রাষ্ট্র বিরোধী পক্ষকে ঠেকাতে সম্ভাব্য সব কিছু করছে- শ্রীরাধা দত্ত

superadmin | আপডেট: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩ - ০১:৩৭:২৯ পিএম

ডেস্কনিউজঃ ক্ষমতাসীন সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ কর্তৃপক্ষের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানানো ছাড়া গত ১৫ বছরে জনবান্ধব কোনো ইস্যু আনতে পারেনি বিএনপি। ভারতের ওপি জিন্দাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে নীতিগবেষণা প্রতিষ্ঠান এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউট (এএসপিআই) ‘ভোট ও তারপর: ২০২৪ সালে দক্ষিণ এশিয়া’ শীর্ষক ওই আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজন করে।

এএসপিআই এর দক্ষিণ এশিয়া উদ্যোগের পরিচালক ফারওয়া আমিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শ্রীরাধা দত্ত ছাড়াও দিল্লিতে এএসপিআইয়ের জ্যেষ্ঠ ফেলো সি রাজা মোহন এবং পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও সাংবাদিক নাসিম জেহরা তাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।

শ্রীরাধা দত্ত বলেন, আগামী ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। শেখ হাসিনা টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় আসার লক্ষ্যে নেমেছেন। এটি বাংলাদেশে নজিরবিহীন। দৃশ্যত বাংলাদেশের পরিস্থিতি আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে।

শ্রীরাধা দত্ত অভিযোগ করেন, রাষ্ট্র কাঠামো বিরোধী পক্ষকে ঠেকাতে সম্ভাব্য সব কিছু করছে। এটি আগামী দিনগুলোর জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।

শ্রীরাধা দত্ত বলেন, আগের দু’টি নির্বাচন ছিল একপেশে। ১৯৯৬ সালে বিএনপির এরকম একতরফা নির্বাচনের পটভূমিতে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তন হয়েছিল। বাংলাদেশে রাজনীতিতে এক পক্ষ অপর পক্ষকে বিশ্বাস করে না।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের ইতিহাস এবং ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে সমালোচনার কথা তুলে ধরেন শ্রীরাধা দত্ত। তিনি বলেন, বিস্ময়করভাবে ওই নির্বাচনের পর এর বিরূদ্ধে তেমন কোনো আন্দোলন হয়নি, যা থেকে মনে হতে পারে যে জনগণ এই বাস্তবতা মেনে নিয়েছে।

গত অক্টোবর থেকে বিএনপির আন্দোলন এবং গত ছয় মাসের পরিস্থিতি তুলে ধরে শ্রীরাধা দত্ত বলেন, বিএনপির অনেক নেতার সাজা হয়েছে। তাদের বিরূদ্ধে অভিযোগগুলো বেশ আগের।

তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতার কারণে অনেক দিন ধরেই জনসম্মুখে আসেন না। দুর্নীতির অভিযোগে সাজার কারণে খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। তাঁর লন্ডনপ্রবাসী ছেলেও দুর্নীতির অভিযোগ ও সাজার কারণে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এ অবস্থায় যে নেতারা দেশে দলকে নেতৃত্ব দেবেন, তাদের বিরূদ্ধে অনেক মামলা রয়েছে।

শ্রীরাধা দত্ত বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি, বিএনপি অব্যাহতভাবে একটি দাবিই জানিয়ে আসছে। আর তা হলো শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করতে হবে। এখানে বিষয় হলো, বিএনপির নির্বাচন সম্পর্কিত ইস্যু কী কী? আমি তো তাদের কোনো নির্বাচনী ইস্যু দেখিনি। গত ১৫ বছরে দলটি জনগণের জন্য কী ইস্যু সামনে এনেছে?’

অধ্যাপক শ্রীরাধা বলেন, বাংলাদেশে বরাবরাই জনমত ক্ষমতাসীনদের বিরূদ্ধে থাকে। একমাত্র আওয়ামী লীগ এভাবে টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থেকে গেছে। যদিও নির্বাচন নিয়ে অনেক সমালোচনা আছে। দেড় বছর ধরে বাংলাদেশে অর্থনীতি চাপে থাকার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

শ্রীরাধা বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত জোরালো। বাংলাদেশে ক্ষমতায় যেই থাকুক না কেন চীনের সঙ্গে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা সম্পর্ক ক্রমেই জোরালো হয়ে ওঠছে।

শ্রীরাধা গণতন্ত্র চর্চার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পিছু হটার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোও ভঙ্গুর অবস্থায় আছে। সামনে কী হবে সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তবে ৭ জানুয়ারি যদি বেশি সংখ্যায় ভোটাররা ভোট দেন তাহলেও আওয়ামী লীগের খুব ভয়ের কিছু নেই। কারণ বিএনপি ও তার মিত্ররা নির্বাচন বর্জন করছে। যদি ৩০০ আসনেই আওয়ামী লীগ জয়ী হয়, তবে হাস্যকর বিষয় হবে।

বিপুল/০৮.১২.২০২৩/ দুপুর ১.৩০

▎সর্বশেষ

ad