
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, হামাস সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজার তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলুদ রেখা থেকে ইসরাইলি বাহিনী এক মিলিমিটারও সরবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ সমাপ্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ শুরু হলেও ইসরাইল তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। উল্লেখ্য, এই ইয়েলো লাইন বলতে গাজার পূর্ব দিকের সেই সীমানাকে বোঝায়, যেখানে ট্রাম্পের পরিকল্পনার প্রথম ধাপে ইসরাইলি বাহিনী পিছু হটেছিল।
একটি সংবাদ সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় কাটজ জোর দিয়ে বলেন, হামাসকে কোনোভাবেই অস্ত্র বা টানেলসহ গাজায় টিকে থাকতে দেওয়া হবে না। তিনি দাবি করেন, যতক্ষণ পর্যন্ত শেষ টানেলটি ধ্বংস না হচ্ছে এবং হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণ না করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ইসরাইল গাজা থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করবে না। এর আগে গত সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ইসরাইলি মন্ত্রিসভার সচিব ইয়োসি ফুচস ঘোষণা করেছিলেন, হামাসকে অস্ত্র সমর্পণের জন্য ৬০ দিন সময় দেওয়া হবে, অন্যথায় পুনরায় যুদ্ধ শুরু করার হুমকি দেন তিনি।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে ফিলাস্তিনের গাজায় অন্তত ৭২ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। যদিও ২০২৫ সালের অক্টোবরে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তবে ইসরাইল বারবার তা লঙ্ঘন করে বিমান হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ট্রাম্পের পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে গাজার পুনর্গঠন এবং মানবিক সহায়তা বৃদ্ধির কথা থাকলেও নিরস্ত্রীকরণের শর্তটি বর্তমানে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পাশাপাশি, ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী করতে ‘শিল্ড অফ ইসরাইল’ নামে একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প চালুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। এই প্রকল্পের আওতায় আগামী এক দশকে প্রতিরক্ষা বাজেটে আরও ৩৫০ বিলিয়ন শেকেল বা প্রায় ৯৫ বিলিয়ন ডলার যোগ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
কাটজ জানান, মিত্রদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোই তাদের প্রধান লক্ষ্য, যাতে যুদ্ধের সময় স্বাধীনভাবে প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।
সূত্র: ডেইলি সাবাহ্।
খোরশেদ/১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/বিকাল ৩:৪৪






