নববধূকে শিকলে বেঁধে গোপনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া

ডেস্কনিউজঃ কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে এক নববধূকে পিটিয়ে ও শিকলে বেঁধে গোপনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া দিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার উপজেলার উত্তর গোবিন্দপুরে এ ঘটনা ঘটে।

ওই গৃহবধূর নাম লাইলী আক্তার। মারধরের পর মেয়েটিকে বাড়িতে আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে শুক্রবার বিকেলে নববধূর স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

জানা যায়, মাত্র চার মাস আগে গোবিন্দপুরের মৃত আবুল কাশেমের মেয়ে লাইলী আক্তারের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার সিংরইল ইউনিয়নের কচুরি গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে ব্যবসায়ী মো. মিজানুর রহমানের বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক দিন যেতে না যেতেই মোটা অংকের যৌতুকের টাকার জন্য লাইলীর ওপর অত্যাচার-নির্যাতন শুরু হয়। বাবা হারা লাইলীর সুখের জন্য স্বামী মিজানের হাতে তিন দফায় এক লাখ টাকা তুলে দেন লাইলীর দরিদ্র ভাই আলামিন। এরপর বৃহস্পতিবার রাতে আবারও বাবার বাড়ি থেকে চার লাখ টাকা এনে দেয়ার কথা বলে মিজান। তর্কাতর্কির একপর্যায়ে মিজান ও তার মা মিলে লাইলীকে পিটিয়ে আহত করে। একপর্যায়ে শিকলে বেঁধে তার গোপানাঙ্গে মরিচের গুঁড়া দিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়।

কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সজীব ঘোষ জানান, লাইলীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

লাইলী আক্তারের বড় ভাই আলামিন জানান, তিনি ঢাকায় ফেরি করে মাছ বিক্রি করেন। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

হোসেনপুর থানার ওসি মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গৃহবধূর ভাই আলামিন বাদী হয়ে শনিবার সকালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

 

বিপুল/২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং/রাত ৯:৫৭

শেয়ার করুন