
ডেস্ক নিউজ : দাদা, বাবা এমন কী চাচার -আওয়ামী লীগের জন্য অবদান কী ছিল, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সম্পর্ক কী ছিল তা তুলে ধরে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য রেখেছেন অন্তত দুই ডজন সংসদ সদস্য। সংসদের বিশেষ এ অধিবেশনে দাদা, বাবা ও চাচাকে স্মরণ করে রাখা বক্তব্যে মনে হয়েছে অধিবেশন যেনো ‘পারিবারিক আসর।’সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য জাকিয়া তাবাসসুম তার বক্তব্যে বলেন, আজকে সংসদ অধিবেশনে সবার আলোচনা শুনে মনে হয়েছে আমরা একটা পরিবারে বাস করছি।
জাতীয় সংসদের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে গত শুক্রবার জাতীয় সংসদে স্মারক বক্তব্য দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তৃতীয় দিনে বক্তব্য রাখেন ২৯ জন সংসদ সদস্য। এরমধ্যে চার জন ছাড়া সবাই পারিবারিক ত্যাগ নিয়ে কথা বলেন। যে চার জন বাবা-দাদার নাম স্মরণ করেননি তারা হলেন- আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার ও কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক।
সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য তাবাসসুম বলেন, আমার এতখানি অভিজ্ঞতা ছিল না! প্রধানমন্ত্রী কতখানি মহান, কতখানি উদার..আমাদের বাবারা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে রাজনীতি করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের ছেলে-মেয়েদের সংসদে রাজনীতিতে নিয়ে এসেছেন। আজকে আমি কৃতজ্ঞ শেখ হাসিনার প্রতি, তিনি আমাকেও এই সুযোগ দিয়েছেন। জাকিয়া তাবাসসুমের পিতা দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আজিজুর রহমান কলকাতা ইসলামিয়া কলেজের ছাত্রবাসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রুমমেট ছিলেন বলেও সংসদে জানান জাকিয়া। এসময় এক মিনিটের বেশি সময় বাবার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন জাকিয়া তাবাসসুম।
জাকিয়া বলেন, বঙ্গবন্ধু যে কত মহান, মহৎ সেটা কবিতা ও গান লিখে শেষ করা যাবে না। তার কন্যা শেখ হাসিনা কত মহৎ তিনি আমাদের খুঁজে খুঁজে বেছে বেছে দায়িত্ব দিয়েছেন। আমাদের সামনে অনেক দায়িত্ব। সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ তার বক্তব্যে বলেন, আমার বাবা গোপালগঞ্জ মহকুমা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। তার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠতার কথা তুলে ধরে বলেন, ১৯৬০ সালে তার বাবা মারা যান।
অন্যদিকে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী তার বাবার কথা স্মরণ না করে তার চাচা সাবেক প্রতিমন্ত্রী আনিসুল হককে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, আমি আমার চাচার উত্তরসূরি হিসেবে এই সংসদে আসার সুযোগ পেয়েছি। সরকার দলীয় সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী বলেন, আমি আজকে বক্তৃতার সুযোগ পেয়েছি আমার বাবার কারণে। আমার বাবা মরহুম কাজী হেদায়েত হোসেন ১৯৬২ সালে এমসিই ও ১৯৭০ সালের গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার পিতাকে স্নেহ করতেন জানিয়ে কেরামত আলী বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৮ আগস্ট তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধু যেমনিভাবে আমার পিতাকে ভালোবাসতেন, স্নেহ করতেন, ঠিক তেমনিভাবে শেখ হাসিনা আমাকেও ভালোবাসেন, স্নেহ করেন। সেইজন্য তিনি আমাকে সাতবার মনোনয়ন দিয়েছেন। আমার সংসদের বয়স ২৩ বছর।
আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী বলেন, এই সংসদে আমার শ্রদ্ধেয় চাচা আনিসুল হক চৌধুরী ১৯৭৩ সালে জাতির পিতার সঙ্গে কাজ করেছেন। জাতির পিতা এই সংসদকে জনগণের অধিকার আদায়ে কথা বলার জন্য প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের অধিকার আদায়ে কাজ করেছেন সংসদে। যে সংসদে আমার চাচা একদিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কাজ করেছিলেন। সেই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু কন্যার সঙ্গে কাজ করবার সুযোগ পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে করছি।
গত শনিবার সংসদে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয় বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, নাতি কোটায় আমাকে অল্প একটু সময় বাড়িয়ে দিয়েন, প্লিজ মাননীয় স্পিকার।’ তানভীর শাকিল জয়ের দাদা ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর কারাগারে বিপথগামী সেনাদের হাতে নিহত হন। জয়ের বাবা মোহাম্মদ নাসিম সরকারের মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন।
শুক্রবার জাতীয় সংসদের স্মারক বক্তৃতায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, আমার নিজেকে খুব সৌভাগ্যবান মনে হয় যখন দেখি যে বর্তমান সংসদেও গণপরিষদ ও প্রথম জাতীয় সংসদের আমি যাদের সঙ্গে সদস্য ছিলাম, তাদের অনেকের ছেলেমেয়ে এমনকি নাতিরাও সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তারপর থেকেই দাদা, বাবা ও চাচাকে টেনে এনে সংসদে বক্তব্য রাখা শুরু হয়।
কিউটিভি/আয়শা/০৯ এপ্রিল ২০২৩,/সন্ধ্যা ৭:৩০






