অনৈতিক সম্পর্কের প্ররোচনায় গৃহবধুর আত্নহত্যা

ডেস্কনিউজঃ গতকাল ৯ ফেব্রুয়ারী উপজেলার বাটিকামারা গ্রামের মৃত মশিউর রহমানের ৩য় কন্যা ও ব্যবসায়ী রাজু আহমেদের স্ত্রী দুই সন্তানের জননী ফাতেমা খাতুন(৩০) হারপিক পান করে আত্মহত্যা করে। মৃত ফাতেমার স্বামী রাজুর অভিযোগ ফাতেমার ছোট বোন কুলসুমের স্বামী প্রতিবেশী মৃত সেলিম মিস্ত্রীর ছেলে সাংবাদিক হাবিব চৌহানের সাথে তার স্ত্রীর দীর্ঘদিন যাবত অনৈতিক সম্পর্ক চলে আসছিল। এই অনৈতিক সম্পর্কের কারনেই হাবিবের প্রথম স্ত্রী এক সন্তানের জননী মনিরা নির্যাতনের শিকার হয় এবং তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর শুধু ফাতেমার সাথে অনৈতিক সম্পর্ক বলবত রাখার উদ্দেশ্যে তার ছোট বোনকে বিয়ে করে হাবিব চৌহান।

তাদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক জানাজানি হয়ে গেলে এলাকায় শালীসি বৈঠক হয়। শালীসি বৈঠকে তাদের উপর কড়া নির্দেশ দেয়া হয় কেউ কারো সাথে যোগাযোগ না রাখার। এবং ফাতেমার মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়া হয়। কিন্তু গোপনে হাবিব ফাতেমাকে ফোন কিনে দেয়। সেই ফোনে কথা বলার সময় রাজু ঠিক পেয়ে কল লিষ্ট চেক করে হাবিবের সাথে কথা বলার সত্যতা জানতে পেরে বকাবকি করে বাড়ি থেকে বের হয়।

এবং তার পরই ফাতেমা শনিবার বেলা ১১ টার সময় হারপিক পান করে। অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে হাবিবের প্রথম স্ত্রী মনিরা খাতুন বলেন হাবিব তার বন্ধু রাজুর স্ত্রীর সাথে দীর্ঘদিন যাবত অনৈতিক সম্পর্ক চর্চা করতো। এই সম্পর্ক নিয়ে প্রতিবাদ করায় তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতো। এক পর্যায়ে তাকে জোড় পূর্বক তালাক নামায় স্বাক্ষর করায়। এবং ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তার ছেলে মুহিতকে সহ বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। এবং দেনমোহর বা খোরপোষের টাকা ব্যতিরেকে। বর্তমানে মনিরা তার পিতার বাড়িতে মানবেতর জীবন যাপন করছে। হাবিব তার ছেলের প্রতিও কোন দায়িত্ব পালন করেনা বলে জানান তিনি।

এদিকে মৃত ফাতেমার ছোট বোন হাবিবের দ্বিতীয় স্ত্রী কুলসুম বলেন মানুষ সব সময় একরকম থাকেনা তার বোনের সাথে এমন সম্পর্ক ছিল এটা সে শুনেছে। তবে তার বোনের মৃত্যুর জন্য যেই দায়ী হোকনা কেন সে তার বিচার দাবী করে। আজ ১০ ফেব্রুয়ারী লাশ পোস্ট মর্টেমের পর বাড়িতে নিয়ে আসলে প্রচুর লোক সমাগম ঘটে। উপস্থিত এলাকাবাসী হাবিবের বিচার দাবী করে। এবং বলে রাজুকে ২০১১ সালে পৌর কাউন্সিলর প্রার্থী হিসাবে হাবিব দাঁড় করায় এবং রাতে রাজুকে বিভিন্ন এলাকায় ভোট চাইতে পাঠিয়ে দিয়ে তার স্ত্রীর সাথে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হতো। তারা আরো জানায় অনেকবার নিষেধ করার পরও হাবিব তাদের কথা শুনতোনা এবং সাংবাদিকতার দাপট দেখাতো। যেকারণে এলাকায় তাদের বিরুদ্ধে শালীসি বৈঠকও হয়। এব্যাপারে হাবিবের সাথে মুঠোফোনে কথা বলতে চাইলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এবং খোঁজ নিয়ে জানা যায় গতকাল থেকে সে পলাতক।

 

কিউটিভি/ রামিম /১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং/সকাল ১০:০৬

শেয়ার করুন