লাইফ ষ্টাইল ডেস্ক : পবিত্র রমজানে সারাদিন পানাহান থেকে বিরত থাকার পর ইফতারির টেবিলে দশ রকমের পদ দেখা যায়। হরেক রকম এসব পদে ঘরোয়া খাবারের পাশাপাশি বাইরে থেকে কিনে আনা নানা পদও থাকে। তবে, বাঙালির ইফতারের টেবিলে যে পদ হরহোমেশাই দেখা যায়, তা হলো মুড়ি মাখা। ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, কাঁচা মরিচ, শসা ও সরিষার তেলে মাখানো ঝুরঝুরে মুড়ি যেন এক ঐতিহ্যের নাম। এর সঙ্গে কয়েক টুকরো জিলাপি মেশানো হবে কি না—এ নিয়েই প্রতিবছর জমে ওঠে তর্ক। কারও কাছে এটি অসাধারণ স্বাদ, কারও কাছে একেবারেই বেমানান।
এসবেব বাইরে মুড়িতে জিলাপির মিশ্রণ স্বাস্থের জন্য ভালো না ঝুঁকিপূর্ণ, সে ক্ষেত্রেও থাকতে হবে সচেতন। মুড়ি বাংলার বহু পুরোনো ও সহজপাচ্য খাদ্য। অন্যদিকে জিলাপির ইতিহাস মোগল আমল পর্যন্ত বিস্তৃত। পুরান ঢাকার চকবাজারের ইফতার সংস্কৃতিতে মুড়ি-জিলাপির মিশ্রণ বেশ জনপ্রিয় বলে অনেকে মনে করেন। সারাদিন রোজা রাখার পর মচমচে মুড়ি আর রসালো জিলাপির স্বাদ অনেকের ক্লান্তি দূর করে। পুষ্টিগত দিক থেকে দেখলে, জিলাপিতে থাকা চিনি দ্রুত গ্লুকোজে পরিণত হয়ে শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়। মুড়িও কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ, যা শক্তির জোগান দেয়।
অল্প পরিমাণে খেলে এটি মন ভালো করতেও সহায়ক হতে পারে। তবে মুড়ি-জিলাপি মাখাতে সতর্কতাও জরুরি। জিলাপি উচ্চ ক্যালরিযুক্ত এবং বেশি চিনি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ায়। মুড়ির সঙ্গে জিলাপি খেলে গ্লাইসেমিক লোড আরও বেড়ে যেতে পারে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগের ঝুঁকি যাদের আছে, তাদের জন্য এটি সমস্যার কারণ হতে পারে। নিয়মিত অতিরিক্ত খেলে ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকিও বাড়ে। মুড়িতে জিলাপি মেশানো খাওয়া না-খাওয়ার প্রশ্নটি মূলত ব্যক্তিগত পছন্দের। তবে সুস্থ থাকতে চাইলে পরিমিতি বজায় রাখাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
আয়শা/২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/রাত ৮:২২