গাজায় প্রতি ১৫ মিনিটে মরছে ১ জন শিশু

Ayesha Siddika | আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২৩ - ০৯:৫৫:৫১ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইসরাইলের বোমা হামলায় গাজায় মোট নিহতের ৪০ শতাংশই শিশু। গত ৭ অক্টোবরের পর থেকে প্রতিদিন ১০০টিরও বেশি শিশু নিহত হচ্ছে। প্রতি ১৫ মিনিটে এই সংখ্যা ১৫ জন। 

বর্তমান যুদ্ধ শিশুদের ওপর কতটা ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে তা তুলে ধরেছে একটি ফিলিস্তিনি এনজিও সংস্থা ‘দ্য ডিফেন্স ফর চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল-প্যালেস্টাইন (ডিসিআইপি)’। সংস্থাটির একজন মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা বাস্তব সময়ে একটি গণহত্যা প্রত্যক্ষ করছি।’ আলজাজিরা।

শিশুরা কি যুদ্ধে আইনত সুরক্ষিত নয়? : ১৯৪৯ সালে জেনেভা কনভেনশনের অধীনে যেকোনো সশস্ত্র সংঘাতের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কিছু আইন পাশ করা হয়েছিল। এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল শিশুদের সুরক্ষা ও মানবিক আচরণের ক্ষেত্রে কিছু বিধান। ইসরাইল ১৯৫১ সালে এই কনভেনশনগুলোর অনুমোদন করে। তবে চতুর্থ জেনেভা কনভেনশনের স্বীকৃতি দেয়নি দেশটি।

শিশুদের ওপর যুদ্ধের প্রভাব: গাজার ৯৫ শতাংশ শিশুই যুদ্ধের মানসিক প্রভাব নিয়ে দিন পার করছে। ফিলিস্তিনি এক নারী (৩০) বলেন, তার আট ও দুই বছর বয়সি সন্তানরা ইসরাইলের বিমান হামলার পর অতিরিক্ত ভয় পেয়ে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। 

ফিলিস্তিনি মনোবিজ্ঞানী ড. ইমান ফারাজাল্লাহর লেখা একটি গবেষণাপত্রে দেখা গেছে, যুদ্ধে বেঁচে যাওয়া শিশুরা অবাধে বেড়ে উঠতে পারে না। তাদের মানসিক, আবেগগত ও আচরণগতভাবে উচ্চমূল্য দিতে হয়। কিছু কিছু শিশু অস্থিরতা, রিগ্রেশন অথবা হিংসাত্মক আচরণ প্রদর্শন করে। 

গাজা শহরের চার সন্তানের মা সামাহ জাবর (৩৫) বলেন, ‘তার বড় ছেলে কুসায় (১৩) আজকাল খুব উত্তেজিত থাকে। প্রচুর মারধর করে। যেকোনো শব্দে লাফ দিয়ে উঠে। জোরে কথা বললে সহ্য করতে পারে না।’

স্কুলগুলোর ওপর প্রভাব: গাজায় এখন বেঁচে থাকাই চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। সর্বশেষ হামলায় স্কুলগুলো এখন বন্ধ। অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র পরিণত হয়েছে এগুলো। জাতিসংঘ এখন প্রায় ৪ লাখ বাস্তুচ্যুত গাজাবাসীকে তার স্কুল ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাগুলোতে আশ্রয় দিয়েছে। 

ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা ইএনআরডব্লিউএ’র ২৭৮টি স্কুলের মধ্যে ইসরাইলের বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কমপক্ষে চারটি স্কুল। গাজার আল-ফাখুরা স্কুলে ফিলিস্তিনিদের জন্য বৃত্তি প্রদানকারী এডুকেশন অ্যাবাভ অল (ইএএ) ফাউন্ডেশন মঙ্গলবার ধ্বংস হয়ে গেছে।

খাদ্য ও পানির অভাবের প্রভাব পড়ছে শিশুদের ওপর: ইসরাইলের সম্পূর্ণ অবরোধরে কারণে গাজা খাবার আর পানির অভাবে ভুগছে। আর এই প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে শিশুদের ওপর। শিশুদেরই ডিহাইড্রেশনে আর অপুষ্টিতে ভোগার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। 

ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের (ডব্লিউএফপি) এক জেরুজালেম-ভিত্তিক পুষ্টিবিদ বলেন, নিরাপদ পানির অভাবে শিশুরা ডায়রিয়াজনিত রোগের উচ্চঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারেন।

 

 

কিউটিভি/আয়শা/২৫ অক্টোবর ২০২৩,/রাত ৯:৫৪

▎সর্বশেষ

ad