কেউ চান পরিবর্তন, কারও প্রত্যাশা আমিনুল হবেন সেরা ক্রীড়া মন্ত্রী

khurshed | আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ - ০৫:০৪:১০ পিএম

স্পোর্টস ডেস্ক : জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক মোঃ আমিনুল হক টেকনোক্রেট কোটায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তবে মন্ত্রিসভার দপ্তর এখনো বণ্টন হয়নি। আমিনুল যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।সাবেক তারকা ক্রীড়াবিদ ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক হতে যাওয়ায় ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট সবাই বেশ খুশি। আমিনুলের মাধ্যমে ক্রীড়াঙ্গনের ইতিবাচক পরিবর্তন চান সবাই। 

উপমহাদেশের প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার ও দেশের অন্যতম কিংবদন্তী ক্রীড়াবিদ নিয়াজ মোর্শেদ বলেন, ‘আমিনুলকে ক্রীড়া মন্ত্রী (প্রতিমন্ত্রী) করায় প্রথমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ। কারণ তিনি ক্রীড়াঙ্গনে সবচেয়ে যোগ্য লোককে দায়িত্ব দিয়েছেন। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সাদেক হোসেন খোকা ছাড়া ক্রীড়াঙ্গনের কোনো লোক ক্রীড়াঙ্গনে সেভাবে দায়িত্ব নেয়নি এবং কাজও করেনি। আরিফ খান জয় উপমন্ত্রী থাকলেও সবাইকে হতাশ করেছেন। আমি চাই আমিনুল দেশের ইতিহাসে সেরা ক্রীড়া মন্ত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে।’

বাংলাদেশে সরকারের মেয়াদ পাঁচ বছর। এই পাঁচ বছরের কর্মকাণ্ডের পরই সাফল্য-ব্যর্থতার খতিয়ান হয়। এই পাঁচ বছরে আমিনুল ক্রীড়াঙ্গনের জন্য এমন কিছু করবেন যা তাকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রাখবে বলে বিশ্বাস নিয়াজের, ‘আমিনুলের একটা ভিশন রয়েছে। ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে তিনি অনেক দিন থেকেই কাজ করছেন। কোথায় সমস্যা, কোনটা সম্ভাবনা সবই তিনি ভালোভাবে জানেন। আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী আমিনুল সেরা মন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা রাখেন।’

আমিনুলের এক সময়ের মাঠের সতীর্থ ও সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ময়দানের অন্যতম সঙ্গী সাবেক জাতীয় ফুটবলার জাহেদ পারভেজ চৌধুরী। আমিনুল মন্ত্রীত্ব পাওয়ায় তিনি বলেন,‘ভাই অত্যন্ত পরিশ্রমী। বিশেষ করে দল ও ক্রীড়াঙ্গনের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। বিএনপির যে ভিশন সেটা তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত। তিনি সেটা বাস্তবায়ন করে জেলা-বিভাগীয় পর্যায়ের ক্রীড়াঙ্গন সচল রাখবেন।’আমিনুলের একটা ভিশন রয়েছে। ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে তিনি অনেক দিন থেকেই কাজ করছেন। কোথায় সমস্যা, কোনটা সম্ভাবনা সবই তিনি ভালোভাবে জানেন। আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী আমিনুল সেরা মন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা রাখেনকিংবদন্তী ক্রীড়াবিদ নিয়াজ মোর্শেদ

জাতীয় ফুটবল দলে আমিনুলের দীর্ঘদিনের রুমমেট ছিলেন গোলরক্ষক বিপ্লব ভট্টাচার্য্য। বন্ধু মন্ত্রী হওয়ায় অত্যন্ত খুশি বিপ্লব, ‘নির্বাচনে তার জয় প্রত্যাশিত ছিল। হারের পরও দল তাকে মূল্যায়ন করেছে এতে আমরা ক্রীড়াঙ্গনের সবাই সম্মানিত হয়েছি।’ আমিনুলের প্রতি তার চাওয়া, ‘আমিনুল ফুটবলার হলেও আমি চাই ফুটবল, ক্রিকেট ছাড়া অন্য খেলাতেও সে সমান নজর দেবে। সকল খেলোয়াড় খেলোয়াড় যেন সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে সমাজে চলাচল করতে পারে।’

জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক কোচ শফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরেই আমিনুলকে চেনেন। তার কোচিংয়ে অনেক বছরই খেলেছেন আমিনুল। ক্রীড়াঙ্গন থেকে রাজনীতির ময়দানেও অনেক কষ্ট করেছেন জাতীয় দলের সাবেক গোলরক্ষক। সেই কষ্টের ফসল পেয়েছেন তিনি। তাই আমিনুলের কাছে ক্রীড়াঙ্গনেও বিপ্লব প্রত্যাশ্যা মানিকের, ‘আমিনুল এই মুহূর্তে ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক হওয়ার জন্য সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন গতানুগতিকভাবে চলছে অনেক দিন থেকে। ঝিমিয়ে পড়া এই ক্রীড়াঙ্গনে একটি বিপ্লব বা পরিবর্তন দরকার। আশা করি আমিনুল সেটা করতে পারবে।’

জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদ কামরুন নাহার ডানা পাঁচ দশকের বেশি সময় ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আমিনুল ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায় ক্রীড়াঙ্গনের জন্য ভালো হয়েছে বলে মন্তব্য তার,‘ক্রীড়া একটি বিশেষায়িত বিষয়। এই সম্পর্কে যাদের ধারণা রয়েছে, তারা দায়িত্ব পেলে ভালো হয়। আমিনুল একজন বড় মাপের খেলোয়াড় ছিলেন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক অঙ্গনের নেতৃত্ব তার সাংগঠনিক দক্ষতা প্রমাণ দিয়েছেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অবশ্যই এগিয়ে যাবে এই আশা করাই যায়।’

আমিনুল এই মুহূর্তে ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক হওয়ার জন্য সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন গতানুগতিকভাবে চলছে অনেক দিন থেকে। ঝিমিয়ে পড়া এই ক্রীড়াঙ্গনে একটি বিপ্লব বা পরিবর্তন দরকার। আশা করি আমিনুল সেটা করতে পারবে

ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম প্রতিবাদী কন্ঠস্বর আন্তর্জাতিক স্বর্ণজয়ী শুটার শারমিন আক্তার রত্না। নারী নিপীড়ন নিয়ে তিনি বেশ কয়েক মাস ধরেই আন্দোলন করছিলেন। আমিনুল আসায় বেশ স্বস্তির নিঃশ্বাস রত্নার, ‘আমিনুল ভাই ক্রীড়াঙ্গনের সকল বিষয়ে অত্যন্ত অবগত। বিশেষ করে গত এক দেড় বছরে যা ঘটেছে তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। আমিনুল ভাই আসায় আমরা আশা করি ক্রীড়াবিদরা সকল বিষয়ে সকল ন্যায্য অধিকার পাবে এবং অন্যায়কীরাদের যথাযথ শাস্তি হবে।’ 

 

খোরশেদ/১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/বিকাল ৪:৫৫

▎সর্বশেষ

ad