ভালো ঘুম পেতে করণীয়

লাইফষ্টাইল ডেস্ক : এখনকার সময়ে প্রায় সকল বয়সী মানুষের সাধারন সমস্যা হলো ভালোমত ঘুম না হওয়া। আর ভালোমত ঘুম না হওয়ার ফলে শরীর, স্বাস্থ্য সবকিছুর উপরই প্রভাব ফেলে। শুধু শারিরীক সমস্যা সৃষ্টি করে ব্যাপারটা তা নয়, মানসিক সমস্যাও বাড়িয়ে দেয়। যদি ঘুমানোর আগে ছোটখাটো কিছু বিষয়ে নজর রাখা যায় তাহলে এই সনমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তাই ঘুমানো আগে পরে মেনে চলুন ছোটখাটো কিছু বিষয়

একই সময়ে বিছানায় যাওয়া এবং ছাড়া: প্রতিদিন রাতে একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যেতে হবে। আবার সকালে একটি নির্দিষ্ট সময়ে রোজ বিছানা ছাড়তে হবে। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠা বেশি গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটা ঘুমানোর সময়কালকে নিয়মিত রাখবে। কারণ দিনের শেষে একটা নির্দিষ্ট সময়ে গিয়ে ঘুম-ভাব চলে আসবে।
ঘুমের জন্য বিছানা তৈরি: আপনার মস্তিককে এমন একটি বার্তা দিন যে ‘বিছানা মানেই ঘুম।’ বিছানা সারারাত ধরে এপাশ-ওপাশ করা আর আর ঘুমানোর আশায় শুয়ে থাকার জন্য নয়। যদি ২০ মিনিটের মধ্যে ঘুম না আসে, তাহলে বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ুন এবং অন্য কিছু করুন। হতে পারে হাঁটাহাঁটি, কিংবা হালকা মেজাজের কিছু পড়া-যতক্ষণ না ঘুমের জন্য তৈরি হচ্ছে শরীর ও মন।
অন্ধকারে ডুবিয়ে দিন নিজেকে: মেলাটোনিন এমন এক জটিল ধরনের হরমোন যা ভালো, স্বাস্থ্যকর ঘুমের জন্য দরকার আর তার জন্য প্রয়োজন অন্ধকার। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমরা নিয়মিতভাবে বৈদ্যুতিক আলোর মাঝে ডুবে আছি। কিন্তু ঘুমের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে পারে যে কেউ ঘুমাতে যাওয়ার এক ঘণ্টা আগে ঘরের বাতি কমিয়ে দিয়ে। স্ক্রিন থেকেও লগ অফ করতে হবে, কেননা তা বিশেষ করে নীল আলোর বর্ণচ্ছটায় পরিপূর্ণ, যা মেলাটোনিনকে প্রতিরোধ করতে অত্যন্ত শক্তিশালী। সুতরাং ঘুমানোর পূর্বে একঘণ্টার মধ্যে কোন ধরনের নীল আলো থাকা যাবে না।
শীতল আরামদায়ক পরিবেশ: ঘুমের অভাব আমাদের মস্তিষ্ক এবং দেহে নাটকীয় প্রভাব ফেলে। ঘুমানোর জন্য শীতল পরিবেশ দারুণ ভূমিকা রাখে। ঘুমানোর আগে শরীরের জন্য আরামদায়ক শীতল পরিবেশ তৈরি করতে প্রয়োজনে কক্ষে তাপমাত্রা কমিয়ে আনতে হবে।
উদ্দীপক কোনকিছু বর্জন: নিয়মিতভাবে আমরা প্রচুর পরিমাণে উদ্দীপক পানীয় যেমন কোলা, কফি খাচ্ছি। স্নায়ুতন্ত্রের ওপর এসবের উত্তেজক প্রভাব অজানা নয় কারো। ঘুমানোর সময় থেকে ১২ ঘণ্টা আগে এসব খাওয়া বন্ধ করতে হবে। কেননা এর প্রভাব শরীরে থেকে যায় দীর্ঘ সময়। কফি পানের ছয় ঘণ্টা পরও রক্তে তা যে পরিমাণে থেকে যায় তা আধা গ্লাস এক্সপ্রেসো পানের সমান। আর নয় ঘণ্টা পরে তা থাকবে তিন-চতুর্থাংশের সমান। তাই আপনার রক্ত প্রবাহ থেকে এটি পুরোপুরি সরাতে আপনার ১২ ঘণ্টা দরকার!
অ্যালকোহলে বেঁচে চলুন: জনপ্রিয় বিশ্বাসের বিপরীতে গিয়ে বলতে হবে, অ্যালকোহল আপনার ঘুম আনতে বা সত্যিকার রিল্যাক্স দিতে কোনও সাহায্য করবে না।

 

কিউটিভি/রেশমা/২৬শে মার্চ, ২০১৯ ইং/দুপুর ২:১৮

শেয়ার করুন