আট বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়া শাখাগুলোর সম্মেলন আয়োজন একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল কেন্দ্রীয় নেতাদের জন্য। দলের গঠনতন্ত্র অনুসারে তিন বছর পর পর সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও অনেক শাখার সম্মেলন হয়েছে দুই যুগ পর। সম্মেলন হওয়ার পর এখন পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের কাজে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যেসব জেলা-উপজেলায় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি, সেগুলোর সম্মেলনও শিগগিরই আয়োজন করা হবে।

ডেস্ক নিউজ : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূলে সংগঠন গুছিয়ে এনেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। তারা গত মাসে দলের ২২তম জাতীয় সম্মেলনের আগে বেশির ভাগ সাংগঠনিক জেলা-উপজেলার সম্মেলনের কাজ শেষ করেছে। এর মধ্যে অন্তত ৬২ উপজেলার সম্মেলন হয়েছে ১৬ থেকে ২৬ বছর পর, ১৬৫ উপজেলার সম্মেলন হয়েছে ছয় থেকে ১৫ বছর পর। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দপ্তরের একাধিক সূত্র এমন তথ্য জানিয়েছে।
দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সারা দেশে আওয়ামী লীগের ৬৮৪টি সাংগঠনিক উপজেলা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দেশের সব উপজেলা, থানা এবং দলের গঠনতন্ত্র বলে উপজেলার মর্যাদাপ্রাপ্ত কিছু পৌরসভা। এসব সাংগঠনিক উপজেলার মধ্যে সাড়ে পাঁচ শতাধিক কমিটির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৩০টির মতো উপজেলা ও উপজেলার মর্যাদাপ্রাপ্ত কমিটির সম্মেলন বাকি রয়েছে। ঢাকা বিভাগের কিশোরগঞ্জে কয়েকটি উপজেলা, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুরের একাধিক উপজেলায় সম্মেলন হয়েছে দেড় থেকে দুই যুগ পর। একই ধরনের সময়ের ব্যবধানে চট্টগ্রাম বিভাগের কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম জেলার কয়েকটি উপজেলার সম্মেলন হয়েছে। ময়মনসিংহ বিভাগের নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ জেলার একাধিক উপজেলার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ১৫ থেকে ২০ বছর পর।
ঢাকা বিভাগে আওয়ামী লীগের ১৭টি সাংগঠনিক জেলা রয়েছে। এর মধ্যে ১১টির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলন বাকি থাকা ছয়টি সাংগঠনিক জেলা হলো কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ মহানগর, মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর, ঢাকা মহানগর উত্তর ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ। সম্মেলন হওয়া ১১ জেলার মধ্যে গত বৃহস্পতিবার অনুমোদন দেওয়া হয় গোপালগঞ্জ ও নরসিংদী জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি। এ নিয়ে ঢাকা বিভাগে মোট চার জেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা বিভাগে সাংগঠনিক উপজেলা ১৭১টি; এর মধ্যে ১৩৫টির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে, ৩৬টির সম্মেলন বাকি আছে।
খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগামী ২৪ জানুয়ারি খুলনা যাচ্ছি। সেখানে বসে ১২ উপজেলার সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করব। আর যে চারটি জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন হয়নি, সেগুলো এ মাসেই শেষ করব।’রাজশাহী বিভাগে আওয়ামী লীগের ৯টি সাংগঠনিক জেলা ও ৮৩টি উপজেলা কমিটি রয়েছে। ৯ জেলা কমিটিরই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রে জমা দেওয়া হয়েছে। ৮৩টি উপজেলা কমিটির তিন-চারটির সম্মেলন বাকি রয়েছে।
রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রাজশাহী বিভাগের সব পর্যায়ের কমিটির প্রায় সব কমিটিরই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দু-একটি যা বাকি আছে, তা অল্প সময়ের মধ্যেই করে ফেলব।’ময়মনসিংহ বিভাগের পাঁচ সাংগঠনিক জেলার সবগুলোরই সম্মেলন হয়েছে। বিভাগের ৪০ সাংগঠনিক উপজেলার মধ্যে ৩২টি উপজেলার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ময়মনসিংহের ভালুকা ও নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পর তা স্থগিত হয়েছে। বিভাগটিতে ১১টি পৌরসভা, ২১০টি ইউনিয়ন ও এক হাজার ৩০৫টি ওয়ার্ডের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ময়মনসিংহ বিভাগে এখন আটটি উপজেলা কমিটির সম্মেলন বাকি রয়েছে।
ময়মনসিংহ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাকি থাকা উপজেলাগুলোর সম্মেলন শিগগিরই অনুষ্ঠিত হবে। আগামী এক মাসের মধ্যে সম্মেলন হওয়া জেলা-উপজেলাগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কাজ শেষ করব।’
চট্টগ্রাম বিভাগের ১৫ সাংগঠনিক জেলার মধ্যে কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম দক্ষিণ, রাঙামাটি, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ও কুমিল্লা মহানগরের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলন বাকি থাকা সাত জেলা হলো চট্টগ্রাম উত্তর, চট্টগ্রাম মহানগর, খাগড়াছড়ি, ফেনী, চাঁদপুর, বান্দরবান ও কুমিল্লা উত্তর। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরের সর্বশেষ সম্মেলন হয় ১৪ বছর আগে ও চাঁদপুর জেলার সম্মেলন হয় ১১ বছর আগে। বাকি পাঁচ জেলার সম্মেলনের পর তিন বছর পেরিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের তিন বছর পূর্ণ হয়নি এখনো। বিভাগটিতে ১৩০ সাংগঠনিক উপজেলা রয়েছে। এর মধ্যে শতাধিক উপজেলার সম্মেলন এরই মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বিভাগের কয়েকটি জেলার ২২-২৫টি উপজেলায় এক থেকে দেড় যুগ পর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোর সম্মেলন দ্রুততম সময়ের মধ্যেই শেষ করব। পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কাজেও গুরুত্ব দিচ্ছি। দলের কমিটিগুলো গঠনের মধ্য দিয়ে আগামী নির্বাচনের জন্য সংগঠনকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।’
রংপুর বিভাগের ৯টি সাংগঠনিক জেলা রয়েছে। এর মধ্যে বিগত কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদে তিনটির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি রংপুর জেলা ও মহানগর কমিটি ভেঙে দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ বিভাগে চার জেলার সম্মেলন বাকি আছে। এগুলো হলো কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট ও নীলফামারী। বিভাগটিতে ৭৮টি সাংগঠনিক উপজেলা কমিটি রয়েছে। এগুলোর অর্ধেকের বেশি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, সিলেটে বন্যার কারণে সুনামগঞ্জের সম্মেলন পিছিয়ে গেছে। এ ছাড়া কয়েকটি উপজেলার সম্মেলন বাকি রয়েছে। এগুলো শিগগিরই অনুষ্ঠিত হবে।
কিউটিভি/আয়শা/২১ জানুয়ারী ২০২৩/সন্ধ্যা ৬:০৮






