স্পোর্টস ডেস্ক : চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সর্বোচ্চ ১৩ বারের চ্যাম্পিয়নরা মাঠে নামে আসরের বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের সাথে। তবে ঘরের মাঠ বার্নাব্যুতে রিয়ালকে যেন কোণঠাসা করে রেখেছিল চেলসি। প্রথম লেগে ঘরের মাঠ স্টামফোর্ড ব্রিজে ৩-১ ব্যবধানে হারের পর টুখেলের শিষ্যরা যেন নতুনভাবে জ¦লে ওঠে। গতকাল রাতে ম্যাচের একটা সময় তারা ৩-০ গোলে এগিয়ে গেলে তো মনেই হচ্ছিল অঘটন ঘটিয়েই শেষ চার নিশ্চিত করতে চলেছে চেলসি। কিন্তু খেলার শেষটায় সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে আরো একবার বেনজেমার জাদুতেই ৩-২ গোলে হেরেও শেষ চারে জায়গা করে নিল রিয়াল মাদ্রিদ। এর আগে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোতে ঘরের মাঠে পিএসজির বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও করিম বেনজেমার হ্যাটট্রিকে শেষ আটে জায়গা করে নেয় রিয়াল মাদ্রিদ। এরপর শেষ আটের প্রথম লেগেও হ্যাটট্রিকের পর দ্বিতীয় লেগে দলের জয়ও নিশ্চিত হয়েছে তার গোলেই। প্রথম লেগের ৩-১ ব্যবধানে জয়ের সুবাদে দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৪ গোলের এগিয়ে থেকেই শেষ চারে উঠেছেন কার্লো ভিনিসিয়াস-বেনজেমারা।
প্রথমার্ধে ১৫ মিনিটের মধ্যেই ম্যাসন মাউন্টের গোলে এগিয়ে যায় চেলসি। রুবেন লোফটাস-চিকের ফ্লিকে হাঁটুর টোকায় টিমো ওয়ার্না বক্সে বল বাড়ালে ছুটে গিয়ে প্রথম ছোঁয়ায় জোরালো শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন মাউন্ট। এরপর ম্যাচের ৩৪ মিনিটে অনেক দূর থেকে জোরালো শটে আরেক দফা ভীতি ছড়ান রুডিগার। তবে বল পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। প্রথমার্ধের লড়াইটা চেলসি যে একপেশে করে রেখেছিল, তা ম্যাচ পরিসংখ্যানেই ফুটে ওঠে। গোলের উদ্দেশ্যে চেলসির নেয়া সাত শটের দুটি লক্ষ্যে থাকলেও রিয়ালের তিনটি শট তেমন ভীতি ছড়াতে পারেনি চেলসি গোলরক্ষককে। দ্বিতীয়ার্ধেও রিয়াল নিষ্প্রাণ ফুটবল খেলতে থাকলে ৫১তম মিনিটে ডিফেন্ডার রুডিগারের গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করার পাশাপাশি দুই লেগ মিলিয়ে স্কোরলাইনে সমতা টানে শিরোপাধারীরা।
গোল হতে পারত আগের মিনিটেই, তবে রিস জেমসের বক্সের বাইরে থেকে নেয়া শট পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে গেলে বল মদ্রিচের পায়ে লেগে গিয়েছিল ভেবে কর্নার দেন রেফারি। এরপর যদিও রিপ্লেতে দেখা যায়, তার পায়ে বল স্পর্শ করেনি। আর এই কর্নার থেকেই দারুণ হেডে চেলসির ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রুডিগার। এরপর আরো একবার মার্কোস আলানসো জালে বল পাঠালেও বল তার আঙুল ছোঁয়ায় ভিএআর বাঁচিয়ে দেয় রিয়ালকে। ৬৬ মিনিটে গোল পেতে পারতেন করিম বেনজেমা। কিন্তু তার হেডে বল ক্রসবারে বাধা পায়। শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে ৭৫তম মিনিটে একক নৈপুণ্যে বার্নাব্যুকে স্তব্ধ করে দেন টিমো ওয়ার্নার। বক্সে বল পায়ে ঢুকে প্রথমে দানি কারভাহালকে কাটিয়ে দাভিদ আলাবার বাধা এড়িয়ে শট নেন জার্মান ফরোয়ার্ড। গোলরক্ষক কোর্তোয়ার গায়ে লেগে বল জড়িয়ে যায় জালে। ম্যাচের স্কোরলাইন ৩-০, দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৩ গোলে এগিয়ে চেলসি। যেন সেমিফাইনালে ওঠার স্বপ্নই দেখছিল ইংলিশ ক্লাবটি। এরপর ৭৮তম মিনিটে আক্রমণের ধার বাড়াতে কাসেমিরোকে তুলে রদ্রিগোকে নামান আনচেলত্তি। এর দুই মিনিট পরই ম্যাচের ৮০ মিনিটে মদ্রিচের অসাধারণ এক ক্রসে দারুণ ভলিতে বল জালে জড়ান এই তরুণ ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। এতেই আবার নতুন করে জেগে ওঠে বার্নাব্যু।
নির্ধারিত সময়ে দুই লেগ মিলিয়ে ফলাফল ৪-৪ থাকায় খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। আর তখনই বেনজেমার জাদুতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আরো এক ধাপ এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। বাঁ দিকের ব্রাজিলিয়ান সতীর্থ ভিনিসিউসের ক্রস ফাঁকায় পেয়ে অনায়াসে হেডে লক্ষ্যভেদ করেন ফরাসি স্ট্রাইকার করিম বেনজেমা। আর এই গোলেই খেলার শেষ পর্যন্ত ফলাফল ৫-৪ নিয়েই জয় নিশ্চিত করে আনচেলেত্তির শিষ্যরা। উল্লাসে মেতে ওঠে বার্নাব্যু। আসরে বেনজেমার গোল হলো ১২টি। তার চেয়ে একটি গোল বেশি করে তালিকার শীর্ষে বায়ার্ন মিউনিখের রবার্ট লেভানদোভস্কি। রাতের আরেক ম্যাচে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় বায়ার্নের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে দুই লেগ মিলিয়ে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ১৬ বছর পর সেমিফাইনাল নিশ্চিত করল ভিয়ারিয়াল। ভিলারিয়াল একরকম অঘটনই ঘটিয়েছে। প্রথম লেগে ঘরের মাঠে ১-০ গোলে জিতেছিল তারা। ফিরতি লেগে রুখে দিয়ে সেমিফাইনালে নাম লেখায় ইউনাই এমরির শিষ্যরা। সর্বশেষ ২০০৬ সালে ইন্টার মিলানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে ওঠে স্প্যানিশ ক্লাবটি। এর ১৬ বছর পর বায়ার্নের মতো বড় দলকে হারিয়ে আবার সেমিফাইনালে নাম লেখাল তারা।
ঘরের মাঠে বায়ার্ন প্রথমার্ধে কোনো গোলের দেখা না পেলেও বিরতি থেকেই ফিরেই ৫২ মিনিটে থমাস মুলারের বাড়ানো বলে বক্সের লাইনের সামনে থেকে শট নেন পোরিশ স্ট্রাইকার রবার্ট লেভানদোভস্কি। পোস্টে লেগে বল জালে জড়ালে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বায়ার্ন। এরপর ৮৮ মিনিটে বামদিক থেকে জেরার্ড মরেনো বক্সের মধ্যে বল বাড়ালে বাম পায়ের শটে বায়ার্নের গোলরক্ষক ম্যানুয়েল ন্যয়ারের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়ান স্যামুয়েল স্যামুয়েল চুকুয়েজ। আর এতেই সেমি নিশ্চিত হয়ে যায় ভিলারিয়ালের। এর আগে শেষ ষোলোর ম্যাচে ইতালিয়ান জায়ান্ট জুভেন্টাসকে তাদের ঘরের মাঠে হারিয়েই ১৩ বছর পর কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে ভিলারিয়াল।
কিউটিভি/আয়শা/১৪ই এপ্রিল, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ/বিকাল ৫:২৩






