নওগাঁয় ৬৫কিশোরকে খেলাধুলায় ফিরালো উদ্যোক্তা মতিন

Ayesha Siddika | আপডেট: ০৬ আগস্ট ২০২২ - ০৬:৪৪:৪৩ পিএম

সজিব হোসেন নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর বদলগাছীতে ৬৫ কিশোরকে খেলা-ধুলায় মনোনিবেশ করতে মাঠে ফিরালো নওগাঁ ওয়াটার, নওগাঁ ট্রার্ভেলেস ও নওগাঁ টাচ এর চেয়ারম্যান উদীয়মান উদ্যোগক্তা এম এ মতিন। শনিবার বিকেলে উপজেলার মিঠাপুর স্পোটিং ক্লাবের সহযোগিতায় ও এম এ মতিনের উদ্যোগে এলাকার প্রায় ৬৫জন কিশোরকে নিয়ে ফুটবল খেলার আয়োজন করা হয়। এসময় ওই সব কিশোরদের জার্সি, বুট ( খোর জুতা), ফুটবলসহ খেলার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। নিয়মিত তারা যেন পড়াশোনা ও কাজের পাশাপাশি মাঠে খেলা-ধুলা করতে পারে সেজন্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দেয়া হয়।

স্থানীয় কিশোর মুন্না হোসেন বলেন, আমি স্থানীয় একটি স্কুলে নবম শ্রেনীতে পড়াশোনা করি। মন চাইলেও সেভাবে খেলা-ধুলার পরিবেশ পেতামনা। স্কুলে মাঝে মাঝে খেলতাম। মতিন স্যারের উদ্যোগে আমরা খেলার সামগ্রী পেয়েছি। মিঠাপুর মাঠে যেন প্রতিদিন বিকেল বেলা খেলতে পারি সেই ব্যবস্থা তিনি করে দিয়েছেন। নিশান আহম্মেদ নামের আরেক কিশোর বলেন, মনতো চায় প্রতিদিন খেলাধুলা করতে কিন্তু খেলার সামগ্রী ছিলনা। আর মাঠে আমরা যে খেলবো অন্য বড় ভাইয়া খেলার কারনেও সে সুযোগ হতোনা। এখন মতিন স্যার ও মিঠাপুর স্পোটিং ক্লাবের উদ্যোগে প্রতিদিন আমরা মাঠের এক পাশে খেলতে পারবো।

মেহেদী হাসান নামের স্থানীয় কিশোর বলেন, অবসর সময়ে আড্ডা দিতাম, গেইমস খেলতাম এসব করে সময় পার করতাম। কিন্তু মতিন স্যার আমাদের ও আমাদের পরিবারকে বুঝিয়ে খেলার মাঠে নিয়ে এসেছেন। কাজের পাশা-পাশি নিয়মিত খেলা-ধুলা যেন করি সেই ব্যবস্থা তিনি করে দিয়েছেন। এখন থেকে আমরা নিয়মিত মাঠে খেলবো। স্থানীয় মিঠাপুর স্পোটিং ক্লাবের সদস্য রেজাউল করিম ও মামুন হোসেন বলেন, উদ্যোগক্তা এম এ মতিন ভাই চমৎকার ও সময় উপযোগী একটি প্রদক্ষেপ নিয়েছেন। বর্তমানে অনেক কিশোর,তরুন ও যুবকরা খেলাধুলা ছেড়ে ফেসবুক, গেইমস বা নেশার মত ভয়াবহ জগতে চলে যাচ্ছে। মতিন ভাইয়ের উদ্যেগে ও আমাদের সহযোগিতায় ৬৫জন কিশোর মাঠে ফিরেছেন। এখন থেকে তারা নিয়মিত খেলা-ধুলা করবে।

এ বিষয়ে উদ্যোক্তা এম এ মতিন বলেন, বর্তমানে আমরা লক্ষ্য করছি যে, অনেক কিশোর,তরুন বা যুবকরা খেলা-ধুলা না করে নানা ভাবে সময় কাটায়। এমন কি নেশার মত জগতে পা রাখে। আবার অনেকে অবসর সময়ে মোবাইলে ফেসবুক, গেইমসসহ নানা কর্মকান্ডে বেশি ঝুঁকে পড়েছে। যদি পড়াশোনা বা দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি খেলা-ধুুলা করে তাহলে তাদের একদিকে যেমন শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ্য থাকবে, অন্যদিকে নেশা ও মাদকের মত ভয়াল থাবা থেকে দূরে থাকতে পারবে বর্তমান প্রজন্ম। এই উপলব্ধি থেকেই এমন উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আগামীতে চেষ্টা করবো জেলার অন্য এলাকা গুলোতেও এমন প্রদক্ষেপ নেয়ার। অনুরোধ করবো সমাজের যারা সচেতন মহল আছেন সরকারের পাশাপাশি সবাই যে যার পর্যায় থেকে এগিয়ে এসে বর্তমান প্রজন্মকে সচেতন করতে নানামূখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। সবার মনে রাখতে বর্তমান প্রজন্মই আগামীতে দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

 

কিউটিভি/আয়শা/০৬ অগাস্ট ২০২২, খ্রিস্টাব্দ/সন্ধ্যা ৬:৩৫

▎সর্বশেষ

ad