হুইলচেয়ার

superadmin | আপডেট: ২৩ জুন ২০২২ - ১২:৩৮:০২ পিএম

হুইলচেয়ার
————–
সকালটা খুব ছোট্ট একটা ভালো লাগার মতো ঘটনা দিয়ে শুরু হলো। বাসা থেকে অফিসে যাওয়ার জন্য ট্রাম স্টেশনের দিকে যাচ্ছিলাম। রাস্তা পার হবো, হঠাৎ শুনি পাশে থেকে কেউ একজন ডাকছে। তাকিয়ে দেখি শারীরিক প্রতিবন্ধী একজন লোক যিনি হুইলচেয়ারে বসে আছেন যার দুটি পা নেই। তিনি রাস্তাটা পার করে দিতে বলছেন।

এই ধরনের মানুষদের এখানে অনেকেরই অত্যাধুনিক অটোমেটিক হুইল চেয়ার রয়েছে যেটা অনেকটা গাড়ির মতো চলে এবং সম্পূর্ণ ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এর সাহায্যে তারা রাস্তাঘাটে চলাচল থেকে শুরু করে মার্কেট, বাজার-সদাই সবই করেন অনায়াসে। এরা নিজেরাও রাস্তা পার হতে পারেন তবে বলার অপেক্ষা রাখে না সেটা কিছুটা রিস্কি বটে। এই ভদ্রলোকের হুইল চেয়ার ততটা আধুনিক নয়, মাথার এক জায়গায় দেখলাম ঘায়ের মত হয়ে আছে, হয়তো যত্ন নেই। গলার আওয়াজটাও অস্পষ্ট, ক্ষীণ।

কালবিলম্ব করলাম না তাকে হুইল চেয়ার ঠেলে রাস্তা পার করে দিলাম। তিনি একটি ক্যাফেবারের দরজার সামনে হুইলচেয়ার ঘুরিয়ে থামলেন এবং করুন দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলেন। ক্যাফের মালিক হয়তো পরিচিত। ফ্রিতে হয়তোবা ক্যাফে (কফি) দেন সকালবেলা। রাস্তা পার করে দেয়ার সামান্য কাজটুকুর জন্য প্রথমে একটু ভালো লাগলেও পরে কষ্ট হতে লাগলো। কত অসহায় পরনির্ভরশীল এই জীবন বয়ে বেড়ানো, আত্মবিশ্বাস নেই, সম্মান নেই, সবাইকে মেরছি(ধন্যবাদ) দিতে দিতে হয়তোবা তার প্রতিটি দিন তার কাটে।

সবাই এক রকম নয়, অনেকে হয়তোবা আরো ভালো আছে। আবার অনেক সুস্হ মানুষকে দেখেছি সরকারের কাছে থেকে মোটা অংকের ভাতা খাওয়ার জন্য পংগুত্বের অভিনয় করছেন, তাও আবার বাংলাদেশের মানুষ (এই দুঃখ কোথায় রাখি)। আল্লাহ পাক হেদায়েত করুক। অনেক ভালো আছি আমরা শোকর আলহামদুলিল্লাহ। এই অসহায় মানুষ গুলোকে আমরা যেন সম্মান ও সহানুভূতির চোখে দেখতে পারি। আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে সেই তওফিক দান করুক। আমিন।

 

 

লেখিকাঃ শারমিন জাহান। শিল্প সংস্কৃতির শহর প্যারিসে বসবাস করছেন। পেশায় কম্পিউটার ও টেলিকম প্রকৌশলী। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির সাথে জড়িত। এ পর্যন্ত বই বেরিয়েছে চারটি। এছাড়াও বিভিন্ন সংকলন, জাতীয় দৈনিকে লেখা বেরিয়েছে।

লেখালেখি ছাড়াও আবৃত্তি, ছবি আঁকা, ফটোগ্রাফি করতে পছন্দ করেন। ছবি এঁকে পেয়েছেন একাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার। আবৃত্তির জন্য আমন্ত্রিত হয়েছেন নিউজার্সিতে অনুষ্ঠিত বঙ্গ সম্মেলনে। জনপ্রিয় ভার্চুয়াল শোসিও কালচারাল সংগঠন মনের জানালার প্রতিষ্ঠাতা এডমিন হিসেবে মানুষ ও সমাজের জন্য কাজ করার চেষ্টা করে চলেছেন। শারমিন জাহান এর ফেসবুক পেজ থেকে লেখাটি সংগৃহিত।

 

 

কিউএনবি/বিপুল/২৩.০৬.২০২২/ দুপুর ১২.৩০

▎সর্বশেষ

ad