ইউরেনিয়াম থেকে যেভাবে হবে বিদ্যুৎ

Ayesha Siddika | আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০২৩ - ০৩:৫৫:১৪ পিএম

ডেস্ক নিউজ : রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র দিয়ে পারমাণবিক শক্তির যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়াম ব্যাবহার করে এই কেন্দ্র থেকে মিলবে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। ইউরেনিয়ামের শক্তি অন্যান্য জ্বালানির তুলনায় অনেকগুণ বেশি। পারমাণবিক জ্বালানি শক্তির মূল উপাদান হলো ক্ষুদ্র আকৃতির ইউরেনিয়াম পেলেট। এরকম কয়েকশ পেলেট একটি নিচ্ছিদ্র ধাতব টিউবে ঢোকানো থাকে। এ ধাতব টিউবই ফুয়েল রড হিসেবে পরিচিত। অনেক ফুয়েল রড একসঙ্গে যুক্ত করে তৈরি হয় ফুয়েল অ্যাসেম্বলি। একটি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি লম্বায় সাড়ে তিন থেকে সাড়ে চার মিটার পর্যন্ত হয়। আর এরকম ফুয়েল অ্যাসেম্বলি জ্বালানি হিসেবে রিঅ্যাক্টরে লোড করা হয়। বাংলাদেশে ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি চুল্লিতে এমন ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি লোড করা হবে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রে উচ্চ তাপমাত্রায় ইউরেনিয়াম পোড়ানোর পর যে তাপশক্তি উৎপন্ন হয়, সেটিকে কাজে লাগিয়ে পানিকে বাষ্পে পরিণত করে টারবাইন ঘোরানোর ফলে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করে। ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি থেকে আবার ব্যবহারযোগ্য জ্বালানি পাওয়া যায় বিধায় অনেকে এ জ্বালানিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি হিসেবেও অভিহিত করেন। বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে ইউরেনিয়াম হলো কয়লা ও জ্বালানি তেলের চেয়ে সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব। এক কেজি ইউরেনিয়ামের জ্বালানি সক্ষমতা ৬০ টন ডিজেল ও শত টন কয়লার সমান। রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে প্রায় ১১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে।

এজন্য দেড় বছরে গড়ে দরকার হবে প্রায় ২৫ টন ইউরেনিয়াম। যার জন্য ব্যয় (বর্তমান দর অনুযায়ী) হবে মাত্র এক হাজার কোটি টাকার মতো। অথচ এ পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে দেড় বছরে প্রায় এক কোটি টন কয়লা, ১৯ কোটি গ্যালন ডিজেলের প্রয়োজন পড়বে। এ পরিমাণ কয়লা ও তেল কিনতে লাগবে যথাক্রমে ৭ হাজার ৩০০ ও ৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। কয়লা ও তেল ব্যবহার যেমন ব্যয়বহুল, তেমনি এসব জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে পরিবেশেরও মারাত্মক ক্ষতি হয়। কিন্তু দুর্ঘটনাজনিত বিস্ফোরণ ছাড়া ইউরেনিয়াম থেকে পরিবেশ দূষণের কোনো সুযোগ নেই। ইউরেনিয়াম হলো ধাতব পদার্থ। খনির আকরিক থেকে নানা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তৈরি করা হয় এ জ্বালানি।

 

 

কিউটিভি/আয়শা/০৫ অক্টোবর ২০২৩,/বিকাল ৩:৫৩

▎সর্বশেষ

ad