বইমেলায় কবি মিজান হাওলাদারের কাব্যগ্রন্থ ‘রঙ বেরঙের বিরহ’

সাহিত্য ডেস্ক : বাংলা একাডেমির অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয়েছে তরুণ কবি মিজান হাওলাদারের প্রথম একক  কাব্যগ্রন্থ ‘রঙ বেরঙের বিরহ।সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ৬১২ নম্বর স্টল ও বাংলা একাডেমির লিটলম্যাগ চত্বরের ৬৫ নম্বর (ক্যাপটেন) স্টলে বইটি পাওয়া যাচ্ছে।লিমন মেহেদী প্রচ্ছদ করেছেন।বইটি প্রকাশ করেছে ঘাসফুল প্রকাশনী৷

মিজান হাওলাদারের ‘রঙ বেরঙের বিরহ’ কাব্যগ্রন্থটির ক্যানভাস ব্যাপক বিস্তৃত।জীবন সংশ্লিষ্ট সবকিছুই উঠে এসেছে তাঁর কাব্যগ্রন্থে।অপরূপ রূপময় পৃথিবীর, প্রকৃতির বর্ণিল বর্ণন, নিত্যদিনের জীবন, জীবনাচার, জীবনের নানাবিধ টানাপোড়েন,মানবীয় সম্পর্কের অপরূপতা, মানসিক নৈকট্য ও দ্বন্দ সংঘাত, আবেগীয় সম্পর্কের স্ফূরণ ও দোলাচল, জীবনাকাঙ্খা,আশাভঙ্গ ও প্রাপ্তির দ্বৈরথ উঠে এসেছে তাঁর সৃজণী কলমে।নির্মোহতায় তিনি অবলোকন করেছেন নিত্যদিনের ঘটমানতা, সুবিকশিত
জীবনসত্তা, কখনোবা অবক্ষয়িত চৈতন্য, কখনো হাসি কান্নার দোলাচল। স্বদেশ উঠে এসেছে তাঁর কবিতায়, জাতির জনকের নির্মমতম হত্যাকান্ড, বিদেশে নারী নির্যাতন ও হত্যা, ইত্যাকার বিষয়াবলী মিজান হাওলাদার গভীর অভিনিবেশ ও নিরপেক্ষতায় অবলোকন করেছেন, জীবনের অণুপুঙ্খ বিশ্লেষণে সততার বৈভবে দীপ্যমান থেকে জীবনের জলছবি এঁকেছেন।

এ কারণেই তাঁর কবিতা হয়ে উঠেছে জীবন সমাজ ও মানবীয় সম্পর্কের সত্যনিষ্ঠ বিশ্বস্ত উচ্চারণ।বইটির মুখবন্ধে বঙ্গভূমি সভাপতি ও ক্যাপটেন সম্পাদক কবি রাশেদ রেহমান লিখেছেন,‘বেপথিক ব্যথাতুরতায় কষ্টের ছাঁইমেঘ জমে হৃদাকাশে।বাতাসে উড়ায় বিরহ।সুখ স্বপ্নিল হলেও বেদনার রঙ নীল।দুঃখের আভরণ গোধূলিবর্ণ হলুদ সন্ধ্যা পোড়ামন।হরেক রকমের কষ্টেসৃষ্টেই বিরহের শিল্পায়ন।বিরহ অপেক্ষারত প্রতীক্ষার শেষ আশ্রয়। তাতে কেউ পুড়ে পুড়ে খাঁটি হয় কেউবা ক্ষয়ে যায়।প্রতিটি হৃদয়েই ক্ষত আছে যার বিরহে প্রতিনিয়ত ক্ষরণ হয়।কবি মিজান হাওলাদারের ‘রঙ বেরঙের বিরহ’তার ব্যতিক্রম কিছু নয়।তবে শব্দ ভাণ্ডার সমৃদ্ধ।

কবিতার শরীর জুড়ে কষ্টের বসবাস হলেও শব্দচয়নের প্রাচুর্যপূর্ণতা ও কাব্যিক উপস্থাপনে রঙ বেরঙের কষ্টের স্পষ্টতা পাওয়া যায়।সে আপাদমস্তক কবি, তার  বাক্যগঠনগত শৈলী আগামীর সম্ভাবনা জাগ্রত করে আশাতীতরকম।বাকিটা পাঠকমূল্যায়নের উপর ছেড়ে দিলাম।কবি মিজান হাওলাদার ১৯৯০ সালে ২০ জুন বরগুনা সদর উপজেলার ৪নং কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের জাকির তবক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।বাবা মৃত আবদুল আজিজ হাওলাদর একজন ব্যবসায়ী এবং বারবার নির্বাচিত সাবেক ইউপি সদস্য ছিলেন। মা মিসেস আকলিমা পারভীন গৃহিনী। বর্তমানে কবি জড়িত আছেন নিজ ব্যবসায়। তিনি সাহিত্য সংগঠন ‘বঙ্গভূমি সাহিত্য পর্ষদ (বসাপ)’ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ  সম্পাদক এবং আন্তর্জাতিক সাহিত্য পত্র “ বঙ্গভূমি “ র সম্পাদক।সাহিত্যে অবদানের জন্য পেয়েছেন বিভিন্ন সংস্থার সম্মাননা।

 

 

কিউএনবি/রেশমা/১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং/বিকাল ৪:৩০

শেয়ার করুন