বোয়িং ৭৪৭ নিয়ে আকাশে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন বেলজিয়ামের সুন্দরী!

admin | আপডেট: ০৯ জানুয়ারী ২০২২ - ০৪:৪৪:২৮ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইংরেজি শব্দ ‘ডাম্ব ব্লন্ড’ মানে হলো— ‘সুন্দরী মানেই বুদ্ধিহীন’। এই ধারণাকেই ভেঙে খানখান করে দিয়েছেন বেলজিয়ামের ২৭ বছর বয়সি সুন্দরী কিম ডি ক্লপ। ‘ডাম্ব ব্লন্ড’ নামে প্রচলিত মিথকে মিথ্যে করে দিয়ে কিম এ বয়সেই বোয়িং ৭৪৭ বিমানের চালক। সেই বিমান নিয়ে উড়ে বেড়াচ্ছেন আমেরিকা থেকে চীনের শহরে শহরে। খবর ডেইলি মেইলের।

বেলজিয়ামের এই সুন্দরী বলেন, ১৯ বছর বয়সে ঠিক করেছিলাম, পাইলট হব। তখন থেকেই সে পথে দৌড় শুরু। বিমানচালক হওয়ার জন্য বছর দুয়েক ধরে রোমানিয়ায় কড়া প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন কিম। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথমবার সে দেশের ৭৩৭ বিমান চালানোর লাইসেন্স পান। রোমানিয়ার বিমান সংস্থা ‘ব্লু এয়ার’-এর চালকের পোশাকে সেলফিও তোলেন তিনি। সে ছবিও নিজের ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন ২১ বছরের কিম। ৬ বছর পর এখন জাম্বো জেট চালাচ্ছেন এই সুন্দরী।

বছর দুয়েক ধরে ‘ব্লু এয়ার’-এর বিমান উড়ানোর পর ২০১৭ সালে ওই সংস্থার কাজ ছেড়ে দেন কিম। এর পরের যাত্রা ‘নরওয়েজিয়ান’-এ। নরওয়ের ওই সংস্থায় পা রেখেই তার ইনস্টাগ্রামে বিমানচালকের পোশাকে সেলফির নিচে লিখে দেন— ‘নতুন জীবন, নতুন স্টাইল’! ১০ হাজারের বেশি ভক্ত সে ছবি পছন্দ করেছিলেন।

নতুন সংস্থায় যোগ দেওয়ার পর কিমের ঘরবাড়িও বদল হয়েছিল। এবার তার আবাস স্পেনের বন্দর শহর আলিকান্তে। কিম জানিয়েছেন, বেলজিয়ামের তুলনায় সেখানকার জিনিসপত্রের দাম বেশ কম। ফলে বিমানবন্দরের কাছেই একটি বাড়ি কিনে ফেলেন তিনি।

কাকতালীয়ভাবে, নতুন বাড়ি কেনার সঙ্গে সঙ্গেই তার জীবনে এসেছিলেন উইলিয়াম। কিম জানিয়েছেন, ‘নরওয়েজিয়ান’-এ তার কো-পাইলট হিসেবে প্রশিক্ষণ শুরু করেছিলেন উইলিয়াম। কিছু দিনের মধ্যেই তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। তা প্রেমে পরিণত হতে সময় লাগেনি।

‘নরওয়েজিয়ান’-এ তিন বছর কাজ করার সময় কিমকে মাসের ১০ দিন বিমান ওড়াতে হতো। আলিকান্তে থেকে স্ক্যান্ডিনেভিয়ার যে কোনো শহর ছিল তার গন্তব্য। নিজের বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে সন্ধ্যায় উইলিয়ামের সঙ্গে সময় কাটাতেও পারতেন কিম।

মাসের বাকি ২০ দিন সাঁতার কেটে আর বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে আড্ডা মেরেই দিন কাটাতেন তিনি।

করোনাকালে আরও অনেকের মতো কিমের জীবনও স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে ২০১৯ সালে অতিমারির সময় দুজনেই মালবাহী বিমানের চালক হিসেবে কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। কিম ও উইলিয়াম দুজনেই বেলজিয়ামের ‘চ্যালেঞ্জ এয়ারলাইন্স’-এ যোগদান করেন।

করোনাকালে আরও অনেকের মতো কিমের জীবনও স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে ২০১৯ সালে দুজনেই মালবাহী বিমানের চালক হিসেবে কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। কিম এবং উইলিয়াম দুজনেই বেলজিয়ামের ‘চ্যালেঞ্জ এয়ারলাইন্স’-এ যোগদান করেন।

২০১৯ সাল থেকে বোয়িং ৭৪৭-৪০০ বিমান ওড়াতে শুরু করেন কিম। বেসামরিক বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে এই বিমানটি ‘আকাশের রানি’ বলে পরিচিত।

প্রথম দিকে ৪০০ টন ওজনের এই ভারি বিমান ওড়াতে সামান্য ভয় থাকলেও ধীরে ধীরে তাতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন কিম।

তিনি বলেন, প্রথম দিকে এই বিমান ওড়াতে একটু ভয় লাগছিল। তবে পরে মানিয়ে নিয়েছিলাম।

বিমানচালক হিসেবে আমেরিকার নিউইয়র্ক, আটলান্টা, হিউস্টন থেকে শুরু করে চীনের উহানেও উড়ে গিয়েছেন কিম।

তবে কিম জানিয়েছেন, অচেনা কারও সঙ্গে পরিচয় হলে তাদের অনেকের মুখেই প্রথম প্রশ্নই— ‘আপনি কি বিমানবালা?’কিম মনে করেন, বিমানচালক হিসেবে এখনও নারীকে দেখতে অভ্যস্ত নয় সমাজের বড় একটি অংশ। তবে নারী হিসেবে এ ক্ষেত্রে কাজ করতে পেরে গর্বিত তিনি।

 

 

কিউটিভি/আয়শা/৯ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ/বিকাল ৪:৪৩

▎সর্বশেষ

ad