিত রোবটিক এনজিওপ্লাস্টির এই প্রক্রিয়ায় রোবটের একটি হাত থাকে ক্যাথল্যাবে। আরেকটি কন্ট্রোল সেকশন যা মূল কার্ডিওলজিস্ট ডাঃ প্রদীপ কুমার কর্মকার নিয়ন্ত্রণ করেন। সেখানে ৩টি মনিটর, ১টি দিয়ে রিং পরানো প্রক্রিয়া রিয়েল টাইমে প্রত্যক্ষ করা হয়, দ্বিতীয়টি দিয়ে রুগীর ব্লাড প্রেসার, পালস, অক্সিজেন স্যাচুরেশন ও ইসিজি দেখার মাধ্যমে রুগীর রিং পরানোকালীন সময়ের রুগীর শারীরিক অবস্থা নিবীড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। আর তৃতীয়টি দিয়ে ক্যাথল্যাবে অবস্থিত টিমের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করা হয়।
হারুন উর রশিদ ও লিটন বর্তমানে ভালো আছে এবং বাড়ি যাওয়ার জন্য অপেক্ষমান।
প্রসঙ্গত, গত ২১ জানুয়ারি এই প্রতিষ্ঠানের সহযোগী অধ্যাপক ডাক্তার প্রদীপ কুমার কর্মকার ও তার বিশেষায়িত টিম হৃদরোগে আক্রান্ত দুজন রোগীর প্রধান ধমনীতে বিনামূল্যে রোবটিক পদ্ধতিতে রিং পরান। এর মাধ্যমে এই যুগান্তকারী চিকিৎসা পদ্ধতিটির ১ম পর্যায়ের কাজটি দেশে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সম্পন্ন হয়।
তখন রুগী ছিল ক্যাথল্যাবে আর ডাঃ প্রদীপ কর্মকার ছিলেন একই তলার কন্ট্রোল রুমে।
কিউটিভি/অনিমা/৩০ জানুয়ারী ২০২৪,/দুপুর ২:১৬





