চিকিৎসার জন্য মসজিদে টাকা উঠানো যাবে কি?

Ayesha Siddika | আপডেট: ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ - ০৯:৪৬:৫৯ পিএম

ডেস্ক নিউজ : ইসলামে মানবসেবার গুরুত্ব অপরিসীম। কেউ বিপদে পড়লে তাকে সাহায্য করা, বিশেষ করে চিকিৎসার মতো জরুরি প্রয়োজনে সহযোগিতা করা উত্তম কাজ। তবে ধর্মীয় বিধানের কারণে অনেকেই দ্বিধায় থাকেন—মসজিদে কারো চিকিৎসার জন্য টাকা তোলা কি বৈধ? এই বিষয়টি সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করা হলো।

মসজিদ ইবাদতের স্থান, তাই এখানে এমন কাজ করা উচিত, যা ইবাদতের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে মানুষের প্রয়োজন ও কল্যাণের বিষয়েও ইসলাম সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে। কোনো ব্যক্তি মারাত্মক অসুস্থ এবং তার চিকিৎসার জন্য জরুরি সহযোগিতা প্রয়োজন হলে এ ক্ষেত্রে যা করা যায় —

মসজিদে নামাজের জামাত শেষে ইমাম বা মসজিদ কমিটির অনুমতি নিয়ে সংক্ষিপ্তভাবে চিকিৎসা সহায়তার ঘোষণা করা এবং দান সংগ্রহ করা বৈধ। এটি মানুষের কল্যাণমূলক কাজ এবং ইসলামে এমন সাহায্যকে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।  তবে টাকা-পয়সা লেনদেন মসজিদের বাইরে গিয়ে দেওয়া উত্তম। আর শর্ত হলো—ঘোষণাটি যেন সংক্ষিপ্ত হয়, জুমা বা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের নিয়মিত ইবাদতে বিঘ্ন না ঘটায়। (কিফায়াতুল মুফতি ৩/১২৫, আপকে মাসায়েল আউর উনকা হল ২/১৪৩, ফাতাওয়ায়ে ফকিহুল মিল্লাত ৯/৪১)।

অনেক ইসলামিক স্কলার মনে করেন—মসজিদ ইবাদতের স্থান হলেও কোনো জরুরি মানবিক প্রয়োজনে সংক্ষিপ্তভাবে ঘোষণা ও সহায়তা গ্রহণ করা জায়েজ। এটি সদকা, সহমর্মিতা ও মুসলিম সমাজের ঐক্যকে শক্তিশালী করে।

যা করা উচিত নয়—

> মসজিদকে এমন দান সংগ্রহের স্থায়ী কেন্দ্র বানানো।

> মসজিদে চাঁদা তোলার কারণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়া।

> অনুমতি ছাড়া সাহায্য বা টাকা সংগ্রহ করা।

কারো চিকিৎসার জন্য সহায়তা করা ইসলামের দৃষ্টিতে মহান দান। মসজিদে নামাজের মাঝে বিঘ্ন না ঘটিয়ে, যথাযথ অনুমতি নিয়ে এটি করা সম্পূর্ণ বৈধ। সমাজে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর এ ধরনের উদ্যোগই মানবিক মূল্যবোধ ও ঈমানের প্রতিফলন।

 

আয়শা/০১ ডিসেম্বর ২০২৫,/রাত ৯:৪৪

▎সর্বশেষ

ad