আজ নাইকো মামলার চার্জ শুনানি

ডেস্ক নিউজ : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে নাইকো দুর্নীতি মামলার চার্জ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে আজ মঙ্গলবার।এজন্য কারাগার থেকে খালেদা জিয়াকে অস্থায়ী বিশেষ আদালতে হাজির করা হতে পারে।আদালত সূত্রে এমনটি জানা গিয়েছে।পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত বিশেষ জজ শেখ হাফিজুর রহমানের আদালতে মামলাটি বিচারাধীন।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি চার্জ শুনানিতে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা এ মামলার যাবতীয় সিডি ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কপি চেয়ে আবেদন করেন। ওইদিন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ তার নিজের পক্ষে শুনানি করেন। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের চার্জ শুনানি শেষ না হওয়ায় পরবর্তী শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ঠিক করেছিলেন আদালত।

এর আগে, চলতি বছরের ৩, ১৩ ও ২১ জানুয়ারি এবং ৪ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল।এর মধ্যে ৩ জানুয়ারির শুনানিতে উপস্থিত হয়ে আদালতে বসার জায়গা নিয়ে তিনি অসন্তোষ জানিয়েছিলেন আদালতকে।তবে এর পরের শুনানিগুলোতে উপস্থিত থাকলেও কিছু বলেননি তিনি।

নাইকো দুর্নীতি মামলার প্রধান আসামিরা হলেন— বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন এবং জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন।

এই মামলায় তিন জন আসামি পলাতক। তারা হলেন— সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক ও নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।গত বছরের ৫ মে এই মামলায় অভিযুক্ত আরেক আসামি সাবেক সচিব শফিউর রহমান মারা যাওয়ায় তার নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।২০১৭ সালের ২০ নভেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল আদালতে খালেদা জিয়াসহ মামলার ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন জানান।

কানাডার কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করেন।পরের বছর ৫ মে ওই মামলায় খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম সাহেদুর রহমান। অভিযোগপত্রে প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।

নাইকো ছাড়াও গ্যাটকো এবং বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তা বাতিলের আবেদন জানিয়ে আলাদা রিট করেছিলেন খালেদা জিয়া।এসব রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতি মামলাগুলোর কার্যক্রম স্থগিত করে রুল জারি করেন হাইকোর্ট বিভাগ।কয়েক বছর স্থগিত থাকার পর মামলাগুলো সচলের উদ্যোগ নিয়ে রুল নিষ্পত্তির আবেদন জানায় দুদক।পরে গত বছর আলাদা আলাদা শুনানি শেষে মামলা তিনটি সচলের রায় দেন আদালত।

 

 

 

কিউটিভি/সাজু/১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং/সকাল ৯:৩৬

শেয়ার করুন