বিষের ‘মধু’ কারা খায়

ডেস্ক নিউজ : বাদামি রঙের কৌটা বা কাচের জার। তার গায়ে লেখা- ‘রেড ড্রাগন কোম্পানি। মেইড ইন ফ্রান্স। কোড নম্বর-৮০৯৭৫। কোবরা। স্নেক পয়জন অব ফ্রান্স।’ সতর্কভাবে ওই জার বা কৌটা হাতবদলের পরামর্শ দেওয়া থাকে গায়ে সাঁটানো লেবেলে। সাপের বিষ দাবি করে চটকদার আরও অনেক কথাই জারের ওপর লেখা থাকে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কথিত বিষের জারসহ চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করে গণমাধ্যমের সামনে হাজির হচ্ছে প্রায়ই। এরপর পুলিশ-র‌্যাব বা সিআইডি দাবি করছে, সাপের বিষ পাচারের সঙ্গে সংশ্নিষ্টরা আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্রের সদস্য। এসব জারে কোটি কোটি টাকার বিষ রয়েছে। এরপর গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলাও করা হয়।

তবে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে- সাপের বিষ বিক্রির চেষ্টা, অভিযানে বিষ জব্দ, চক্রের সদস্য গ্রেপ্তার ও পরবর্তী সময়ে মামলা করার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে প্রতারণা, কারসাজি আর জালিয়াতি। বিষের নামে ভুয়া বস্তু জব্দ দেখিয়ে অনেকে ‘সোর্স মানি’র অর্থ হালাল করছেন- আছে এমন অভিযোগও। আসলে বিষের ‘মধু’ কারা খাচ্ছে, সেটাই দেখার বিষয়।

প্রথমত, কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই জব্দ করা বস্তুকে সাপের বিষ হিসেবে ঘোষণা দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গণমাধ্যমে তা ফলাও করে প্রকাশ-প্রচারও হয়ে থাকে। পরে ল্যাব টেস্টে দেখা যায়, জব্দ করা জারে যা ছিল, তা সাপের বিষ নয়। প্রতারক চক্র তা সাপের বিষ বলে চালানোর চেষ্টা করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ফাঁদ পেতেছিল। যেহেতু পরীক্ষায় সাপের বিষ বলে প্রমাণ মেলেনি, তাই গ্রেপ্তাররা তাদের বিরুদ্ধে করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা থেকে রক্ষা পান। তদন্ত সংস্থা তাদের মামলার চূড়ান্ত রিপোর্ট দিয়ে অভিযোগের দায় থেকে মুক্তির আবেদন করে। এতে সাপের বিষ বলে প্রতারণা করলেও সেই আইনে তাদের সাজার আওতায় আনা যায় না। বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা থেকে রেহাই পাওয়ার পর তারা জামিনে ছাড়া পেয়ে আবার একই অপরাধে জড়াচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ চক্র দেশে প্রতারণার জাল বিছিয়ে বসেছে। তারা রাইস কয়েন, অতি মূল্যবান কষ্টিপাথর, চুম্বক, সীমানা পিলার নিয়ে নানা গল্প তৈরি করে মানুষকে ফাঁদে ফেলছে। একই চক্র সাপের বিষ নিয়েও প্রতারণা করে আসছে। অধিক মুনাফার লোভে যারা প্রতারকদের কাছ থেকে কথিত বিষ কিনছেন, তারা পরে বিপাকে পড়ছেন। আসলে সাপের বিষের কোনো ক্রেতা দেশে নেই। আবার অনেক সময় প্রতারক চক্রের সদস্যরা ভাগ করে ক্রেতা-বিক্রেতা সেজে দরদাম করে টার্গেট ব্যক্তির কাছে সাপের বিষের গুরুত্ব বোঝানোর চেষ্টাও চালান।

গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে প্রায় ৯ কোটি টাকার সাপের বিষসহ দু’জনকে গ্রেপ্তারের দাবি করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এরই মধ্যে সিআইডির ল্যাবে পরীক্ষার পর বেরিয়ে এসেছে, জব্দ করা আলামত সাপের বিষ ছিল না। সর্বশেষ ৮ জানুয়ারি রামপুরার চৌধুরীপাড়ায় অভিযান চালিয়ে ৮৫ কোটি টাকার সাপের বিষসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় র‌্যাব-১২। এর আগে গত ২৪ ডিসেম্বর রাজধানীর দক্ষিণখানের গুলবার মুন্সি সরণি এলাকায় কয়েকজনকে আটক করে র‌্যাব-২। তাদের সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে ভেতরে পাওয়া যায় কাচের জারে রাখা বিষ। র‌্যাব দাবি করে, জব্দ করা সাপের বিষের দাম আনুমানিক ৭৫ কোটি টাকা। কাচের জারসহ বিষের ওজন ৮ দশমিক ৯৬ কেজি। তবে এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত-সংশ্নিষ্টরা সমকালকে ইঙ্গিত দিয়েছেন- জব্দ করা আলামত সাপের বিষ নয়, এটা মোটামুটি নিশ্চিত। এর আগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে জব্দ একাধিক আলামতের ল্যাব পরীক্ষায় দেখা যায়, সেখানে বিন্দুমাত্র সাপের বিষ ছিল না।

এখন প্রশ্ন উঠেছে, বারবার যেখানে প্রমাণ মিলছে সাপের বিষ বলে যা দাবি করা হচ্ছে তা আসলে সাপের বিষ নয়, তাহলে কেন তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই তা গণমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর উত্তরে জানা গেছে, মূলত চক্রের সদস্যদের মুখের বয়ানের ওপর ভিত্তি করেই সাপের বিষ ও তার দাম সম্পর্কে ‘সুনির্দিষ্ট’ বক্তব্য দিচ্ছেন সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা। প্রতারকদের ব্যাপারে ভালোভাবে যাচাই-বাছাই না করেই আন্তর্জাতিক পাচারকারী বলে ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মাহবুব আলম সমকালকে বলেন, সাপের বিষ বলে যা জব্দ হচ্ছে, তা আসলে বিষ নয়। পরীক্ষার পর দেখা যায়, বিষ বলে যা দাবি করা হয়েছিল, তা ভুয়া। যেটা দরকার তা হলো সাপের বিষ জাতীয় কিছু জব্দের পর জিডি করে আগে তা পরীক্ষা করে সত্যাসত্য যাচাই করা। যদি প্রমাণ হয় সাপের বিষ, তাহলে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হবে। আর যদি ভুল প্রমাণিত হয়, সে ক্ষেত্রে প্রতারণার মামলা হবে। এখন শুরুতেই চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা এবং আলামত পরীক্ষার পর তা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় ওই মামলা থেকে তারা ছাড়া পেয়ে যান। প্রতারণার জন্য তাদের শাস্তি দেওয়া যায় না।

সাপে কাটা রোগীর জন্য প্রতিষেধক তৈরির উদ্দেশ্যে ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ‘ভেনম রিসার্চ সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেখানকার গবেষকরাও সাপ এবং সাপের বিষ নিয়ে কাজ করছেন। ওই সেন্টারের সহকারী গবেষক ইব্রাহিম আল হায়দার সমকালকে বলেন, বর্তমানে তাদের গবেষণাগারে ১০ প্রজাতির বিষধর সাপ রয়েছে। গবেষণার জন্য তারা দুই পদ্ধতিতে সাপের বিষ সংগ্রহ করেন। বর্তমানে সাপে দংশন করা রোগীর চিকিৎসার ওষুধ ভারত থেকে এনে দেশীয় একটি কোম্পানি বাজারজাত করছে। ভেনম সেন্টারের মাধ্যমে তারা চেষ্টা চালাচ্ছেন, কীভাবে দেশের পরিবেশ, সাপের প্রজাতি বিবেচনায় সাপের ওষুধের চিকিৎসায় ব্যবহূত অ্যান্টি-ভেনমকে আরও বেশি কার্যকর করা যায়।

তার ভাষ্য, সাপের বিষের নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যা জব্দ করছে, তা ভুয়া। সাপের বিষ বলে ঘোষণা দেওয়ার আগে এক মিলিগ্রাম পানির সঙ্গে এক গ্রাম সাপের বিষ মিশিয়ে ইঁদুর বা ছোট কোনো প্রাণীর মধ্যে প্রয়োগ করলে সেটি যদি মারা যায়, তাহলে নিশ্চিত হওয়া যায় সেখানে বিষ রয়েছে। অন্যথায় বিষ বলে প্রচার-প্রকাশ থেকে বিরত থাকা যায়।

কথিত সাপের বিষ বলে কোনো চক্র গ্রেপ্তারের পর অধিকাংশ সময় তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কাছে দাবি করেন, সাপের বিষ অনেক দামি। দেশি-বিদেশি ওষুধ কোম্পানির কাছে এর ব্যাপক কদর রয়েছে। সত্যিকারের সাপের বিষ প্রমাণে প্রতারক চক্র নানা কৌশলও নেয়। বিক্রির জন্য টার্গেট করা ব্যক্তির কাছে তারা বলে, ফ্রান্সের তৈরি একটি পিস্তল রয়েছে। সেই পিস্তল দিয়ে সাপের বিষের জারে ফায়ার করলে তা ফাটবে না। বিষ নকল হলে ফেটে যাবে। প্রকৃত বিষ স্বচ্ছ কাচের জারে রাখার পর এর ওপর লেজার লাইট ধরলে এক পাশ থেকে অন্য পাশে যাবে না। সাপের বিষ নিয়ে তৈরি বিভিন্ন বইও তারা দেখায়।

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক সমকালকে বলেন, বাংলাদেশে একটিও প্রতিষ্ঠান নেই, যারা সাপের বিষ ব্যবহার করে ওষুধ তৈরি করছে। গোটা দুনিয়ায় দু-একটি প্রতিষ্ঠান পাওয়া যাবে, যারা সাপের বিষ দিয়ে ওষুধ বানাচ্ছে। একসময় চীনে সাপের বিষ নেশাজাতীয় সামগ্রী হিসেবে ব্যবহার করা হতো। সাপের বিষ পাতলা করে শরীরে নিত তারা। আমাদের কাছে বিভিন্ন সময় অনেকে সাপের বিষ কিনা, তা পরীক্ষার জন্য নিয়ে এসেছিলেন। কথাবার্তা শুনেই মনে হতো এসব লোকঠকানো কারবার। তবে সাপের বিষের আড়ালে নেশাজাতীয় অন্য কিছু রয়েছে কিনা, তা আরও যাচাইয়ের পরামর্শ তার।

গত বছরের নভেম্বরে সিআইডি আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে ৯ কোটি টাকার সাপের বিষ জব্দ করার কথা দাবি করে। সিআইডি জানায়, ১৭ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের বাসন এলাকা থেকে সাপের বিষ পাচারকারী চক্রের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একটি পোশাক কারখানার অফিসকক্ষে তল্লাশি চালিয়ে তিনটি কাচের পাত্রে ‘মেইড ইন ফ্রান্স’ ও ‘কোবরা স্নেক পয়জন’ লেখা ১৬৩ গ্রাম সাপের বিষ জব্দ করা হয়। যার দাম আনুমানিক ১০ লাখ টাকা। গ্রেপ্তার তিনজন দেশ ও দেশের বাইরে সাপের বিষ কেনাবেচার কথা স্বীকার করেছেন বলেও জানায় সিআইডি। পরে ওই মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্যে ২৫ নভেম্বর গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে আরও দু’জনকে সাপের বিষসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

তবে এ ব্যাপারে পরবর্তী সময়ে জানতে চাইলে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক সমকালকে বলেন, প্রথম অভিযানে উদ্ধার করা নমুনা পরীক্ষায় দেখা যায়, সেগুলো সাপের বিষ নয়। পরের অভিযানের নমুনা এখনও পরীক্ষা করা হয়নি। তবে উদ্ধার করা বস্তু সাপের বিষ না হলেও জড়িতরা অপরাধ করেছেন। তারা ওই বস্তুকে সাপের বিষ বলে বিক্রি করে লোকজনের সঙ্গে প্রতারণা করছিলেন। এ অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে ২০১৭ সালের এপ্রিলে রাজধানীর কুড়িল থেকে কথিত সাপের বিষসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। তবে ফরেনসিক পরীক্ষায় দেখা যায়, কাচের জারে রাখা সেই বস্তুগুলোর কোনোটি মধু, কোনোটি তুঁত, আবার কোনোটিতে ছিল চক পাউডার! একই বছরের অক্টোবরে উত্তরা এবং মার্চে ধানমন্ডি এলাকা থেকে আরও দুই দফায় সাপের বিষ উদ্ধারের দাবি করে ডিবি। ল্যাবরেটরির পরীক্ষায় সেগুলোতেও বিষের অস্তিত্ব মেলেনি।

এদিকে, উদ্ধার করা বস্তু সাপের বিষ কিনা সেই পরীক্ষার ফল পেতে সাধারণত দীর্ঘ সময় লেগে যায়। ফলে তদন্তও কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। গত বছরের ৯ জুন নোয়াখালী-ফেনী মহাসড়কের দক্ষিণ কাশিমপুর থেকে দুই পাউন্ড সাপের বিষসহ এক ব্যক্তিকে আটক করে র‌্যাব। জব্দ করা সাপের বিষের দাম প্রায় ১৬ কোটি টাকা বলে জানানো হয়। তবে তা আসলেই বিষ কিনা, তা সাত মাসেও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

র‌্যাব-৭-এর ফেনী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার এএসপি জুনায়েদ জাহিদ সমকালকে বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। ল্যাবরেটরি পরীক্ষার ফল এখনও পাওয়া যায়নি। এর আগে ২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর দিনাজপুরের উপশহর এলাকা থেকে ৫০ কোটি টাকার সাপের বিষ উদ্ধারের কথা জানায় র‌্যাব-১৩। বিষগুলো দানাদার, পাউডার ও তরল আকারে পাওয়া যায়। অভিযানে রুহুল আমিন নামের এক পল্লিচিকিৎসককে আটক করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে দেশে সাপের বিষ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গত বছরের ডিসেম্বরে রাজধানীর দক্ষিণখানের গুলবার মুন্সি সরণি এলাকায় কয়েকজনকে আটক করে র‌্যাব-২। এ-সংক্রান্ত মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণখান থানার এসআই সাইফুল ইসলাম সমকালকে বলেন, মামলার এক নম্বর আসামি মাসুদ পেশায় রিকশাচালক। তিনি দক্ষিণখানের জামতলা এলাকার জনৈক রিপনের বাসায় ভাড়ায় থাকেন। তার বাসাতেই অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করা হয়। বাকিরা সবাই শ্রমজীবী। কেউ ইট ভাঙেন, কেউ মাইক্রোবাসের চালক। তাদের মধ্যে মাসুদ ও তার শাশুড়ি শুধু জব্দ করা কাচের জারের বিষয়ে জানেন। তবে তারা এটা জানতেন না যে জারের ভেতর কী রয়েছে। তোফায়েল নামের একজন মাসুদকে জারগুলো রাখতে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এগুলো অনেক দামি জিনিস। কোটি কোটি টাকায় বিক্রি হবে। আর বিক্রি হলে মাসুদকে এক কোটি টাকা দেওয়া হবে। সেই প্রলোভনে পড়ে মাসুদ জারগুলো রাখেন।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে। জারের পদার্থগুলো আসলেই সাপের বিষ হলে গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হবে। নইলে ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়া হবে আদালতে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো সাপের বিষ নয়। কারণ, সত্যিই সাপের বিষ হলে তার দাম কোটি টাকা। আর এত দামি জিনিস এমন সাধারণ মানুষের কাছে দেওয়ার ঝুঁকি চোরাকারবারিরা নেবে না। সম্ভবত সাপের বিষ বলে এগুলো কারও কাছে বিক্রি করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মতলব ছিল। সে ক্ষেত্রে পলাতক তোফায়েলকে ধরতে পারলে অনেক তথ্য পাওয়া যাবে। তবে তার কোনো ঠিকানা পাওয়া যায়নি।

র‌্যাব-২-এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এএসপি আবদুল্লাহ আল মামুন সমকালকে বলেন, গ্রেপ্তারের পর আসামিদের বক্তব্য, জব্দ করা ম্যানুয়াল, ডিভিডিসহ সার্বিক বিচারে প্রাথমিকভাবে জারের তরল বস্তুকে সাপের বিষ বলেই মনে হয়েছে। তবে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করা হবে। তাতেই প্রমাণ হবে জব্দ করা বস্তু আসলে কী।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজির অধ্যাপক আবু রেজা সাপের বিষ নিয়ে গবেষণা করেন। তিনি সমকালকে বলেন, পরীক্ষা ছাড়া বলার সুযোগ নেই যে, জব্দ করা পদার্থ সাপের বিষ কিনা। তিন বছর আগে একবার চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমার কাছে নমুনা পাঠানো হয়। সেগুলোর পাত্রের গায়েও ‘মেইড ইন ফ্রান্স’ ও ‘কোবরা ভেনম’ বা ‘কোবরা স্নেক পয়জন’ লেখা ছিল। কিন্তু পরীক্ষায় দেখা যায়, সেগুলো সাপের বিষ নয়। আমার জানামতে, দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার দুটি প্রতিষ্ঠান সাপের বিষ বাজারজাত করে। আর ফ্রান্স এমন কিছু তৈরি করে না।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন কর্মকর্তা জানান, একবার কষ্টিপাথর ও সাপের বিষ জব্দ করার পর একজন মাঠ পর্যায়ের সদস্য তার কাছে সোর্স মানি চান। তখন তিনি ওই কর্মকর্তাকে বলেন, যা জব্দ করা হয়েছে, তা ওই সোর্সকে দিয়ে দাও। পরে সোর্স সেই সাপের বিষ ও কষ্টিপাথর নিতে রাজি হননি। কারণ ওই সোর্সও জানতেন, সত্যিকার অর্থে এর কোনো বাজারমূল্য নেই। পুরোটাই প্রতারণা।

সূত্র-সমকাল

 

 

 

কিউটিভি/রেশমা/১৩ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ/দুপুর ১২:২৮

শেয়ার করুন