বিজেপিকে ধাক্কা দেয়া ইন্ডিয়া জোটের সামনেও বিপদ!

Ayesha Siddika | আপডেট: ১৪ জুন ২০২৪ - ০৩:৪১:০০ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আগাম ঘোষণা দিয়েও ভারতের লোকসভা নির্বাচনে ৪০০ আসনের টার্গেট পূরণ হয়নি নরেন্দ্র মোদির। এমনকি দলগতভাবে ৩০০ আসনের গণ্ডিও অতিক্রম করতে পারেনি মোদির দল বিজেপি। অন্যদিকে, পাঁচ বছরের ব্যবধানে বিজেপির প্রধান প্রতিপক্ষ কংগ্রেস ৫২ থেকে প্রায় দ্বিগুণ আসন বাড়িয়ে ৯৯-তে পৌঁছেছে। বিজেপি জোটগতভাবে ২৯২টি আসন পেয়েছে। আর জোটে কংগ্রেসের আসন সংখ্যা ২৩৪।

গেল ১০ বছরে মোদির একক রাজত্ব কিছুটা ম্লান এবার। সংখ্যার হিসাবে সমালোকরাও খোঁচা দিতে ছাড়ছেন না বিজেপি নেতাকে। তবে এবার কিছুটা উল্টো চিত্রের আভাস দিচ্ছে ভারতীয় গণমাধ্যম। বলা হচ্ছে, আসনের দিক থেকে মোদির দলের খুব কাছে থাকার পরও ইন্ডিয়া ব্লকের মধ্যেই বাড়ছে সংকট। 

কেননা, জোটের অন্যতম বড়  শরিক দল সমাজবাদি পার্টির অন্তত ছয় জন নির্বাচিত সাংসদ আদালতের শাস্তির মুখে পড়তে পারেন। সাজাপ্রাপ্ত হলেই পদ হারাবেন তারা। শুধু তাই নয়, উত্তরপ্রদেশে পিছিয়ে থাকা বিজেপি অংকের হিসাবে ফের এগিয়ে যাবে। ‘গ্যাংস্টার’ নেতা আফজাল আনসরি সমাজবাদি পার্টির হয়ে নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। তাকে চার বছর কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। তবে গত মাসে সেই শাস্তির ওপর স্থগিতাদেশ দিয়ে লড়তে দেয়া হয় নির্বাচনে। আগামী জুলাই মাসে ওই মামলার শুনানি রয়েছে।
 
সমাজবাদি পার্টির আরেক নেতা ধর্মেন্দ্র যাদবের বিরুদ্ধেও রয়েছে ৪টি ফৌজদারি মামলা। দুটিতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন তিনি। দুই বছরের কারাদণ্ড হতে পারে এই সাংসদের। আর সেটা হলে সাংসদ পদ হারাবেন তিনিও। বাবু সিং কুশওয়াহার নামের আরেক শীর্ষ সমাজবাদি পার্টির নেতাও দুর্নীতি মামলা অভিযুক্ত। ২৫টি মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আট মামলায় দোষী সাব্যস্ত রয়েছেন তিনি।
 
এছাড়াও রামভুয়াল নিশাদ নামের আরেক ‘গ্যাংস্টার’ এবার হারিয়েছেন বিজেপি নেত্রী মানেকা গান্ধীকে। হত্যাচেষ্টা মামলায় দোষী সাব্যস্ত তিনি। এছাড়াও রয়েছেন বীরেন্দ্র সিংয়ের মতো একাধিক অপরাধমূলক মামলায় দোষী সাব্যস্ত নির্বাচিত সাংসদও।
ভারতীয় আইন অনুযায়ী, আদালতে দুই বছরের বেশি কোনো ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হলে তার সংসদ সদস্য পদ খারিজ হয়ে যায়।
 
কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোটের শরিক দল সমাজবাদি পার্টি এবার উত্তরপ্রদেশ থেকে বিজেপির চেয়েও ভালো ফল করেছে। পেয়েছে ৩৭টি আসন। আর বিজেপি ৩৩টি। তবে এই নির্বাচিত সাংসদরা যদি পদ হারান, উত্তরপ্রদেশে এগিয়ে যাবে বিজেপি। আর সর্বভারতীয়ভাবেও ইন্ডিয়া জোটের আসন সংখ্যা কমে যাবে।

 

 

কিউটিভি/আয়শা/১৪ জুন ২০২৪,/বিকাল ৩:৪০

▎সর্বশেষ

ad