প্রিয় নেহা

superadmin | আপডেট: ২৯ জুন ২০২২ - ০৯:৩২:১৩ পিএম

প্রিয় নেহা
————

এই বর্ষাকালটা ভারি সুন্দর। প্রতি বছর চারপাশের কয়েকটা নদী পাল্লা দিয়ে ছাপিয়ে ওঠে, তারপর লোক চক্ষুকে প্রায় ফাঁকি দিয়ে আস্তে আস্তে ঢোকে গ্রামের ভেতর খেলার মাঠ, ঘরের আঙিনায় থৈ থৈ করে নির্মল পানি।

রুখু রুখু চেহারার জনপদ তখন বন্য লাবণ্যে মায়াময় হয়ে ওঠে। হাঁসগুলো নতুন পানিতে খলবল শব্দ তুলে নাইতে নামে। কী তাদের আনন্দ ! দেখেও সুখ।

ঠিক এই সময়ে ‘নেহা’ নিতীর কোলে এলো। যেন হিজল ডালে একটা সবজে নীল মাছরাঙা। এ এক অলিখিত সম্পর্ক। একটা আধডোবা খাড়া কঞ্চির উপরে বসলেও মাছরাঙার উদ্দেশ্য সফল হবে তবু হিজলের একটা শাখা, গোছা গোছা পাতার মনোরম একটা আড়াল যখন সে বেছে নেয়, তখন একধরণের নির্ভরশীলতা সত্য হয়ে ওঠে। বড় আপন এই সম্পর্ক আর পৃথিবীর সবচাইতে সুন্দর দৃশ্য ।

নীতির সেই মাছরাঙা পাখিটা এখন দিব্যি বড় হয়ে গেছে। মেপে দেখেছি, প্রায় আমার সমান। কিন্তু ওর মনটা জলে ডোবা ঘাসের মতন সবুজ, সতেজ কিন্তু ‘বড্ড নরম। ‘

নেহা মাগো

একজন সত্যিকারের মজবুত মানুষ হতে কী লাগে জানো? শক্ত দুটি হাত। তোমার কাঁধের দুইপাশ থেকে শক্ত করে দুই হাত দিয়ে জড়িয়ে আছে তোমার বাবা মা। একদিন তুমি যেন তোমার দুই হাত দিয়ে মা বাবার হাত আরো মজবুত করতে পারো। আমার এই শুভকামনা রইল।

দুই একটা নাটবল্টু খুলে নিলে যেমন পদ্মা সেতুর কিছু যায় আসে না। তেমন পরীক্ষাময় এই জীবনে দুই একবার প্রথম না হওয়াতেও কিছু যায় আসে না। শক্ত পিলার আর স্প্যানের মতো তোমার মা বাবাতো পাশে আছেই !

যারা সৎ থাকে আল্লাহ্‌ সব সময় তাদের সাথে থাকেন। দোয়া করছি অনেক বড় মজবুত মানুষ হও। শুভ জন্মদিন ‘নেহা’
আম্মি।

 

লেখিকাঃ নিতু ইসলাম নিয়মিত সাহিত্য চর্চা করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর আবেগঘন লেখা হাহাকার সৃষ্টি করে। পাঠকের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। পেশাগত জীবনে গৃহিণী। নিতু ইসলাম এর বেড়ে ওঠা ও পড়াশোনা পাবনা জেলায়। রাঁধতে, বই পড়তে,ও লিখতে ভালোবাসেন। পাবনার আদি নিবাসেই তাঁর জীবন যাপন। এই লেখাটি তাঁর ফেসবুক টাইমলাইন থেকে সংগৃহিত।

 

 

কিউএনবি/বিপুল/২৯.০৬.২০২২/ রাত ৯.২০

▎সর্বশেষ

ad