তেঁতুলের স্বাস্থ্যগুণ: টক-মিষ্টি ফলের জানা-অজানা উপকারিতা

Anima Rakhi | আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ - ০৪:৩৪:৫৪ পিএম
লাইফ ষ্টাইল ডেস্ক :তেঁতুল গাছ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ফল ও সৌন্দর্যবর্ধক বৃক্ষ হিসেবে পরিচিত। শিমের মতো ফলের ভেতরে থাকা টক শাঁস পাকার পর মিষ্টি স্বাদ ধারণ করে। কাঁচা, পাকা কিংবা রান্নায়—বিভিন্নভাবেই তেঁতুল ব্যবহার করা হয়।তেঁতুলের পাতা, শিম, বাকল ও কাঠেরও রয়েছে নানা ব্যবহার। চাটনি, সস, ক্যান্ডি ও পানীয়তে এর ব্যবহার বেশি দেখা যায়। এশিয়া, দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা, আফ্রিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের রান্নায় এটি পরিচিত উপাদান। তেঁতুলের স্বাস্থ্য উপকারিতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ প্ল্যাটফর্ম WebMD।

স্বাস্থ্য সুবিধা

অনেকে ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসায় তেঁতুল ব্যবহার করেন। যদিও চিকিৎসাগত প্রয়োগ নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন, তবে তেঁতুলে থাকা পুষ্টি উপাদান স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুষ্টিগুণ

তেঁতুলে রয়েছে ভিটামিন বি১ (থায়ামিন), ভিটামিন বি৩ (নিয়াসিন), পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ফসফরাস। আধা কাপ তেঁতুলে প্রায় ১৪৩ ক্যালোরি, ২ গ্রাম প্রোটিন, শূন্য ফ্যাট, ৩৮ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ৩ গ্রাম ফাইবার ও ৩৪ গ্রাম চিনি থাকে।

টিস্যুর স্বাস্থ্য

প্রোটিনের মূল উপাদান অ্যামিনো অ্যাসিড, যা শরীরের বৃদ্ধি ও টিস্যু মেরামতে প্রয়োজনীয়। কিছু অ্যামিনো অ্যাসিড শরীর নিজে তৈরি করতে পারে না, সেগুলো খাবার থেকে নিতে হয়। তেঁতুলে ট্রিপটোফ্যান ছাড়া অধিকাংশ প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড উল্লেখযোগ্য পরিমাণে পাওয়া যায়।

ক্যানসারের ঝুঁকি হ্রাসে সম্ভাবনা

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষের ডিএনএকে ক্ষতিকর ফ্রি র‌্যাডিকেল থেকে সুরক্ষা দেয়। তেঁতুলে বিটা-ক্যারোটিনসহ বিভিন্ন ফাইটোকেমিক্যাল রয়েছে, যেগুলোর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য আছে।

মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য

ভিটামিন বি-শ্রেণির ভিটামিনগুলো পানিতে দ্রবণীয় এবং শরীরে সঞ্চিত থাকে না। তাই খাদ্য থেকেই এগুলো গ্রহণ করা জরুরি। স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যকারিতায় ভিটামিন বি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তেঁতুলে বিশেষ করে থায়ামিন ও ফোলেট রয়েছে। তবে অন্যান্য উদ্ভিদের মতো এতে ভিটামিন বি১২ থাকে না।

হাড়ের স্বাস্থ্য

যাদের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত ম্যাগনেশিয়াম থাকে, তাদের হাড়ের ঘনত্ব তুলনামূলক ভালো হতে পারে। কিশোর-কিশোরী ও বয়স্কদের অনেকের শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি দেখা যায়। তেঁতুল ম্যাগনেশিয়ামের একটি ভালো উৎস। এতে ক্যালসিয়ামও রয়েছে, যা অস্টিওপোরোসিস ও হাড় ভাঙার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে ক্যালসিয়াম শোষণে ভিটামিন ডি প্রয়োজন, আর তেঁতুল ভিটামিন ডি-এর উল্লেখযোগ্য উৎস নয়।

সতর্কতা

তেঁতুলের শাঁসে অধিকাংশ ক্যালোরি আসে চিনি থেকে। তাই ওজন বা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রয়োজন হলে পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। তেঁতুল দিয়ে তৈরি ক্যান্ডি বা মিষ্টি পানীয়তে অতিরিক্ত চিনি থাকতে পারে, যা ডায়াবেটিস বা বিপাকীয় সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

অনিমা/১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/বিকাল ৪:৩৪
▎সর্বশেষ

ad