আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউক্রেনের একজন এমপি রাশিয়ার বিরুদ্ধে বন্দর শহর মারিউপোলকে অনাহারে রেখে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার চেষ্টার অভিযোগ করেছেন। ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ আত্মসমর্পণের জন্য রাশিয়ার বেঁধে দেওয়া সময়সীমা প্রত্যাখ্যান করার পর এমপি দিমিত্রো গুরিন এ কথা বললেন। রাশিয়া মারিউপোল শহরকে রক্ষা করে যাওয়া ইউক্রেনীয় সেনা, কথিত ভাড়াটে যোদ্ধা যোদ্ধা ও সাধারণ নাগরিকদের নিরাপদে বের হয়ে যেতে দেওয়ার বিনিময়ে শহরটি ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব করেছিল। শর্ত দেওয়া হয়েছিল ইউক্রেনীয় সেনাদের সোমবার ভোর ৫টার মধ্যে অস্ত্র রুশ সেনাদের হাতে তুলে দিয়ে শহর ছাড়তে হবে।
দক্ষিণের বন্দরনগরী মারিউপোল রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত লক্ষ্য। প্রায় ৩ লাখ মানুষ এখনো সেখানে আটকা পড়ে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শহরের মানুষের খাদ্যসহ জরুরি জিনিসপত্রের সরবরাহ শেষ হয়ে গেছে। যুদ্ধের কারণে বাইরে থেকে সাহায্য প্রবেশও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এমপি গুরিন বলেন, মারিউপোলের আত্মসমর্পণের কোনো প্রশ্নই আসে না। তিনি বলেন, ‘রুশরা মানবিক করিডোর খুলছে না, মানবিক সহায়তার বহরকে শহরে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। আমরা এখন স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, রুশদের লক্ষ্য হচ্ছে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে তাদের অবস্থানই চাপিয়ে দেওয়ার জন্য শহরে ক্ষুধার প্রক্রিয়া সৃষ্টি করা। ’
‘যদি শহরটি আত্মসমর্পণ না করে এবং এ শহর আত্মসমর্পণ করবেও না- তাহলে তারা মানুষকে বের হতে দেবে না। মানবিক সহায়তা বহরকেও শহরে ঢুকতে দেবে না’, বলেন এমপি দিমিত্রো গুরিন। রাশিয়ার বাহিনী বলেছিল, ইউক্রেনীয় সেনা ও যোদ্ধারা শহর থেকে সরে যাওয়ার দুই ঘণ্টা পর রাস্তায় পাতা মাইন নিষ্ক্রিয় করা সাপেক্ষে খাদ্য, ওষুধ এবং অন্যান্য রসদসহ মানবিক সহায়তার বহরকে নিরাপদে শহরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে। কিন্তু রাশিয়ার ঘোষিত সময়সীমা এসে চলেও গেছে। রাশিয়া মারিউপোল শহর দখল করতে পারলে তারা রুশ-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রিত দোনেত্স্ক এবং লুহানস্কের সঙ্গে ক্রিমিয়ার একটি স্থল করিডোর তৈরি করতে পারবে।
সূত্র: বিবিসি
কিউটিভি/আয়শা/২১শে মার্চ, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ/সন্ধ্যা ৭:৫৫





