
ডেস্ক নিউজ : সিলেটে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা পরিবহন ধর্মঘট আজ শনিবার ভোর ৬টা থেকে শুরু হয়েছে। সিলেট থেকে ঢাকা বা অন্যান্য অঞ্চলে কোনো দূরপাল্লার বাস চলাচল করেনি। জেলার ভেতরেও যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে যানবাহন না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। অনেকে বাস কাউন্টারে বসে সময় পার করছেন। যদিও শুক্রবার থেকেই বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে বলে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
আজ শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার কদতমলী বাস টার্মিনালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাস আর যাত্রীদের কোলাহলে মুখর থাকা টার্মিনাল এলাকায় অনেকটা ভূতুড়ে পরিবেশ। রাস্তার দুই পাশে ও বিভিন্ন কাউন্টারের সামনে শত শত বাস ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। যাত্রীদের কোলাহলও নেই। শুধু বিপদগ্রস্ত যাত্রীরা এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করছেন- কোনো উপায় মিলে কি না সেই আশায়। সিলেটের বাইরে থাকা অনেকে পরিবহন ধর্মঘটে আটকা পড়ায় নিরুপায় হয়ে বাস কাউন্টারে বসে সময় পার করছেন।
চট্টগ্রামের মিরসরাই থেকে পরিবার ও স্বজনসহ ১১ জন নিয়ে সিলেট ঘুরতে এসে বিড়ম্বনায় পড়েছেন ফিরোজ খান। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সিলেটে ঘুরতে এসেছিলাম পরিবার ও স্বজনদের নিয়ে। শুক্রবার রাতে আমাদের ফেরার কথা থাকলেও বাস না থাকায় আটকা পড়েছি। এখন শনিবার রাত ৯টার টিকিট কেটে বসে অপেক্ষা করছি। ’ এতজন মানুষ নিয়ে হঠাৎ বিপদেই পড়েছেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘দু-একজন হলে চলাচল করা বা সময় পার করে দেওয়া সহজ। কিন্তু ১১ জন মানুষকে এভাবে অনিশ্চিত সময় পার করা বেশ কঠিন। ’
একই বিড়ম্বনায় পড়েছেন নরসিংদী থেকে আসা ষাটোর্ধ্ব সার্জন মোতালেব। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভাইয়ের বাসায় বেড়াতে এসেছিলাম। কিছুদিন থাকার ইচ্ছা ছিল। এখন জরুরি কাজ পড়ে যাওয়ায় ফিরতে হচ্ছে। কিন্তু যাব কিভাবে কোনো বাসই ছাড়ছে না। ’ ট্রেনের টিকিটও নাই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভেবেছিলাম ট্রেনে যাব। কিন্তু সেখানেও চাপ। স্ট্যান্ডিং টিকিট আছে। কিন্তু এই বয়সে স্ট্যান্ডিং টিকিটে এতদূর যাওয়া সম্ভব নয়। ’
কদমতলী বাস টার্মিনাল এলাকায় শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টারে গিয়ে দেখা গেল শাটার অর্ধেকটা নামানো। ভেতরে পাওয়া গেল নিরাপত্তাকর্মী আব্দুল কাদিরকে। তিনি কালের কণ্ঠকে বললেন, ‘ধর্মঘটের কারণে কোনো বাস আজ ছাড়েনি। গতকাল শুক্রবার থেকেই বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। ’ কখন ফের শুরু হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ধর্মঘট শেষ হলে সন্ধ্যার পরই বাস চলা শুরু হতে পারে। ’একই চিত্র অন্য বাস কাউন্টারগুলোরও। কোথাও নিরাপত্তাকর্মী বসে আছেন, আবার কোথাও অফিস সহকারী। কোনোটির আবার কাউন্টার খোলাই হয়নি। তবে বেশির ভাগ কাউন্টারেই ব্যবস্থাপক বা বিক্রয় প্রতিনিধি আসেননি।
কিউটিভি/আয়শা/১৯ নভেম্বর ২০২২,খ্রিস্টাব্দ/বিকাল ৪:২৫

