আসাম রাজ্যের গৌহাটিতে গত সোমবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গা গরমের শেষ ম্যাচটি খেলে গতকাল টিম টাইগার্স চার্টার্ড ফ্লাইটে উড়াল দেয় হিমাচল প্রদেশের শীতকালীন রাজধানী ধর্মশালায়। চায়ের জন্য বিখ্যাত উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্য আসাম সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৫০ ফুট ওপরে অবস্থিত। যেখানে অনেকটা সিলেটের আবহাওয়া পাওয়া যায়। কিন্তু বরফের পাহাড় দেখা যায় যে জায়গায় সেই ধর্মশালা সমুদ্র থেকে ৬ হাজার ৭২৬ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। প্রস্তুতিপর্ব যেখানে সেরেছে সেখান থেকে একদম বিপরীত কন্ডিশনে আগামী ৭ অক্টোবর নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবেন সাকিব আল হাসানরা।
ধর্মশালায় আফগানিস্তান ছাড়াও ১০ অক্টোবর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আরেকটি ম্যাচ খেলবেন তারা। পর্বতে ঘেরা অঞ্চলে দুই ম্যাচ খেলে নাজমুল হোসেন শান্তরা যাবেন চেন্নাইতে। বিমান পথের কমার্শিয়াল ফ্লাইটে দুই রাজ্যের দূরত্ব ৭ ঘণ্টার। চেন্নাই আবার সমুদ্র তীরবর্তী শহর। সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা হয়তো ক্রিকেটারদের ক্লান্তি দূর করে দিতে পারে। তবে পরক্ষণে আবার চিন্তার কারণ হতে পারে। পাহাড়ি একটা অঞ্চলে ৭ দিন থেকে আসার পর আরও একটা বিরুদ্ধ কন্ডিশন! দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়– রাজ্যের রাজধানীটির সমুদ্রতল থেকে উচ্চতা মাত্র ২২ ফুট। এই মাঠে বাংলাদেশকে খেলতে হবে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে।
চিদাম্বরম ক্রিকেট স্টেডিয়ামে একটি ম্যাচ খেলে আবার পুনের পথ ধরবে বাংলাদেশ। বিমানে আরও একটা দেড় ঘণ্টার ভ্রমণ পথ। বিমান থেকে নেমে কিছুটা চেনাজানা একটা কন্ডিশন পাবেন মেহেদী হাসান মিরাজরা। মহারাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের মাঠে তারা মুখোমুখি হবেন ভারতের। পুনের আবহাওয়ার অনেকটাই বাংলাদেশের মতো। কিন্তু ১৯ অক্টোবরের এই ম্যাচটি যখন শেষ হবে, টাইগারদের তখন ধরতে হবে মুম্বাইয়ের পথ। সাড়ে ৩ ঘণ্টার সড়কপথে এবার যেতে হবে তাদের। ২৪ অক্টোবর তাদের নামতে হবে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। তারপর চন্ডিকা হাথুরুসিংহের শিষ্যরা ধরবেন কলকাতার পথ। আড়াই ঘণ্টায় আকাশপথে এসে ২৮ অক্টোবর নেদারল্যান্ডস এবং ৩১ অক্টোবর পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলবে কলকাতার ইডেন গার্ডেনে। এই কয়েকটি ম্যাচের কন্ডিশন বাংলাদেশের মতোই। সেই ম্যাচ শেষে দিল্লির অরুন জেটলি স্টেডিয়ামে ৬ নভেম্বরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে, সেটা শেষ হলে বাংলাদেশকে আবার ফিরে যেতে হবে পুনেতে। এটাও ২ ঘণ্টার বিমানপথ। সেখানে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপের রাউন্ড রবিন লিগ শেষ করবে বাংলাদেশ।
সেই রাউন্ড রবিন লিগের প্রথম ম্যাচ খেলার লক্ষ্যে টিম টাইগার্স গতকাল ধর্মশালায় গিয়েছে। তবে দলের সঙ্গে যাননি অধিনায়ক সাকিব। আহমেদাবাদে ১০ দলের অধিনায়ককে নিয়ে আয়োজিত ‘ক্যাপ্টেনস ডে’তে অংশ নিতে তিনি গেছেন সেখানে। সেটা শেষ করে ধর্মশালায় দলের সঙ্গে যোগ দেবেন সাকিব ও আফগান অধিনায়ক আজমতউল্লাহ শাহিদি। ৬ ঘণ্টার বিমানপথের ভ্রমণ ক্লান্তি সঙ্গে নিয়ে যাবেন তারা। যদিও এসব ভ্রমণে অভ্যস্ত টাইগার দলপতি। কিন্তু বাকিদের এসব ধকল নিয়েই চলতে হবে।
শুধু ইংল্যান্ড অধিনায়ক জস বাটলার ও নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন ছাড়া বাকি সবাই ছুটে যাবেন একেক রাজ্যে। ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মাকেও ধরতে হবে চেন্নাইয়ের ফ্লাইট। রোহিতদের বিশ্বকাপের গা গরমের ম্যাচ দুটি ভাসিয়ে নিয়ে গেছে বেরসিক বৃষ্টি। টুর্নামেন্টে তারা খেলতে নামছে কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে কদিন আগে খেলা ৩ ম্যাচের সিরিজটার প্রস্তুতি নিয়েই ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জয়ের মিশনে নামতে হবে রোহিত-কোহলিদের।
ভ্রমণ ক্লান্তির এই বিশ্বকাপের আগে ক্রিকেটার ও দর্শকদের মনোরঞ্জনের জন্য রাখা হয়েছিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। যেখানে বলিউডের তারকাদের মঞ্চ মাতানোর কথা ছিল। কিন্তু উদ্বোধনী ম্যাচের আগে ক্যাপ্টেনস ডে রাখা হলেও শিডিউলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান রাখা হয়নি।







